Business News

Displaying 151-160 of 170 results.

অবশেষে ঘুম ভেঙেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার

অবশেষে ঘুম ভেঙেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার

মাসাধিককাল ধরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কয়েকটি নির্দিষ্ট কোম্পানির টানা মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে যখন তা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে তখন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও পুঁজিবাজার কর্তৃপক্ষ নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিল। বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে এসব নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি হওয়ার পরও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পুঁজিবাজারের এ দুই অভিভাবক কর্তৃপক্ষ। অবশেষে এ সপ্তাহে দু’টি প্রতিষ্ঠানেরই ঘুম ভেঙেছে। তবে ইতোমধ্যে ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। মৌলভিত্তির তলানিতে থাকা এসব শেয়ারের দর গত এক মাসে বেড়েছে দুই থেকে আড়াই শ’ শতাংশ। আর এ সময়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এক দিকে এসব শেয়ারে ঢুকে পড়েছেন অন্য দিকে বাজার খেলোয়াড়েরা এসব শেয়ার ছেড়ে বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এবং বাজারসংশ্লিষ্টরা যখন বারবার এসব শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির তদন্ত করার কথা বলেছে, তখন এ দুই কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করলেও এ সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবস মঙ্গলবার ডিএসই কর্তৃপক্ষ একটি কোম্পানির লেনদেন স্থগিত করে। এরই মধ্যে কোম্পানিটির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারদর ছাড়িয়ে গেছে ৮০০ টাকা। লেনদেন স্থগিত করার দিন কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ৮৭৬ টাকা। ডিএসই থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ওই দরে কোম্পানিটির শেয়ারের পিই দাঁড়ায় ৭০০। অথচ একটি কোম্পানির পিই ১০০ অতিক্রম করে ৭০০তে পৌঁছা পর্যন্ত কোনো নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষই কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এভাবে একের পর এক দুর্বল মৌলভিত্তি ও স্বল্প মূলধনী বেশ কয়েকটি কোম্পানির দর বেড়েছে লাগামহীনভাবে। একইভাবে ডিএসই কর্তৃপক্ষ বুধবার আরো একটি কোম্পানির লেনদেন স্থগিত করে পর দিনই আবার তা ছেড়ে দেয়। লেনদেন স্থগিত করার কারণে প্রথমদিন কোম্পানিটি কিছুটা দর হারালেও পর দিন আবার ডিএসইর শীর্ষ মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসে কোম্পানিটি। সবশেষ সপ্তাহের শেষদিন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কমিশন সভায় সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া এ ধরনের ১২টি কোম্পানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে অনুসন্ধানপূর্বক তার তদন্ত রিপোর্ট ১৫দিনের মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেয়ার নির্দেশ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেয়া এ সিদ্ধান্তকে অনেকে স্বাগত জানালেও অনেকেই আবার এত দেরিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়ার সমালোচনা করেন। তারা মনে করেন, পুঁজিবাজারে কোনো কিছুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার অজ্ঞাতে হয় না। অতীতের মতো এখনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার একটি অংশ পুরোপুরোই এ কারসাজির সাথে জড়িত। এ কারণে পরিকল্পিতভাবে বাজারকে কারসাজিকারীদের হাতে তুলে দেয়া হয় এবং যখন সময় হয় তখন এ জাতীয় লোক দেখানো কমিটি ও তদন্তের নামে দায়সারাভাবে তাদের দ্বায়িত্ব পালনের ভূমিকা নেয়। এর আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা চারটি কোম্পানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। পরে এ ধরনের বেশ কিছু কোম্পানি একই তালিকায় উঠে এলেও এ নিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা পুঁজিবাজার কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এমনকি গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় ডিএসই প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটু সাংবাদিকদের বলেন, টাকা থাকলে যে কেউ যেকোনো দামে শেয়ার কিনতে পারেন। ডিএসই কোনোভাবেই তাতে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। তিনি আরো বলেন, শুধু লিখিত আবেদন পেলেই ডিএসই এ ব্যাপারে তদন্ত করে দেখতে পারে। তবে এ বক্তব্যের পর দিনই ডিএসই কর্তৃপক্ষ এ তালিকায় থাকা একটি কোম্পানির লেনদেন স্থগিত করে। পর দিন আরো একটি। আর সপ্তাহের শেষদিন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে ডিএসইকে এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়ার সিদ্ধান্ত। তবে এসব কিছুই এত দেরিতে হয়েছে যখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে এসব শেয়ারের দরপতন ঘটবে এবং তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ বিনিয়োগকারী, যারা বাজারের মন্দায় এসব শেয়ারের টানা মূল্যবৃদ্ধি দেখে তা থেকে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সপ্তাহের পুরোটাই কেটেছে মন্দায়। সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবসে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও পর দিন আবারো এ প্রচেষ্টা হোঁছট খায়। সূচকের অবনতির পাশাপাশি সপ্তাহের শেষদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন নেমে আসে গত দেড় মাসের সর্বনি¤েœ। ফলে আগের সপ্তাহ অপেক্ষা বড় ধরনের অবনতি ঘটে দেশের শীর্ষ পুঁজিবাজারটির লেনদেনে। আগের সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেন ছিল দুই হাজার ৮৮১ কোটি টাকা। এ সপ্তাহে তা নেমে আসে দুই হাজার ৩২ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ২৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম। অনুরূপভাবে ডিএসইর গড় লেনদেন ৫৭৬ কোটি টাকা থেকে নেমে আসে ৪০৬ কোটি টাকায়। সপ্তাহব্যাপী মন্দায় অবনতি ঘটেছে ডিএসইর সূচকের। ডিএসইর প্রধান সূচকটি এ সময় হ্রাস পায় ৮৪ দশমিক ৩২ পয়েন্ট। চার হাজার ৯৭ দশমিক ৭১ পয়েন্ট থেকে সপ্তাহের লেনদেন শুরু করলেও সপ্তাহ শেষে ডিএসইএক্স সূচকটি চার হাজার ১৩ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে স্থির হয়। একইভাবে ডিএসই-৩০ সূচকটি ১৫১২ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে ১৪৬৪ পয়েন্টে এসে তা শেষ করে। এভাবে সূচকটির ৪৮ পয়েন্ট অবনতি ঘটে।

