Business News

Displaying 161-170 of 170 results.

বাংলা-রুশ বাণিজ্য দ্রুত শতকোটি ডলারে উঠবে

 বাংলা-রুশ বাণিজ্য দ্রুত শতকোটি ডলারে উঠবে

রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দ্রুত ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। খবর ইউএনবির।
বাংলাদেশ সফররত রুশ বাণিজ্য প্রতিনিধিদল গত মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র ৫৪ কোটি ডলার। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে ৩৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে দেশটিতে ২০ কোটি ৮৩ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে।
সভায় এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি ব্যাংকিং লেনদেন কার্যক্রম চালু করা গেলে ও অধিকতর বাজার-সুবিধা পাওয়া গেলে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে। বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মাত্র ৪৮টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে থাকে।
সভায় বলা হয়, এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাট ও পাটজাত পণ্য, চিংড়ি, চা ইত্যাদি। তবে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিমুখী পণ্য তৈরি পোশাক এখনো এই সুবিধা পায়নি।
এফবিসিসিআয়ের সভাপতি কাজী আকরামউদ্দিন আহ্মদের সভাপতিত্বে বৈঠকে রুশ ফেডারেশনের শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী ওয়াই স্লাইউসার, বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার এ নিকোলেভ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নভেম্বর থেকে কারখানা পরিদর্শন শুরু করবে ইইউ ক্রেতাদের জোট

 নভেম্বর থেকে কারখানা পরিদর্শন শুরু করবে ইইউ ক্রেতাদের জোট

বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানা ও শ্রমিকদের মানোন্নয়নে গঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার এন্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ নভেম্বরের শুরু থেকে কারখানা পরিদর্শন শুরু করবে। এই পরিদর্শনে তাদের প্রায় এক বছর সময় লাগবে। পরিদর্শনের জন্য অভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী তারা। তবে এ জন্য তাদের একটি গাইডলাইন বা দিকনিদের্শনা সরকার ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কাছে চলতি মাসেই জমা দেবে। এটি অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত হবে এবং নভেম্বর থেকে পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হবে। গতকাল অ্যাকর্ড এর একটি প্রতিনিধি দল বিজিএমইএ'র নেতাদের সাথে এক বৈঠককালে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বৈঠক শেষে বিজিএমইএ'র সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি জানান, অ্যাকর্ড এ প্রক্রিয়ায় ১ হাজার ৮০০ গার্মেন্টস কারখানা পরিদর্শন করবে। এর আগে ১ হাজার ৫শ' কারখানা ৯ মাসের মধ্যে পরিদর্শন করার কথা ছিল। কিন্তু কারখানার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিদর্শনের সময়ও তিন মাস বাড়িয়ে এক বছর করা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অ্যাকর্ড এর প্রতিনিধি রসি হার্স্ট, সিয়ার অ্যানসেল্ফ, সেলিমা আখতার, ফিলিপ চেম্বারলিন। এছাড়া বিজিএমইএ'র সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সহসভাপতি এস এম মান্নান কচি প্রমুখ। কারখানার মানোন্নয়ন নিয়ে অ্যাকর্ড এর এই প্রতিনিধিদল বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছেন।

সোনার দাম কমছে কাল

 সোনার দাম কমছে কাল

আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের কারণে দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এর ফলে প্রতি ভরি ভালো মানের সোনার দাম সর্বোচ্চ এক হাজার ১৬৬ টাকা পর্যন্ত কমছে। প্রতি ভরি সোনার দাম হচ্ছে ৪৯ হাজার ৫৭২ টাকা।
দাম কমানোর সিদ্ধান্তটি কাল শনিবার থেকে কার্যকর হবে। বাজুসের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সম্মতিক্রমে গতকাল বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত হয়। আজ শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা জানায় জুয়েলার্স সমিতি।
আন্তর্জাতিক বাজারে অব্যাহতভাবে দরপতনের কারণে গত এপ্রিল ও মে মাসে এক দফা করে এবং জুন মাসে দুই দফা সোনার দাম কমায় বাজুস। পরে আবার আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে গত আগস্ট মাসে দুই দফা সোনার দাম বৃদ্ধি করে জুয়েলার্স সমিতি। সর্বশেষ ১৮ আগস্ট ভরিতে এক হাজার ১৬৬ টাকা দাম বাড়ে। আজ থেকে দাম কমায় প্রকৃতপক্ষে গত মাসের দরেই ফিরে যাচ্ছে সোনার দাম।
নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ভালো মানের অর্থাত্ ২২ ক্যারেট সোনা ৪৯ হাজার ৫৭২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪৭ হাজার ৩৫৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম পড়বে ৪০ হাজার ৫৯০ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি হবে ২৮ হাজার ৩৪৩ টাকা। পাশাপাশি প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট (ক্যাডমিয়াম) রুপার দাম কমে হবে এক হাজার ২৮৬ টাকা।
এদিকে গতকাল পর্যন্ত ২২ ক্যারেট সোনা ৫০ হাজার ৭৩৮ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪৮ হাজার ৪৬৩ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ছিল ৪১ হাজার ৫২৩ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ছিল ২৯ হাজার ১৬০ টাকা। আজ থেকে সোনার দাম কমার ফলে ভরি প্রতি ২২ ক্যারেটের সোনার দাম আগের চেয়ে এক হাজার ১৬৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের দাম এক হাজার ১০৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৯৩৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরিতে দাম কমবে ৮১৭ টাকা। আর রুপার দাম ভরিতে কমবে ১৬৬ টাকা।
বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আমিনুল ইসলাম প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর স্থিতিশীল হচ্ছে না। প্রতিদিনই বাড়ছে-কমছে। বেশ কিছুদিন ধরেই আমরা বাজারটি পর্যবেক্ষণ করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত এক মাসে প্রতি আউন্স সোনার দর এক হাজার ৩৪০ ডলার থেকে কমে হয়েছে এক হাজার ৩১০ বা এক হাজার ৩১৫ ডলার। তাই আমরা দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সংশোধিত বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসবে এনার্জিপ্যাক

 সংবাদ  সংশোধিত বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসবে এনার্জিপ্যাক

সংশোধিত বুক বিল্ডিং বা নিলাম পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করেছে জ্বালানি খাতের কোম্পানি এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন। এই পদ্ধতিতে কোম্পানিটিকে বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস। সংশোধিত আইনে এটি দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে বাজারে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
কোম্পানিটির শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের জন্য রোড শো বা পরিচিতি সভা আহ্বান করা হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। তাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সামনে কোম্পানির বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন ও এ-সংক্রান্ত জিজ্ঞাসার উত্তর দেওয়া হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরবর্তীতে নির্দেশক মূল্য ঠিক করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিলাম পদ্ধতিতে কোম্পানিটি চার কোটি ৫৪ লাখ শেয়ার বাজারে ছাড়বে। নিয়ম অনুযায়ী, উল্লিখিত শেয়ারের ৪০ শতাংশ দর প্রস্তাবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ৬০ শতাংশ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওতে বিক্রি করা হবে।
জানা গেছে, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ার ছাড়ার আগে মূলধন বাড়াতে কোম্পানিটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রায় দুই কোটি ৭৪ লাখ শেয়ার বিক্রি করেছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের (ফেসভ্যালু) সঙ্গে ৩৪ টাকা অধিমূল্য বা প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল ৪৪ টাকা।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠিত হওয়ার পর বুক বিল্ডিং-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করে। এই সংশোধনীর পর এখন পর্যন্ত এই পদ্ধতিতে একটি মাত্র কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আবেদন করেছে। কোম্পানিটি হলো ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। এটি এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস কোম্পানিটির শেয়ারের ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছে।
২০১০ সালে পুঁজিবাজার ধসের আগে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে শেয়ার ছাড়ার হিড়িক পড়ে। সে সময় এই পদ্ধতিটির ব্যাপক অপব্যবহার করা হয়। ফলে ২০১১ সালের ২০ জানুয়ারি এই পদ্ধতিটি স্থগিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে পুনর্গঠিত কমিশন সংশ্লিষ্ট আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে বেশ কিছু ধারা সংযোজন এবং স্থগিতাদেশ তুলে নেয়। এতে করে অনেক কোম্পানি এই পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ হারায়।

