Largest and fastest growing business Portals
Tweet
দেশের শেয়ারবাজারে গতকাল রোববার আবার বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। ধারাবাহিক দরপতনের ফলে গত দুই মাসের ব্যবধানে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক কমেছে ৯১১ পয়েন্ট। গত ২৪ জুলাই ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ছিল ছয় হাজার ৭১১ পয়েন্ট। গতকাল সেটি নেমে এসেছে পাঁচ হাজার ৮০০ পয়েন্টে।
দরপতনের পাশাপাশি লেনদেনের মন্দা যেন শেয়ারবাজারের পিছু ছাড়ছে না। চলতি বছরের ২৪ জুলাই ঢাকার বাজারে এক হাজার ৯৫৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর এখন তা নেমে এসেছে ৪০০ কোটি টাকার নিচে। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে ঢাকার বাজারে লেনদেন কমেছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা।
প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে মূল্য বৃদ্ধি দিয়েই গতকাল নতুন সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের লেনদেন শুরু হয়। প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যেই সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১০ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৯৭৭ পয়েন্টে ওঠে। এর পরই শুরু হয় টানা পতন, যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বা ১৬৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৮০০ পয়েন্টে। গত প্রায় তিন মাসের ব্যবধানে এটিই ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে চলতি বছরের ২১ জুন ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক সর্বশেষ পাঁচ হাজার ৭৪৫ পয়েন্টের সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। ঢাকার বাজারে গতকাল লেনদেন হওয়া ২৫৯টি কোম্পানির মধ্যে ২৪২টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ১৪টির।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক রোববার প্রায় ৪৫৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৪২৮ পয়েন্টে। চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেন হওয়া ১৮৯টি কোম্পানির মধ্যে ১৭৯টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে আটটির।
দরপতন ঘটলেও ঢাকার বাজারে লেনদেন আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯৬ কোটি টাকায়। আর সিএসইতে ১৬ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ৫৩ কোটি টাকা।
ক্রমশ শেয়ারের দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ করে চলেছেন। গতকালও তাঁদের বিক্ষোভের কারণে মতিঝিলের স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে বিভিন্ন সময় গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকছে।
এদিকে অব্যাহত দরপতন ঠেকাতে গত সপ্তাহে এসইসিসহ বাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ নানামুখী উদ্যোগ নেয়। তার পরও বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসেনি বলে মনে করা হচ্ছে। আস্থার সংকটে ভুগতে থাকা বিনিয়োগকারীরা গতকাল আরেকটি বড় পতন চোখে দেখেছেন।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজারের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস অনেক কমে গেছে। এ অবস্থায় বাজারের উন্নয়নে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
তারল্য-সংকটই এই দরপতন ও লেনদেন কমে যাওয়ার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা বলছেন, তারল্য-সংকটের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এর ফলে একদিকে বাজারে প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নেই, আরেক দিকে আগের মতো ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে চাহিদামাফিক ঋণের জোগান দিতে পারছে না। বরং প্রতিদিন শেয়ারের দরপতন ঘটতে থাকায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর ঋণ সমন্বয়ের চাপ বাড়ছে। সে সঙ্গে ঋণের সুদের চাপ তো রয়েছেই। এ কারণে অনেক বিনিয়োগকারী ঋণ সমন্বয় করতে গিয়ে লোকসানে শেয়ার বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বাজারের এই সংকট দূর করতে নিজস্ব তহবিল গঠনের সুযোগ চেয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। এসইসি তাদের সেই দাবি পূরণের আশ্বাসও দিয়েছে।
ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একক গ্রাহকের ঋণসীমা (সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার লিমিট) সমন্বয়ের সময় বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আদেশ জারি করা হলে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাঁরা বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
বিএমবিএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি একক গ্রাহক ঋণসীমা সমন্বয়ের সময় পুনর্নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে তাদের বিনিয়োগে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
তারিখ: ১৯-০৯-২০১১
Golden Bangladesh is a point of access to information.We present information from diverse sources in a unified way. It is the leading web portal, e-Directory and business guide in Bangladesh.
Leave a Comment