dailynayadiganta: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩

স্থবিরতা কাটানোর পথে জাহাজনির্মাণ শিল্প

স্থবিরতা কাটানোর পথে জাহাজনির্মাণ শিল্প

ঋণসংকট থেকে বেরিয়ে আসছে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ের মতো ইউরোপের শক্তিশালী অর্থনীতিগুলো। এরাই বাংলাদেশে নির্মিত নতুন জাহাজের বড় ক্রেতা। আবার আফ্রিকার দেশ তানজানিয়া, মোজাম্বিক ও কেনিয়ার ক্রেতারা যোগাযোগ শুরু করেছেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে। আবার সাগরে স্থাপিত রিগে ব্যবহারের জন্য সাহায্যকারী জাহাজের চাহিদা এখন বাড়ছে।
সব মিলিয়ে মন্দার কারণে স্থবির হয়ে থাকা জাহাজনির্মাণ শিল্পে এখন এসব আশার আলো হাতছানি দিচ্ছে। রপ্তানি আয়ের উদীয়মান খাত হিসেবে কয়েক বছর আগেই চিহ্নিত হয়েছে জাহাজনির্মাণ খাত। ২০০৮ সালে বিশ্বমন্দা শুরুর আগেই আসতে থাকে জাহাজ রপ্তানির কার্যাদেশ। চুক্তিও হয়েছে হাজার কোটি টাকার। বিশ্বমন্দার প্রভাব শুরুতে না পড়লেও ২০১০ সালের ইউরোপের ঋণসংকট এ খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশি ক্রেতারা জাহাজের ক্রয়াদেশ দিলেও, আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়ে অনেকগুলো বাতিল করে দেয়। এতে প্রায় ২০ কোটি ডলার কার্যাদেশও আটকে যায়। আর গত দুই বছরে কার্যত নতুন কোনো রপ্তানি আদেশ আসেনি।
উদ্যোক্তারা জানান, মন্দার কারণে ছোট জাহাজের বাজারে যে ধীরগতি ছিল, তা শিগগিরই কেটে যাচ্ছে। বিদেশি ক্রেতারা সে দেশের ব্যাংকের সহযোগিতা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে নতুন রপ্তানি আদেশ দিতে যোগাযোগ শুরু করেছেন ইউরোপের ক্রেতারা। আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতেও চোখ রাখছেন উদ্যোক্তারা। আগামী বছরে ৪০ থেকে ৫০ কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা। বছরের প্রথম প্রান্তিকেই এসব রপ্তানি আদেশ আসতে শুরু করবে বলে ধারণা এ খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠনটির।
স্থবির হয়ে পড়া এই খাতে নতুন আদেশ কাজে লাগাতে বিশেষ তহবিল গঠনের কথা বলছেন উদ্যোক্তারা, যেন এ তহবিল থেকে স্বল্পসুদে ঋণ পাওয়া যায়। শুরুর দিকে সরকার ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করলেও নানা জটিলতায় এক টাকাও ছাড় পাননি জাহাজনির্মাতারা। এরই মধ্যে ব্যাংক সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় আরও কঠিন বাধার মুখে পড়ছে উদীয়মান এই খাতটি। হল-মার্ক কেলেঙ্কারির পর ব্যাংক অর্থায়নে কড়াকড়ি আরোপ করায় আর্থিক অনিশ্চয়তাই এখন বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
জানতে চাইলে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘জাহাজের ক্রেতাদেশগুলো মন্দা থেকে ঘুড়ে দাঁড়াচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে এখন কম সুদে ঋণের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করা উচিত। কারণ, মন্দায় ক্ষতিগ্রস্ত চীন ও ভারতের উদ্যোক্তাদের বিশেষ ভর্তুকি দিয়েছে সে দেশের সরকার।’
উদ্যোক্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫-০৬ সাল থেকে ইউরোপের দেশগুলো থেকে রপ্তানি আদেশ আসতে শুরু করে। ২০০৮ সালে মে মাসে সমুদ্রগামী জাহাজ রপ্তানির মাধ্যমে এই খাতে নাম লেখায় বাংলাদেশ। ঢাকার আনন্দ শিপইয়ার্ড এবং চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের হাত ধরে মূলত এই খাতে রপ্তানির বাজার প্রসারিত হতে শুরু করে। এ সময় ডেনমার্ক, জার্মানি, ফিনল্যান্ড, পাকিস্তান, মোজাম্বিকে জাহাজ রপ্তানি হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরে ২৮৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩৬৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা রপ্তানি আয় হয় এ খাত থেকে। মন্দার প্রভাবে গত বছর রপ্তানি আয় কমে আসে। মাত্র ৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকার রপ্তানি আয় আসে গত অর্থবছর এ খাত থেকে। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ডেনমার্কে একটি ফেরি রপ্তানি বাবদ এই অর্থ আয় করে।
স্থবির হয়ে পড়া এ খাতটি এখন সরকারি-বেসরকারি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের জাহাজনির্মাণের চাহিদা পূরণ করে টিকে আছে। এর মধ্যে রয়েছে যাত্রীবাহী জাহাজ, রো রো ফেরি, তেল পরিবহনের জাহাজ, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলার এবং ছোট আকারের কনটেইনার জাহাজ। আগে বিদেশ থেকে কিনে আনা এ ধরনের জাহাজ এখন দেশে নির্মিত হওয়ায় বিদেশি মুদ্রাও সাশ্রয় হচ্ছে। আগামী বছরের মধ্যে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার এই বাজারের চাহিদা পূরণ করবে জাহাজনির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।
জাহাজনির্মাতা প্রতিষ্ঠান এফএমসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইয়াছিন চৌধুরী মনে করেন, ‘চাহিদা থাকলেও মন্দার কারণে ছোট জাহাজের ক্রয়াদেশ দেওয়ার ব্যাপারে ধীরগতি ছিল বিদেশি ক্রেতাদের। আর্থিক নিশ্চয়তা না পাওয়ায় আমারও রপ্তানি আদেশ নিতে সাহস পাইনি। আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে এ অবস্থা থাকছে না। সে জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সবাই।’
উদ্যোক্তাদের মতে, আগামী তিন বছরের বিশ্বে জাহাজের বাজার প্রসারিত হবে। আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থার বাধ্যবাধকতায় ‘সিঙ্গেল হাল’-এর জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আসছে। পুরোনো এসব জাহাজ প্রতিস্থাপন করতে হবে। আবার পরিবেশের দূষণমুক্ত জাহাজ তৈরির ধারণাও প্রসার হচ্ছে। তেল থেকে এলএনজি গ্যাসে চালিত জাহাজের কদর বাড়বে এ সময়। এই বড় বাজারের সুযোগ লাভ করতে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে।
উদ্যোক্তারা জানান, দেশীয় এখন ১০টি শিপইয়ার্ড রপ্তানিযোগ্য জাহাজ বানাতে সক্ষম। এই সংখ্যা যত বাড়বে, ততই বাংলাদেশে জাহাজ বানানোর বড় বাজার তৈরি হবে।