শেয়ারবাজারে আবার বড় ধরনের দরপতন



শেয়ারবাজারে আবার বড় ধরনের দরপতন

দেশের শেয়ারবাজারে গতকাল রোববার আবার বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। ধারাবাহিক দরপতনের ফলে গত দুই মাসের ব্যবধানে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক কমেছে ৯১১ পয়েন্ট। গত ২৪ জুলাই ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ছিল ছয় হাজার ৭১১ পয়েন্ট। গতকাল সেটি নেমে এসেছে পাঁচ হাজার ৮০০ পয়েন্টে।
দরপতনের পাশাপাশি লেনদেনের মন্দা যেন শেয়ারবাজারের পিছু ছাড়ছে না। চলতি বছরের ২৪ জুলাই ঢাকার বাজারে এক হাজার ৯৫৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর এখন তা নেমে এসেছে ৪০০ কোটি টাকার নিচে। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে ঢাকার বাজারে লেনদেন কমেছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।
প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে মূল্য বৃদ্ধি দিয়েই গতকাল নতুন সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের লেনদেন শুরু হয়। প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যেই সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১০ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৯৭৭ পয়েন্টে ওঠে। এর পরই শুরু হয় টানা পতন, যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বা ১৬৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৮০০ পয়েন্টে। গত প্রায় তিন মাসের ব্যবধানে এটিই ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে চলতি বছরের ২১ জুন ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক সর্বশেষ পাঁচ হাজার ৭৪৫ পয়েন্টের সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। ঢাকার বাজারে গতকাল লেনদেন হওয়া ২৫৯টি কোম্পানির মধ্যে ২৪২টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ১৪টির।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক রোববার প্রায় ৪৫৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৪২৮ পয়েন্টে। চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেন হওয়া ১৮৯টি কোম্পানির মধ্যে ১৭৯টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে আটটির।
দরপতন ঘটলেও ঢাকার বাজারে লেনদেন আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯৬ কোটি টাকায়। আর সিএসইতে ১৬ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ৫৩ কোটি টাকা।
ক্রমশ শেয়ারের দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ করে চলেছেন। গতকালও তাঁদের বিক্ষোভের কারণে মতিঝিলের স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে বিভিন্ন সময় গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকছে।
এদিকে অব্যাহত দরপতন ঠেকাতে গত সপ্তাহে এসইসিসহ বাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ নানামুখী উদ্যোগ নেয়। তার পরও বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসেনি বলে মনে করা হচ্ছে। আস্থার সংকটে ভুগতে থাকা বিনিয়োগকারীরা গতকাল আরেকটি বড় পতন চোখে দেখেছেন।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজারের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস অনেক কমে গেছে। এ অবস্থায় বাজারের উন্নয়নে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
তারল্য-সংকটই এই দরপতন ও লেনদেন কমে যাওয়ার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা বলছেন, তারল্য-সংকটের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এর ফলে একদিকে বাজারে প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নেই, আরেক দিকে আগের মতো ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে চাহিদামাফিক ঋণের জোগান দিতে পারছে না। বরং প্রতিদিন শেয়ারের দরপতন ঘটতে থাকায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর ঋণ সমন্বয়ের চাপ বাড়ছে। সে সঙ্গে ঋণের সুদের চাপ তো রয়েছেই। এ কারণে অনেক বিনিয়োগকারী ঋণ সমন্বয় করতে গিয়ে লোকসানে শেয়ার বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বাজারের এই সংকট দূর করতে নিজস্ব তহবিল গঠনের সুযোগ চেয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। এসইসি তাদের সেই দাবি পূরণের আশ্বাসও দিয়েছে।
ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একক গ্রাহকের ঋণসীমা (সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার লিমিট) সমন্বয়ের সময় বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আদেশ জারি করা হলে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাঁরা বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
বিএমবিএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি একক গ্রাহক ঋণসীমা সমন্বয়ের সময় পুনর্নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে তাদের বিনিয়োগে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

তারিখ: ১৯-০৯-২০১১

৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশজুড়ে আতঙ্ক : দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাত্রা ও দীর্ঘস্থায়ী কম্পন : ভারত ও নেপালে ১২ জন নিহত

৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশজুড়ে আতঙ্ক : দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাত্রা ও দীর্ঘস্থায়ী কম্পন : ভারত ও নেপালে ১২ জন নিহত

 

