ঢাকায় কর মেলা শুরু
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছেন, দেশের রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঘুষ-দুর্নীতি দূর করা দরকার। রাজস্ব আদায়ের অফিসগুলোর দুর্নীতি নিয়ে চরম বিরক্তি প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, আমার নিজের কর আইনজীবী পর্যন্ত বাড়তি অফিস খরচের নামে টাকা নেয়। সুতরাং সাধারণ মানুষ রাজস্ব বোর্ড সম্পর্কে কি ভাবতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ভিশন বাস্তবায়নের জন্য স্বচ্ছ, জনমুখী কর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া কর প্রদানে করদাতাদের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশ দূর করতে হবে। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর বেইলি রোডস্থ অফিসার্স ক্লাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (্এনবিআর) আয়োজিত আয়কর মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সবাই মিলে দিব কর দেশ হবে স্বনির্ভর’—এ স্লোগানে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সকলের জন্য খোলা থাকবে। মেলায় মোট ৮৭টি স্টল রয়েছে। দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে একযোগে আয়কর মেলা চলবে। এনবিআর চেয়ানম্যান ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কর অঞ্চল-১-এর কমিশনার এম কাদের সরকার এবং এনবিআর কর্মকর্তাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে এইচটি ইমাম বলেন, কর ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড রকমের ভীতি রয়েছে। তারা মনে করেন, কর মানে করদাতার কাছ থেকে সবকিছু ‘চিপে’ নেয়া। বিষয়টিকে আরও দুর্বোধ্য করে তুলেছে করদাতা ও কর আদায়কারীদের মাঝখানে অবস্থানরত কর আইনজীবীরা। তারা পরিস্থিতিকে এমন করে তুলেছে যে, কর আইনজীবীরা ছাড়া কেউ আয় বিবরণী দাখিল করতে পারবে না। তিনি বলেন, এ জটিল অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। দাতা ও গ্রহীতার মধ্যকার দূরত্ব কমাতে হবে। যাতে একজন করদাতা অফিসে গিয়ে নিজেই তার কর দিতে পারে। তাছাড়া আয় বিবরণী দাখিলের পদ্ধতিকে আরও সহজ করতে হবে, যেন করদাতারা হয়রানির শিকার না হন। এইচটি ইমাম বলেন, কর প্রদানের ক্ষেত্রে গণসচেতনতাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সেজন্য আয়কর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আরও ভালো আচরণ করা দরকার। করদাতারা যেন এমনটি মনে না করেন যে তাদের ওপর জোর করে কর আদায় করা হচ্ছে। এনবিআর চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, ব্যক্তিপর্যায়ে আমাদের দেশে মাত্র এক শতাংশ কর দেন।
Leave a Comment