প্রথম আলো: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৩

১৫ সদস্যের বোর্ড গঠনেরপ্রস্তাব ডিএসই'র

১৫ সদস্যের বোর্ড গঠনেরপ্রস্তাব ডিএসই'র

ডিমিউচ্যুয়াইজড (মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা পৃথক) স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য ১৫ জনের বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর মধ্যে ৮ জন স্বাধীন ও ৬ জন নির্বাচিত পরিচালক এবং একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) থাকবে। ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন স্কিম চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ডাকা শুনানিতে অংশ নিয়ে গতকাল বুধবার এ প্রস্তাব দিয়েছে ডিএসই। এর আগে ১৯ জনের বোর্ড গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

শুনানিশেষে ডিএসইর সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। তিনি বলেন, পরিচালককের সংখ্যা ও সিইওকে ভোটাধিকারের সুযোগ না দেয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মতামত দেয়া হয়েছে। প্রস্তাবের সার্বিক দিক বিবেচনা করে বিএসইসি স্কিম চূড়ান্ত অনুমোদন দিবে। এরপর অচিরেই ডিমিউচুয়া-লাইজেশন বাস্তবায়ন করা হবে।

শুনানিতে বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন, কমিশনার হেলাল উদ্দিন নিজামী, মো. আমজাদ হোসেন, মো. আরিফ খান, মো. আব্দুস সালাম শিকদার, ডিএসই'র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান, মিজানুর রহমান খান এবং আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

চিকিৎসাপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করবে জাপান

চিকিৎসাপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করবে জাপান

দেশের চিকিৎসাপ্রযুক্তি খাতে সরাসরি বিনিয়োগ করবে জাপান। প্রথম পর্বে চলতি বছরেই ঢাকায় একটি আধুনিক মেডিকেল ইমেজিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করবে তারা।
ঢাকার একটি হোটেলে সম্প্রতি এক সেমিনারে এ ঘোষণা দেন জাপানের সফররত বিনিয়োগকারী দলের প্রধান নরিয়োশি ফুকুওকা ও মেডিকেল এক্সেলেন্স জাপানের বাংলাদেশ প্রতিনিধি অধ্যাপক ডা. শেখ আলীমুজ্জামান। বিজ্ঞপ্তি।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোদাসেসর আলী, বাংলাদেশে জাপানি রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোশিমা, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি অধ্যাপক মাহমুদ হাসান, স্বাস্থ্যসচিব এম এম নেয়াজ উদ্দীন এবং জাপানের তোশিবা, হিটাচিসহ বিভিন্ন কোম্পানি ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