প্রচণ্ড ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশ। গতকাল সন্ধ্যায় রিখটার স্কেলের ৬.৮ মাত্রার এই ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় আতঙ্ক। দেশের ৬১ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাত্রা ও দীর্ঘস্থায়ী এ ভূ-কম্পনে বিভিন্ন স্থানে হেলে পড়েছে দালান, দেখা দিয়েছে ফাটল। ভূমিকম্পের সময় নগরীর বহুতল ভবন দুলতে থাকলে আতঙ্কগ্রস্ত লোকজন সিঁড়ি বেয়ে রাস্তায় নেমে আসে। হুড়োহুড়িতে ঢাকায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।
আমেরিকান জিওলজিক্যাল সার্ভের উদ্ধৃতি দিয়ে আবহাওয়া অফিস জানায়, ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল ছিল সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক থেকে ৬৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। স্থানটি সিকিম ও নেপাল সীমান্তে অবস্থিত। এই ভূমিকম্পে বাংলাদেশের বাইরে ভারতে ৭ জন এবং নেপালে ৫ জনসহ মোট ১২ জন নিহত হয়েছে। সিকিমে ৪ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছে। বিহারে ৭ বছরের একটি মেয়েসহ দু’জন মারা গেছে। পশ্চিমবঙ্গে মারা গেছে একজন। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় এবং ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি, লক্ষেষ্টৗ, কলকাতা, জয়পুর, ঝাড়খণ্ড, গোহাটি, পাটনাসহ বেশ কিছু জায়গায় এ ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পে নেপালে ৫ জনের মধ্যে ৩ জন মারা গেছে রাজধানী কাঠমান্ডুতেই। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে অনেক দালান ও বহুতল ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া গ্যাংটক ও দার্জিলিংয়ে কোনো বিদ্যুত্ নেই। সিকিমের কিছু অংশে টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এছাড়া ভূমিকম্পের পর পশ্চিমবঙ্গে ফোন লাইনে ব্যাপক জ্যাম তৈরি হয়। ভারতীয় বিমানবাহিনীর পাঁচটি বিমান এবং সেনাবাহিনীর একটি টিম উদ্ধার তত্পরতা চালাতে সেখানে গেছে।
ঢাকার কারওয়ানবাজারে বিএসইসি ভবনের ১১ তলায় দৈনিক আমার দেশ অফিসে গতকাল সন্ধ্যায় ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতাটি কেমন ছিল— প্রথমে ভাবলাম মাথা ঘোরাচ্ছে। মুহূর্তেই দেখি চেয়ার-টেবিলসহ পুরো ভবন দুলছে। যেন নৌকায় বসে কেউ দোলা দিচ্ছে। সহকর্মীরা দৌড়ে যাচ্ছেন সিঁড়ি দিয়ে নিচে। সবাই কিংকর্তব্যবিমূঢ়, আতঙ্কিত। প্রায় দুই মিনিট ধরে যেন মৃত্যু বা বড় বিপর্যয়ে পড়তে যাচ্ছে। সবাই আল্লাহকে ডাকছেন। মোবাইলে খোঁজ নিচ্ছেন যার যার বাসায় এবং স্বজনদের। এরই মধ্যে ফোনের নেটওয়ার্কে জ্যাম। প্রায় কলাপস। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলো। যেন নতুন করে জীবন ফিরে পেলাম। এমন অবস্থা শুধু আমার দেশ অফিসেই নয়, রাজধানীসহ সারাদেশের সর্বত্রই। সারাদেশের মানুষের একই প্রতিক্রিয়া—এত দীর্ঘস্থায়ী ভূমিকম্প কখনও অনুভূত হয়নি। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, বিগত ৬১ বছরের মধ্যে গতকালের ভূমিকম্পটি ছিল সবচেয়ে বড় মাপের। তবে ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ঢাকা থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় এ যাত্রায় বড় ধরনের ধ্বংসলীলা থেকে বেঁচে গেল বাংলাদেশ।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিট থেকে ৪৪ মিনিট পর্যন্ত ভূমিকম্পটি ২ মিনিট স্থায়ী হয়। ওই সময় ঘটে যায় ঢাকার ইতিহাসে প্রায় ৬১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প। ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পটির রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৮। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে ১১৯ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিম, নেপালের কাঠমান্ডু থেকে ২৭২ কিলোমিটার পূর্বে এবং কলকাতা থেকে ৫৭২ কিলোমিটার উত্তরে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি কম্পন অনুভূত হয় বৃহত্তর দিনাজপুর, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধা এলাকায়।
গত সন্ধ্যার ভূমিকম্পের ফলে রাজধানী ঢাকার বড় ভবনগুলো হঠাত্ করে দুলে ওঠে। এ সময় বহুতল ভবনে থাকা মানুষ সিঁড়ি বেয়ে দৌড়ে নিচে নামে। কে কার আগে কত দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নামতে পারে—প্রাণ বাঁচানোর এই প্রতিযোগিতায় নামে সবাই। হুড়োহুড়ি করতে গিয়ে অনেকে পড়ে গিয়ে কম-বেশি আহত হয়েছেন। বহুতল ভবনে লিফটে থাকা মানুষ আতঙ্কে চিত্কার শুরু করেন। দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় এক নজিরবিহীন ভীতিকর পরিস্থিতি।
ভূমিকম্পে ঢাকার মহাখালীতে বৈশাখী টেলিভিশন চ্যানেলের ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। মোহাম্মদপুর ৯/১৪, ইকবাল রোডের ‘সনরিসা ডোমিনোর একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের নিচের পিলারে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। ঝিগাতলায় ১১ তলা একটি ভবন ও বড় মগবাজারের গ্র্যান্ড প্লাজা ও কুশল ভবনসহ নগরীতে বেশক’টি ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। লালবাগের পোস্তায় কাজী রিয়াজ উদ্দিন রোডের ২৭/১/এ বাড়ির ছয়তলা ভবন থেকে সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় পিছলে পড়ে যায় নাসরিন (১৪)। এ সময় অন্যদের পায়ে দলিত হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে সে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ তলা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছে এক ছাত্র।
সূত্রাপুরের ২৫ হেমন্ত দাস লেনের বাসিন্দা শাহ মো. আরিফ বিল্লাহ জানান, ভূমিকম্পে সেখানে ২-৩টি ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। বগুড়ায় সাততলা ভবন তৌহিদ প্লাজা ও টাওয়ার ভিশন ভবনসহ ৪টি ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। পাবনা ফায়ার সার্ভিস অফিস, স্থানীয় জীবন কথা অফিস, বেড়া পৌর ভবনসহ অন্তত ১০টি ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। লালমনিরহাটের পাটগ্রামে উপজেলায় রেলওয়ের একতলা ভবন ধসে গেছে। বড়পুকুরিয়া শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক জানান, ভূমিকম্পে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার জিগারবাড়ি গ্রামে ১০টি এবং মৌপুকুর গ্রামে পাঁচটি মাটির ঘর ভেঙে গেছে। দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা থেকে ভূমিকম্পে মানুষ আতঙ্কিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল সিকিমে বেশক’টি ভবন ধসে পড়েছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিদ্যুত্ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে করণীয় নির্ধারণে জরুরি বৈঠকে বসেছেন।
ভূমিকম্পের পর তাত্ক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দফতর জানায়, ভূমিকম্পটির উত্পত্তিস্থলে মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.৮ মাত্রা। এর উত্পত্তিস্থল ভারতের উত্তর-পূর্বে হিমালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের সিকিম এলাকায়। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, উত্পত্তিস্থলে ৬.৮ মাত্রা হলেও বাংলাদেশে অনুভূতির মাত্রা কিছুটা কম হতে পারে।
নগরীর বিভিন্ন বয়সী মানুষ জানায়, তাদের জীবনে কখনও এত বড় ভূমিকম্প দেখেননি। এতে আতঙ্কিতও হয়ে পড়েছেন অনেকে। ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হওয়ার পাশাপাশি সবাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। সবাই ছোটাছুটি শুরু করেন আশ্রয়ের খোঁজে। ভূমিকম্পের এক ঘণ্টা পরও স্থির হতে পারেনি মানুষ। কেমন যেন মাথা ঘোরায় অনেকের। আতঙ্কিত হয়ে ফোন করেন স্বজনের কাছে। সবাই বলেন, এ যাত্রায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এলাম। কারওয়ান বাজার বিএসইসি ভবনের কর্মকর্তা খোন্দকার ফারুক বলেন, মৃত্যু যে এত কাছে, মানুষ যে কত অসহায়—সেটাই বুঝিয়ে দিল ভূমিকম্প।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক আবু নাঈম মো. শহীদুল্লাহ বলেন, এত বড় ভূমিকম্প সহসা হয়নি। ঢাকার কিছু এলাকায় ভবন ধসের খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু সরেজমিনে ফায়ার সার্ভিসের টিম সেগুলো পরীক্ষা করে সত্যতা পায়নি। বগুড়া ও দিনাজপুর অঞ্চলে কিছু ভবন ধসের খবর পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, দেশের কোথাও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছেন।
বাংলাদেশ আর্থ কোয়াক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী আমার দেশকে জানান, বিগত ৬১ বছরের সবচেয়ে বড় মাত্রার ভূমিকম্প ছিল এটি। এর আগে ১৯৫০ সালে আসামে ৮.৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। এরপর বিগত ৬১ বছরে এত বড় ভূমিকম্প বাংলাদেশ ও সীমান্ত এলাকায় হয়নি। তিনি বলেন, ‘এ ভূমিকম্প অনুভূত হয় দুই মিনিটের সামান্য কম সময়ে, যা বিশ্বের যে কোনো বড় ভূমিকম্পের প্রায় কাছাকছি। তিনি বলেন, ‘এর উত্পত্তিস্থল ছিল হিমালয় সংলগ্ন সিকিম। এর মাত্রা ছিল ভয়াবহ; কারণ ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের অনেক ওপরে।’ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আনসারী বলেন, ‘ভূমিকম্পের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি রয়েছে আগামীকাল পর্যন্ত।’
ঢাকা থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরের এই ভূমিকম্প ঢাকায় কেন এত বেশি অনুভূত হয়েছে—এই প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর জানান, মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে একটি ৪.৮ এবং ৬.৮ মাত্রার কম্পন হয়েছে—যা সারা বাংলাদেশে অনুভূত হয়েছে। কম্পনটির লংওয়েভ এসেছে ঢাকায়। যার কারণে এর কম্পন ও অনুভূতি স্বাভাবিক ৬.৮ মাত্রার কম্পনের চেয়ে অনেক বেশি। কম্পনটি ছোট বাড়িগুলোর তুলনায় বহুতল ভবনগুলোতে বেশি কাঁপন অনুভূত হয়েছে। ড. মুনাজ বলেন, এখন আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সাধারণত বড় কম্পনের পর পরবর্তী কম্পনগুলো ছোট হয়। তবে ভূমিকম্প কখন হবে—তা নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক জানান, এ পরিস্থিতিতে দেখা গেছে অনেকেই হুড়োহুড়ি করে নামছেন; এটা উচিত নয়। সবার উচিত নিজ নিজ কক্ষে থাকা। মাথা নিরাপদে রাখা। মাথার ওপর একটা কিছু দিয়ে রাখা। তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্পের ২৪ ঘণ্টা পরও পুনরায় ভূমিকম্প হতে পারে। তাই সতর্ক থাকা উচিত।
আমার দেশের জেলা, উপজেলা প্রতিনিধি ও ব্যুরো অফিস থেকে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া এবং মানুষ আতঙ্কিত হওয়ার খবর পাঠানো হয়েছে।
যশোর অফিস জানায়, যশোর এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এ সময় আতঙ্কে লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তা বা খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসে। তবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। মতিউর রহমান বিমানঘাঁটির আবহাওয়া দফতর থেকে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পের স্থায়িত্বকাল ছিল প্রায় দুই মিনিট। রিখটার স্কেলে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটির উত্পত্তিস্থল ছিল ভারতের সিকিম অঞ্চলে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ভূমিকম্পের পরপর শহরের বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রতিনিধি জানান, ভূমিকম্পের সময়ে হলে থাকা শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে আসেন। রাবি ক্যাম্পাসের দেয়ালের প্রায় ১০ ফুট পরিমাণ ভেঙে পড়েছে ভূমিকম্পের কারণে। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে এর সত্যতা নিরূপণ করা যায়নি।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, শ্রীরামপুর ইউনিয়নে রকিব হোসেন নামে এক যুবক বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। দুই ঘণ্টায়ও তিনি কথা বলতে পারেননি। তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। লালমনিরহাট শহরের গোল্ডেন টাওয়ারের চতুর্থ তলা ও আছির প্লাজার পঞ্চম তলাসহ বেশ কয়েকটি ভবনে ফাটল ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাটগ্রাম থেকে আজিনুর রহমান আজিন জানান, দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ, তিস্তা সেতু, উঁচু দালানসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে পড়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়। দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাইনুদ্দিন মণ্ডল জানান, গত কয়েক বছরেও এ রকম অধিক স্থায়ী ভূকম্পন হয়নি।
শেরপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার সর্বত্র তীব্রমাত্রার ভূমিকম্পন অনুভূত হয়েছে। এতে জেলার সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘর-বাড়ি ছেড়ে দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, দুই দফায় প্রায় চার মিনিট স্থায়ী ছিল এ ভূকম্পন। ভীত সন্ত্রস্ত লোকজন ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে। দোকান পাট থেকে লোকজন বাইরে বেরিয়ে আসেন। বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়। ইসলামবাগের প্রবীণ ব্যক্তি ঈসমাঈল হোসেন (৭০) বলেন, এমন দীর্ঘ সময় ধরে ও প্রচণ্ড ভূকম্পন অনুভব করিনি। অনেক বাসার শোকেসের জিনিসপত্র কম্পনের ফলে পড়ে যায়।
আটোয়ারী উপজেলার ছোটদাপ এলাকার ফজলুল করিমের কন্য তন্নি বেগম (১৭) নামে এক কিশোরী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় নদী ও পুকুরের পানি ওপরে চলে আসে। নারী পুরুষরা আল্লার নাম জপ করতে থাকে। ইসলামবাগের গৃহিণী মমতাজ বেগম বলেন, কাঁপুনিতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো হয়ে যায়। তেঁতুলিয়ার কবীর হোসেন জানান, অনেকের ঘরবাড়ির দেয়ালে ফাটল ধরেছে। গ্রামীণ ফোন কাস্টমার কেয়ারের ওয়াল পড়ে গেছে।
পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের প্রধান মো. তোহিদুল বারী বলেন, পঞ্চগড় অঞ্চল বাংলাদেশের দ্বিতীয় ভূকম্পনপ্রবণ এলাকা। এর আগে এ মাত্রার ভূকম্পন অনুভব করিনি। এর আগে আসামে রিখটার স্কেল ৮ মাত্রার ভুকম্পন ছিল। তখন এ অঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। পঞ্চগড় থেকে দুইশ’ কিলোমিটারের মধ্যে এ ভূকম্পের উত্পত্তিস্থল হওয়ায় পঞ্চগড়ে এমন ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। তেতুলিয়া প্রতিনিধি জানান, ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও গাছপাড়া উপড়ে পড়েছে। তবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় গতকাল রোববার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সন্ধ্যা পৌনে ৭ টার দিকে প্রায় এক মিনিট স্থায়ী এ ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে নগরী ও আশপাশের এলাকা। প্রচণ্ডভাবে দুলে উঠে বহুতল ভবনগুলো। তবে একতলা বা দুইতলা ভবনে ভূমিকম্প তেমন অনুভূত হয়নি। নগরীর চেরাগী পাহাড় এলাকার বাসিন্দারা জানান, সেখানকার ভবনগুলো থেকে আতঙ্কে লোকজন নিচে নেমে আসেন। নগরীর অন্য এলাকাগুলোতেও ছিল একই অবস্থা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, তারা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাননি। তবে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প হয়েছে বলে খবর পেয়েছেন। স্থানীয় লোকজন জানান, তারা প্রায় ১ মিনিট ধরে কম্পন অনুভব করেছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মাঝামাঝি টেকটোনিক প্লেটের অবস্থান এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর আশপাশে একাধিক স্থানে ভূগর্ভে বিপজ্জনক ফাটল সৃষ্টি হওয়ার কারণে এ ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ছোটখাট ভূমিকম্পগুলো বড় ধরনের ভূমিকম্পেরই পূর্বাভাস। ৭ থেকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘটে যেতে পারে মহাবিপর্যয়। এ ধরনের ভূমিকম্প হলে ধসে পড়তে পারে চট্টগ্রামের লক্ষাধিক ভবন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জানান, ইউরেশিয়া ও ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের মাঝে চট্টগ্রামের অবস্থান। প্লেটগুলো ভূ-ত্বকের অভ্যন্তরে সচল হয়ে উঠলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। রিখটার স্কেলে ৭ থেকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হলে প্রচুর ক্ষয়-ক্ষতি হবে, যদি ওই ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল চট্টগ্রামের কাছাকছি এলাকায় হয়।
রাজশাহী অফিস জানায়, সন্ধ্যা ৬টা ৪৩ মিনিটের দিকে পরপর কয়েক দফা ভূকম্পন অনুভূত এবং বাড়িঘর নড়ে উঠে। এতে রাজশাহী মহানগরীর নওদাপাড়া এলাকায় ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ভবনসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু সংখ্যক ভবন-বাড়িঘর ডেবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও কোথাও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। রাজশাহীতে এর স্থায়িত্বকাল ছিল প্রায় ২ মিনিট। বাড়িঘর দুলে উঠলে সবাই বাড়িঘর ও ভবন থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। আতঙ্কিত হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় হৈচৈ করছিল। তথ্য সূত্রে জানা যায়, ভূমিকম্পের উত্পত্তিস্থল ছিল ভারতের সিকিমে এবং এর মাত্রাছিল ৬.৮ রিখটার স্কেল। রাজশাহীতে এর স্থায়িত্বকাল ছিল প্রায় ২মিনিট।
স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ জানান, ভূমিকম্পের কারণে আতঙ্কিত হয়ে শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন ফ্ল্যাটবাড়ির বাসিন্দারা দৌড়ে বাড়ি থেকে নেমে আসেন। ভূমিকম্পের কারণে সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভূমিকম্পে নারায়ণগঞ্জে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আহসানুল কবির।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, জেলা সদরসহ সবকটি উপজেলায় গতকাল রোববার সন্ধ্যায় আকস্মিক মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এ সময় নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরী, মদন, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা উপজেলায় জলকম্পনের সৃষ্টি হয়েছে। শহরের লোকজন বাসা-বাড়ি, দোকানপাট থেকে রাস্তায় নেমে আসেন। সবার মাঝে ভীতির সঞ্চার হয়। ভূমিকম্প চলাকালে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে পড়ে ।
জানা গেছে, গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে আকস্মিক নেত্রকোনা সদর, কলমাকান্দা, দুর্গাপুরসহ ১০টি উপজেলায় এক মিনিটের অধিক সময় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্প চলাকালে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুড়া ইউনিয়নের অর্ধশত কাঁচাবাড়ি বিধ্বস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি ।
নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁ শহরসহ আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্প হয়েছে। শহরের বিদ্যুত্ সরবরাহ কিছুক্ষণের জন্যে বন্ধ করে দেয়া হয়। ভূমিকম্পের সময় একটি স্কুল ভবনসহ কয়েকটি বাড়িতে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলার পোরশা উপজেলা সদরসহ অন্য উপজেলাতেও ভূমিকম্প হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, জেলার সাঘাটা, ফুলছড়ি, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ি, সাদুল্লাপুরসহ ৭ উপজেলায় এই ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। এ সময় শহরের মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বাড়িঘর থেকে লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ইবি প্রতিনিধি জানান, শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। আবাসিক হলগুলো হঠাত্ কেঁপে উঠলে সাদ্দাম হোসেন হলের দক্ষিণ ব্লকের তিনতলা থেকে নুরুল আমিন নামের এক শিক্ষার্থী লাফ দিয়ে পড়ে হাত-পা ভেঙে গেছে। নুরুল আমিন ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। আহত নুরুল আমিনকে ইবি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া আমাদের সিলেট অফিস, বরিশাল অফিস, পাবনা অফিস, ময়মনসিংহ, গোপালগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি, মেহেরপুর, জামালপুর, নীলফামারি, নাটোর প্রতিনিধি, শেরপুরের নলিতাবাড়ি প্রতিনিধি, রপুরের বদরগঞ্জ প্রতিনিধি, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ও মাধবপুর প্রতিনিধি, দািজপুরের বিরামপুর প্রতিনিধি, নাটোরের সিংড়া প্রতিনিধি, মৌলভী বাজারের কমলগঞ্জ প্রতিনিধি, দিনাজপুরের হিলি প্রতিনিধি, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর প্রতিনিধি, রাজবাড়ির গোয়ালন্দ প্রতিধি, নওগাঁওয়ের ধামইরহাট প্রতিনিধি, ভূমিকম্পে আতঙ্ক ও ভয়ভীতির খবর পাঠিয়েছেন।