পুঁজিবাজারে দেড় মাসের সর্বনিম্ন লেনদেন

পুঁজিবাজারে দেড় মাসের সর্বনিম্ন লেনদেন

এ সপ্তাহের বেশি সময় সূচকের টানা অবনতির পর এবার লেনদেনেও বড় ধরনের অবনতি ঘটেছে দেশের দুই পুঁজিবাজারে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন নেমে আসে ৩২৪ কোটি টাকায়, যা এ বাজারে দেড় মাসের সর্বনিম্ন লেনদেন। গত ১২ আগস্টের পর আর এ পর্যায়ে নামেনি দেশের প্রধান পুঁজিবাজারটির লেনদেন। অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে ২৫ কোটি টাকা লেনদেন সম্পন্ন হয় গতকাল। একদিন আগেও বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪০ কোটি টাকার বেশি। এ দিকে দুই পুঁজিবাজারে মূল্যবৃদ্ধির অস্বাভাবিকতা গতকাল বড় ধরনের ধাক্কা খায়। মঙ্গলবার উভয় পুঁজিবাজারে চিটাগাং ভেজিটেবল অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালসের লেনদেন স্থগিতের পর গতকাল লেনদেনের মাঝপথে রহিমা ফুডের লেনদেন স্থগিত করে পুঁজিবাজার কর্তৃপক্ষ। এর ফলে এ ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই গতকাল বড় ধরনের দরপতনের শিকার হয়। লেনদেনের বড় একটি সময় বেশির ভাগ কোম্পানিই ক্রেতা পায়নি। মঙ্গলবার পুঁজিবাজারগুলোর নেয়া চিটাগাং ভেজিটেবলের লেনদেন স্থগিতের সিদ্ধান্তে এ তালিকায় থাকা কিছু কিছু কোম্পানি দর হারালেও কয়েকটি কোম্পানি এ দিনও শীর্ষ মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসে। এ দিন ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল রহিমা ফুড। গতকালও লেনদেন শুরুর সাথে সাথে কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি শুরু হলে বাজার কর্তৃপক্ষ এটিরও লেনদেন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়। আর ডিএসইর এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারদরেও। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুঁজিবাজার কর্তৃপক্ষের নেয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব ছিল দিনের লেনদেনে। বিগত বেশ কিছু দিন থেকে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনও বেড়েছিল দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব কোম্পানি উঠে আসছিল দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনের শীর্ষে। গতকালও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনের শীর্ষ স্থানটি দখলে নেয় এ তালিকায় থাকা কোম্পানি লিগেসি ফুটওয়্যার। আর এটাই সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারের লেনদেন বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করেন তারা। কিন্তু গতকাল এ ধরনের কোম্পানির বেশির ভাগ বড় ধরনের দরপতনের শিকার হলে সতর্ক হয়ে ওঠেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে কমে যায় উভয় বাজারের লেনদেন। বিনিয়োগকারীরা বাজারগুলোতে লেনদেনের অবনতি ঘটলেও পুঁজিবাজার কর্তৃপক্ষের নেয়া পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে তারা মনে করেন এটা অনেক আগেই করা উচিত ছিল। কারণ ইতোমধ্যে এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করে বসে আছেন অনেক ুদ্র বিনিয়োগকারী। শেষ মুহূর্তে এরাই লোকসানের শিকার হবেন। তারপরও পুঁজিবাজারের স্বার্থে এমন পদক্ষেপ যথাযথ বলে মনে করেন তারা। কারণ মৌলভিত্তির দিক থেকে প্রচণ্ড দুর্বল এসব কোম্পানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি সে দিকে ঘুরিয়ে নিতে সক্ষম হলে ভারসাম্য হারায় বাজার। আর এতে বাজারে সৃষ্টি হয় অস্থিরতা। মার খায় ভালো কোম্পানির শেয়ার। এর মাধ্যমে লোকসান গুনতে হয় বাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। ডিএসইর নেয়া পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে তা বাজার খেলোয়াড়দের এ প্রবণতা সাময়িকভাবে হলেও কমবে বলে মনে করেন তারা। গতকাল সকালেও বরাবরের মতো ঊর্ধ্বমুখীই ছিল দুই বাজার। অন্যান্য দিনের মতো প্রথম আধা ঘণ্টা পরই বিক্রয় চাপে পড়ে বাজারগুলো। এ সময় ডিএসই কর্তৃপক্ষ রহিমা ফুডের লেনদেন স্থগিত করে ডিএসই ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করে। এর পরই দর হারাতে শুরু করে বিভিন্ন কোম্পানি, বিশেষ করে দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলো। এভাবে শুরু হয় সূচকের পতন। সকালে ডিএসইএক্স সূচকের চার হাজার ৩০ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে প্রথম আধা ঘণ্টায় ৪ হাজার ৫২ পয়েন্টে পৌঁছে যায় সূচকটি। কিন্তু লেনদেনের এ পর্যায়ে বিক্রয়চাপ শুরু হলে নিম্নমুখী হয় সূচকটি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সূচকটি নেমে আসে ৩ হাজার ৯৯৮ পয়েন্টে। এভাবে এক মাসেরও বেশি সময় পর ডিএসইর প্রধান সূচকটি নেমে আসে ৪ হাজার পয়েন্টের নিচে। এ পর্যায়ে ডিএসই সূচকের ৩১ পয়েন্টে বেশি অবনতি ঘটে। তবে দিনের শেষ দিকে সূচক আবার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ৪ হাজার ৫ পয়েন্টে এসে লেনদেন শেষ করে ডিএসই। সিএমসি কামালকে পেছনে ফেলে লেনদেনে গতকাল ডিএসইর শীর্ষে উঠে আসে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস। ১৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকায় ৭ লাখ ৯৪ হাজার শেয়ার বেচাকেনা হয় কোম্পানিটির। ১০ কোটি ১৮ লাখ টাকা লেনদেন করে সিএমসি কামাল ছিল লেনদেনে দ্বিতীয়। ডিএসইর শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় গতকাল আরো ছিল তাল্লু স্পিনিং, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস, যমুনা অয়েল, বঙ্গজ লিমিটেড, আরএন স্পিনিং, গ্রামীণফোন, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। দিনের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে বীমা খাতের পিপলস ইন্স্যুরেন্সের। ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ দাম বাড়ে কোম্পানিটির। এ ছাড়া রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স ৬ দশমিক ৩৮, বিএটিবিসি ৫ দশমিক ৫৯, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স ৫ দশমিক ২৮ ও লিব্রা ইনফিউশনের ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। অপর দিকে দিনের সর্বোচ্চ দরপতন ঘটে মডার্ন ডাইংয়ের। ১০ শতাংশ দর হারায় টেক্সটাইল খাতের কোম্পানিটি। এ ছাড়া বিডি অটোকার ৯ দশমিক ৯৬, দেশ গার্মেন্টস ৯ দশমিক ৯৫, ইনটেক অনলাইন ৯ দশমিক ৯৫, হাক্কানি পেপার অ্যান্ড পাল্প ৯ দশমিক ৮৮, লিগেসি ফুটওয়্যার ৯ দশমিক ৮৩, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক ৯ দশমিক ৮১, আনোয়ার গ্যালভেনাইজিং ৯ দশমিক ৯১, আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৯ দশমিক ৬৬ ও জেএমআই সিরিঞ্জ অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসেস ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ দর হারায়। উল্লিখিত কোম্পানিগুলো দিনের একটি বড় অংশ ক্রেতাশূন্য ছিল।