ঢাকায় কর মেলা শুরু

ঢাকায় কর মেলা শুরু

অর্থনৈতিক রিপোর্টার
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছেন, দেশের রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঘুষ-দুর্নীতি দূর করা দরকার। রাজস্ব আদায়ের অফিসগুলোর দুর্নীতি নিয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, আমার নিজের কর আইনজীবী পর্যন্ত বাড়তি অফিস খরচের নামে টাকা নেয়। সুতরাং সাধারণ মানুষ রাজস্ব বোর্ড সম্পর্কে কি ভাবতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ভিশন বাস্তবায়নের জন্য স্বচ্ছ, জনমুখী কর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া কর প্রদানে করদাতাদের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশ দূর করতে হবে। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর বেইলি রোডস্থ অফিসার্স ক্লাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (্এনবিআর) আয়োজিত আয়কর মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সবাই মিলে দিব কর দেশ হবে স্বনির্ভর’—এ স্লোগানে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সকলের জন্য খোলা থাকবে। মেলায় মোট ৮৭টি স্টল রয়েছে। দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে একযোগে আয়কর মেলা চলবে। এনবিআর চেয়ানম্যান ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কর অঞ্চল-১-এর কমিশনার এম কাদের সরকার এবং এনবিআর কর্মকর্তাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে এইচটি ইমাম বলেন, কর ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড রকমের ভীতি রয়েছে। তারা মনে করেন, কর মানে করদাতার কাছ থেকে সবকিছু ‘চিপে’ নেয়া। বিষয়টিকে আরও দুর্বোধ্য করে তুলেছে করদাতা ও কর আদায়কারীদের মাঝখানে অবস্থানরত কর আইনজীবীরা। তারা পরিস্থিতিকে এমন করে তুলেছে যে, কর আইনজীবীরা ছাড়া কেউ আয় বিবরণী দাখিল করতে পারবে না। তিনি বলেন, এ জটিল অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। দাতা ও গ্রহীতার মধ্যকার দূরত্ব কমাতে হবে। যাতে একজন করদাতা অফিসে গিয়ে নিজেই তার কর দিতে পারে। তাছাড়া আয় বিবরণী দাখিলের পদ্ধতিকে আরও সহজ করতে হবে, যেন করদাতারা হয়রানির শিকার না হন। এইচটি ইমাম বলেন, কর প্রদানের ক্ষেত্রে গণসচেতনতাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সেজন্য আয়কর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আরও ভালো আচরণ করা দরকার। করদাতারা যেন এমনটি মনে না করেন যে তাদের ওপর জোর করে কর আদায় করা হচ্ছে। এনবিআর চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, ব্যক্তিপর্যায়ে আমাদের দেশে মাত্র এক শতাংশ কর দেন।

ল্যস্ফীতি কমাতে সুদের হার বাড়িয়েছে ভারত

ল্যস্ফীতি কমাতে সুদের হার বাড়িয়েছে ভারত

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া মুদ্রাস্ফীতি দমাতে আবারো সুদের হার বাড়ালো। এ নিয়ে গত ১৮ মাসে ১২ বারের মত সুদের হার বাড়ালো দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রেপো হার ২৫ পয়েন্ট ভিত্তিতে বাড়িয়ে সোয়া আট শতাংশ করা হয়েছে। গেল বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্র পরিচালিত তেল ফার্ম ক্ষতি পোষাতে তেলের দাম ৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। বিশ্লে­ষকরা এর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে আশংকা করেছেন।

ভারতের অর্থ সচিব আর এস গুজরালের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে মন্থর প্রবৃদ্ধি ও উচ্চ মাত্রার মূল্যস্ফীতি নিয়ে ভারত সরকার উদ্বিগ্ন। উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকলে সুদের হার বাড়াবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সরকার চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাড়ে আট শতাংশে নির্ধারণ করেছে। আগামী মার্চে চলতি অর্থবছর শেষ হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সুদের হার বাড়ানোর চাপ পড়ছে দ্রব্যমূল্যের উপর, যা সাধারন ভোক্তার ক্রয় ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক পেট্রোলের দাম বাড়াকে তারা ক্রমাগত মূল্যস্ফীতির আগুনে ঘি ঢালার মতই মনে করছেন। গত দুই বছরে পেট্রোলের দাম অন্তত ১২ দফা বেড়েছে। মে মাসে অয়েল ফার্ম পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৫ রুপি বাড়িয়েছে। কিন্তু ভারতের অয়েল কর্পোরেশন দিল­ীসহ দেশব্যাপী তিন দশমিক ১৪ রুপি বেড়ে ৬৬ দশমিক ৮৪ রুপি হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। গত বছর ভারতের সরকার সরকারীভাবে পরিচালিত ফার্মকে পেট্রোলের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব দিয়েছে কিন্তু গরীব জনসাধারণকে রক্ষার চেষ্টা হিসেবে ডিজেল, কেরোসিন ও রান্নার গ্যাসের দাম নিজস্ব তত্ত্বাবধানে রেখেছে। জ্বালানীর অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে বেশ ভোগাচ্ছে। এ কারনে সরকার এ শ্রেনীর কাছে দ্রুত তার জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। বিরোধীদল ইতিমধ্যে এ মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সোম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১১,

শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তি ৩ দিনে করার সুপারিশ

শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তি ৩ দিনে করার সুপারিশ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার: ব্যাংকগুলোর একক গ্রাহক ঋণসীমা (সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার) সমন্বয়ের সময়সীমা বাড়ানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) অনুষ্ঠিত পুঁজিবাজার সমন্বয় কমিটির বৈঠকে এ নিশ্চয়তা দেয়া হয়। একই সঙ্গে সভায় শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তি হওয়ার সময়সীমা ৪ দিন থেকে কমিয়ে তিন দিন করার সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এসকে সুর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, একক গ্রাহক ঋণসীমা সমন্বয়ের সময়সীমা ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল, এটা বাড়ানো হবে। ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ঠিক রেখে পুঁজিবাজারের জন্য যা যা করণীয় বাংলাদেশ ব্যাংক তা করবে বলেও তিনি জানান। সভা শেষে এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে বাজারের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একক গ্রাহক ঋণসীমা সমন্বয়ের সময়সীমা বাড়ানো ও শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তির সময় এক দিন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শাকিল রিজভী বলেন, বাজারে আর্থিক জোগান বাড়াতে লাইফ ইনস্যুরেন্সের টাকা বিনিয়োগের ব্যাপারে আমরা সুপারিশ করেছি। এ ছাড়া সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) চার্জ কমানো, লেনদেনের ওপর চার্জ কমিয়ে আনা, সব শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা এবং ১০০টি শেয়ারে একটি মার্কেট লট করার সুপারিশ করেছি। এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে তিনি মনে করেন। খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে সমন্বয় কমিটির এ সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপ-সচিব নাসিরউদ্দিন চৌধুরী, সিএসই’র সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদসহ এসইসি’র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

৫ বছরে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে দুই থেকে তিনগুণ : টিসিবির তালিকায় ৪৩ আইটেমের ৩৩টিরই দাম বেড়েছে বছরের মধ্যে

৫ বছরে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে দুই থেকে তিনগুণ : টিসিবির তালিকায় ৪৩ আইটেমের ৩৩টিরই দাম বেড়েছে বছরের মধ্যে

সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ, টিসিবি’র বাজারদর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ৫ বছরে নিত্যপণ্যের দাম সর্বনিম্ন ১শ’ থেকে ২শ’ ভাগ পর্যন্ত বেড়েছে। অর্থাত্ দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ হয়েছে। ৫ বছর আগে ২০০৬ সালে স্বর্ণা বা চায়না জাতের মোটা চালের কেজি ছিল ১৭ টাকা। সেই চাল শতভাগ দাম বেড়ে গতকালের বাজারে ছিল ৩৪ টাকা। একইভাবে নাজিরশাল ও মিনিকেটের মতো ২৪ টাকার সরু চালের দাম প্রায় আড়াইগুণ বেড়ে হয়েছে ৫৫ টাকা কেজি। ১৮ টাকা কেজির আটা হয়েছে ৩৩ টাকা। ৪৮ টাকা কেজির খোলা সয়াবিন হয়েছে ১১১ টাকা। ঠিক এক বছর আগেও
টিসিবি’র হিসাবে গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বর খোলা সয়াবিন ছিল সর্বোচ্চ ৭৯ টাকা কেজি। ৫ বছর আগের ৩৯ টাকা কেজির খোলা পামঅয়েলের গতকালের বাজারদর ছিল ৯৯ টাকা। ঠিক এক বছর আগে ছিল ৭৪ থেকে সর্বোচ্চ ৭৬ টাকা কেজি। আমদানি করা নেপালি মসুর ডালের কেজি ৫ বছর আগে ছিল ৪৫ টাকা। গতকালের বাজারে সেই ডালের কেজি ছিল ৯৮ টাকা। টিসিবি’র হিসাবে মুগডাল গতকাল সর্বোচ্চ ১২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার যেদিন দায়িত্ব নেয় সেদিন চিনির কেজি ছিল ৩০ টাকা। টিসিবি জানায়, গতকালের বাজারে চিনির সর্বনিম্ন দর ৬৫ থেকে ৬৮ টাকা ছিল। ২০০৬ সালে চিনির কেজি ছিল ৩৭ টাকা। আমদানি করা রসুন ৫ বছর আগে ছিল ২০ টাকা কেজি। আওয়ামী লীগ দায়িত্ব নেয়ার আগের দিন ছিল ২৪ টাকা। গতকাল তা ছিল ৭০ টাকা। ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যে শুকনা হলুদের কেজি ছিল ১২০ টাকা, গতকালের বাজারে সেটি ছিল ২৬০ টাকা। ৫ বছর আগে ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ৭০ টাকা, গতকালের বাজারে টিসিবি’র হিসাবে ১৩৫ টাকা। আওয়ামী লীগ সরকার যেদিন দায়িত্ব নেয় তার একদিন আগে ২০০৯ সালের ৫ জানুয়ারি টিসিবি’র হিসাবে মোটা চাল ছিল ২৭ টাকা (ঢাকার বাইরে কোথাও কোথাও ২৪ টাকা)। নাজির-মিনিকেট ছিল ৪০ টাকা। আটা ছিল ২৩ টাকা। পামঅয়েল ৪৮ টাকা কেজি। চার্টের বাইরে থাকা গুঁড়োদুধের দামও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে সম্প্রতি।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ঢাকায় প্রতিদিন বাজারদর মনিটর করে। ইদানীং প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে তাদের তালিকায় ১ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত কেজি বা লিটারে দাম কম স্থান পায়। তারপরও তাদের প্রতিবেদনই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।
চাল, তেল, ডাল, চিনির মতো নিত্যপণ্যের দাম যে হারে বেড়েছে তাতে নিম্নবিত্তের পাশাপাশি এখন মধ্যবিত্তের অনেককেও ওএমএস’র ট্রাকের পেছনে লাইন দিয়ে চাল কিনতে দেখা যাচ্ছে। ভোজ্যতেল ও চিনির ট্রাকের পেছেনেও লাইন দিতে বাধ্য হচ্ছেন মধ্যবিত্তরা। সরকারস্বীকৃত নিত্যপণ্য একসময় ছিল ১০টি আর এখন ১২টি। এগুলো হচ্ছে দু’ধরনের চাল, আটা, দু’ধরনের তেল, চিনি, মশুর ডাল, পেঁয়াজ, আলু ও দু’ধরনের গুঁড়োদুধ। নিত্যপণ্যের বাইরেও দ্রব্যমূল্য, বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ঘোষিত জরুরি নিত্যপণ্যের বাইরেও মাছ, মাংস, ডিম, সবজির দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। অধিকাংশ সবজির কেজি এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকা। দাম বেড়েছে সব ধরনের মসলারও।
গত ৫ বছরে চাকরিজীবীদের বেতন কিছুটা বাড়লেও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির তুলনায় এটা খুবই নগণ্য। কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় যারা চাকরি করেন না, তাদের আয় এ সময় অনেক ক্ষেত্রে কমেও গেছে।
টিসিবি তালিকার ৪৩ আইটেমের ৩৩টিরই দাম বেড়েছে বছরের মধ্যে : টিসিবি ১২টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ৪৩টি আইটেমের ঢাকার বাজারদর নিয়মিত এখন মনিটর করে। এর মধ্যে গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ বছর ১৬ সেপ্টেম্বর ৩৩টি পণ্যের দাম বেড়েছে বলে দেখানো হয়েছে। গত আগস্ট মাসের ১৬ তারিখের সঙ্গে তুলনা করেও দেখানো হয়েছে, এক মাসের ব্যবধানে ৩৫টি পণ্যের দাম বেড়েছে। টিসিবি’র বাজারদর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত এক বছরে ভোজ্যতেল, চিনি, অ্যাংকর ডাল, পেঁয়াজ, শুকনা মরিচ, দেশি মুরগি ও গুঁড়োদুধের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ৫৩ দশমিক ৮৫ ভাগ বেড়েছে শুকনা মরিচের দাম। এ সময় ১২০ থেকে ১৪০ টাকার শুকনা মরিচের দাম বেড়ে হয়েছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম শতকরা ৪১ দশমিক ৯৪ ভাগ বেড়েছে। ৭৬ থেকে ৭৯ টাকার খোলা সয়াবিন হয়েছে ১০৯ থেকে ১১১ টাকা। পামঅয়েলের দাম বেড়েছে ৩০ দশমিক ৬৭ ভাগ। ৭৪ থেকে ৭৬ টাকার পামঅয়েল হয়েছে ৯৭ থেকে ৯৯ টাকা। দেশি পেঁয়াজের দাম ২৮-৩০ টাকা থেকে ৪৪ দশমিক ৮৩ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৪০-৪৪ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ২৬-২৮ টাকা থেকে ৪৮ দশমিক ১৫ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৩৮-৪২ টাকা। গরিবের ডাল হিসেবে পরিচিতি অ্যাংকর ডালের দাম বেড়েছে ৪৮ দশমিক ২১ ভাগ। এ সময় ২৬ থেকে ৩০ টাকার অ্যাংকর ডাল হয়েছে ৪০ থেকে ৪৩ টাকা। চিনির দাম ২৩ দশমিক ১৫ ভাগ বেড়েছে। ৫২-৫৬ টাকা কেজির চিনি হয়েছে ৬৫-৬৮ টাকা। একই সময়ে সরু চালের দাম ১৪ দশমিক ৮১ ভাগ বেড়েছে। মানভেদে ৩৪ থেকে ৪৭ টাকার সরু চাল হয়েছে ৩৮ থেকে ৫৫ টাকা। এর মধে উন্নত মানের নাজিরশাল ও মিনিকেট ৪০-৪৭ টাকা থেকে ১১ দশমিক ৪৯ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৪২-৫৫ টাকা। প্যাকেটজাত আটার দাম ৬ দশমিক ৬৭ ভাগ বেড়ে ২৯-৩১ টাকা থেকে হয়েছে ৩১-৩৩ টাকা। একই সময় আলুর দাম বেড়েছে ১৯ দশমিক ২৩ ভাগ। ১২ থেকে ১৪ টাকার আলু হযেছে ১৫ থেকে ১৬ টাকা। ১ কেজির ডানো ব্র্যান্ডের গুঁড়োদুধের দাম ২২ দশমিক ৮৬ ভাগ বেড়েছে। ৪৩০-৪৪৫ টাকার দুধ হয়েছে ৫৩৫-৫৪০ টাকা। ডিপ্লোমা ব্র্যান্ডের গুঁড়োদুধের দাম ১৭ দশমিক ৭১ ভাগ বেড়েছে। এক বছর আগে প্রতি কেজি দুধ যেখানে ৪৩৫ থেকে ৪৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, টিসিবি’র হিসেবে গতকাল সে দুধের কেজি বিক্রি হয়েছে ৫১০ থেকে ৫২০ টাকা। গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ বছর ১৬ সেপ্টেম্বর যেসব পণ্যের দাম কিছুটা কম তালিকার সেই ১০টি পণ্যের মধ্যে রয়েছে দুই জাতের রসুন, ৪ জাতের ডাল, হলুদ, আদা ইত্যাদি। উল্লেখ্য, এসব পণ্যের দাম এর আগে অত্যধিক বেড়ে গিয়েছিল। সে বিচারে দাম কিছুটা কমলেও সার্বিক বিচারে এসব পণ্যের দামও অনেক বেড়েছে।
টিসিবি’র হিসাবে গত আগস্ট মাসের ১৬ তারিখের সঙ্গে গতকালের বাজারদর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪৩টি তালিকাভুক্ত পণ্যের মধ্যে যে ৩৫টির দাম বেড়েছে তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে আমদানি করা পেঁয়াজ। এক মাসের ব্যবধানে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এক মাস আগে ৩০ থেকে ৩৪ টাকায় যে পেঁয়াজ পাওয়া যেত গতকালের বাজারে সেটা বিক্রি হয়েছে ৩৮ থেকে ৪২ টাকা। খোলা আটার দাম ১৪ দশমিক ৮৯ ভাগ বেড়েছে। ২২ থেকে ২৫ টাকার খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ২৬ থেকে ২৮ টাকা কেজিতে। শুকনা মরিচের দাম ১৭ দশমিক ৬৫ ভাগ বেড়ে ১৫০-১৯০ টাকার মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২২০ টাকায়। ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ২২ ভাগ। ২২-২৪ টাকা হালির ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৬ থেকে ২৭ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে দাম কমার তালিকায় ৮টি পণ্যের মধ্যে রয়েছে ছোলা, খেজুর, ব্রয়লার মুরগি, দেশি রসুন, হলুদ, আদা, ইলিশ মাছ।
প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ আওয়ামী লীগ সরকার : বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের বিরুদ্ধে অন্যতম একটি প্রচার ছিল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে ব্যর্থতা। নির্বাচনী প্রচারে এটাও ছিল বড় হাতিয়ার। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা ও তাদের জোটের নির্বাচনী ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার সুস্পষ্ট ঘোষণা ছিল। এমনকি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নৌকায় ভোট দিয়ে ১০ টাকা কেজির চাল খাওয়ার ঘোষণায় মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতা ছেড়েছে ২০০৬ সালের অক্টোবরে। এর মধ্যে পার হয়েছে ৫ বছর। ড. ইয়াজউদ্দিনের ২ মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার, মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সেনা ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত সরকারের ২ বছর শেষে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ৩৩ মাস বা পৌনে ৩ বছর পার করেছে।
এমনকি ড. ফখরুদ্দীনের জরুরি সরকারের দায়িত্ব ছাড়ার দিনেও যে দামে বিভিন্ন নিত্যপণ্য পাওয়া যেত এখন সে দামে আর কোনো পণ্যই পাওয়া যায় না। সবকিছুর দাম বেড়েছে। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া ফখরুদ্দীন আমলের সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে নিত্যপণ্যে। বিএনপির ক্ষমতা ছাড়ার সময়ের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ দামও হয়ে গেছে অনেক নিত্যপণ্যের। আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর জরুরি সরকারের আমলে অত্যধিক বেড়ে যাওয়া কয়েকটি পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু সে ধারা খুবই অল্পদিন স্থায়ী হয়। এর পেছনে শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় বলে সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরাও স্বীকার করেছেন। এর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজেই বলেছেন, ৫/৬ জন লোক চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। একই ধরনের আভিযোগ এসেছে ভোজ্যতেলে বাজার সিন্ডিকেট নিয়ে।
সবাই জানেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার নির্বাচনের আগে দেশের মানুষকে ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর স্লোগান দিয়েছিল। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একাধিক জনসভায় ১০ টাকা কেজিতে মোটা চাল খাওয়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। সবিস্তারে এটা এর আগে আমার দেশ পত্রিকায় ও অন্য কিছু মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এখন আওয়ামী লীগ এটা অস্বীকার করার চেষ্টা করছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণার অন্যতম ছিল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারা। কিন্তু এখন যখন সে সরকারের শেষ বছরের তুলনায় জিনিসের দাম সর্বনিম্ন দ্বিগুণ ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনগুণ বেড়েছে তখন সরকার কী জবাব দেবেন, তা আমাদের জানা নেই। শুধু তাই নয়, মাঝেমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও কিছু মন্ত্রী বলার চেষ্টা করেন, মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সরকারের তুলনায় তারা জিনিসের দাম অনেক নামিয়ে এনেছেন। কিন্তু সরকারি তথ্যই বলছে ভিন্ন কথা। মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকারের সময় মাঝখানে মোটা চালসহ কিছু জিনিসের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার যেদিন তাদের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেয়, তার ঠিক আগের দিন নিত্যপণ্যের কী দাম ছিল, সেটা আমার দেশসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছিল। সরকারের কাছে এ তথ্য সংরক্ষণ করা আছে। পাঠকের বোঝার সুবিধার্থে চার্টে আমরা সে তালিকা তুলে ধরেছি। মূল্য পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সেটাও স্থান পেয়েছে।
তিন বছরের মধ্যে আকাশছোঁয়া মূল্যের আরও কিছু পণ্য : শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারের পৌনে তিন বছরের মাথায় জিনিসপত্রের যে তালিকা টিসিবি দিয়েছে, তার মধ্যে বেশকিছু পণ্য রয়েছে যেগুলোর দাম এই পৌনে তিন বছরের মধ্যে কোনো কোনো সময় আরও অনেক বেশি ছিল। টিসিবির গতকালের মূল্যতালিকা অনুযায়ী হলুদ, রসুন, আদা ও শুকনো মরিচের দাম ২০০৬ সালের তুলনায় এখন প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু গত বছর এগুলোর দাম দ্বিগুণ অর্থাত্ ২০০৬ সালের তুলনায় চারগুণে পৌঁছেছিল। টিসিবির হিসেবে গতকাল বাজারে শুকনো মরিচের কেজি ছিল মানভেদে ১৮০ থেকে ২৬০ টাকা। গতবছর তিনশ’ টাকা। কিন্তু গতবছর প্যাকেটজাত শুকনো মরিচের কেজি সর্বোচ্চ ৪৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রসুনের বাজারেও ছিল একই অবস্থা। গতকাল যে রসুন বিকিয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, গত বছর একই দিনে সে রসুন ছিল দ্বিগুণেরও বেশি, ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা কেজি। শুকনো মরিচের ক্ষেত্রে ঘটেছে কিছুটা ব্যতিক্রম। গত বছর ১৬ সেপ্টেম্বর যে শুকনো মরিচের কেজি ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, গতকাল এটা বিকিয়েছে মানভেদে ১৮০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি। প্যাকেটজাত মরিচের দাম আরও বেশি। কাঁচামরিচের ঝালও গত তিন বছরে বেশ কয়েকবারই মানুষ টের পেয়েছে। গত ঈদের পরপর ঢাকার বাজারে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা কেজিতেও কাঁচামরিচ বিকিয়েছে। রোজার মধ্যে দেড়শ থেকে দুইশ’ টাকা বিকিয়ে কয়েকবার পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে। পেঁয়াজের কেজিও কিছুদিন এ সরকারের আমলে ৮০ টাকা বিকিয়েছে। ভালো মানের পেঁয়াজ নতুন করে দাম বেড়ে এখনও ঢাকার বাজারে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টিসিবি গতকালের বাজারদরে দেখিয়েছে ৪৪ টাকা। ৫ বছর আগেও ব্রয়লার মুরগির ডিমের হালি যেখানে ছিল ১২ টাকা, সেটা গতকাল ছিল ২৬-২৭ টাকা। ব্রয়লার মুরগির ডিমের হালি এ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন বিকিয়েছে ৩২ টাকায়। ব্রয়লার মুরগিও রোজার শুরুতে ১৮০ টাকা কেজি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। চিনির কেজি রোজার শুরুতে কিছুদিন ৮০ টাকায় বিকিয়েছে, যা ৫ বছর আগে ছিল ৩০ টাকা। ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও কয়েকবার এমনটি হয়েছে। এমনকি সয়াবিন লিটারে ১২ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি ১৩০/১৪০ টাকায় পৌঁছে। বাজার থেকে তখন উধাও হয়ে গিয়েছিল সয়াবিন। বাজার থেকে উধাও হওয়ার তালিকায় ছিল চিনিও। নিয়মিত দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি এভাবেই মাঝেমধ্যে কোনো কোনো পণ্যের দাম হঠাত্ করে লাফ দিয়ে বেড়ে যায়। সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের পকেট থেকে হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা।
গত বৃহস্পতিবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করে এজন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এ খবরটি আমার দেশসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে যেমন গতকাল প্রকাশিত হয়েছে, তেমনি পাশাপাশি আরেকটি খবরও রয়েছে বিভিন্ন পত্রিকায়। সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিসংখ্যান ব্যুরো তাদের আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতির হিসাব প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং কেবল খাদ্যদ্রব্যে মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। সরকারের টার্গেটের মূল্যস্ফীতির এটা প্রায় দ্বিগুণ। তারপরও দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর দাবিতে প্রশ্ন জেগেছে, দাম আর কতটা বাড়লে প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক বলবেন।