জনশক্তি রফতানি বন্ধ থাকলেও রেমিট্যান্স প্রেরণের শীর্ষে সৌদি

জনশক্তি রফতানি বন্ধ থাকলেও রেমিট্যান্স প্রেরণের শীর্ষে সৌদি

বিগত কয়েক বছর ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে জনশক্তি রফতানি বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থা সত্বেও চলতি অর্থবছরের আগস্ট শেষে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছে। সৌদির পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক রেমিট্যান্সের হিসেবে এ তথ্য উঠে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে কর্মী পাঠানো বন্ধ থাকার পরও এসব দেশ থেকে এখনো যে পরিমাণ রেমিট্যান্স আসছে তাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কাতার ও লিবিয়া থেকে রেমিট্যান্স আসা সামান্য কমলেও বাকি দেশগুলোতে রেমিট্যান্সের ধারা ঠিক ছিল। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস শেষে রেমিটেন্স প্রবাহের দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে এবং সার্বিকভাবে সৌদি আরবের অবস্থান সর্বোচ্চ। এরপরের অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত, ওমান, বাহরাইন ও কাতারের স্থান। অন্যদিকে আলোচ্য সময়ে আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিটেন্স এসেছে বেশি। তালিকায় এরপর রয়েছে মালেশিয়া, যুক্তরাজ্য ও সিংগাপুর ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আগস্ট শেষে দেশভিত্তিক রেমিটেন্স এসেছে মোট ২২৪ কোটি ৪২ লাখ মার্কিন ডলার। যা এর আগের মাস শেষে ছিল ১২৩ কোটি ৮৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এসময়ে সৌদি আরব থেকে আসা রেমিটেন্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮ কোটি ৪৮ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। ইউএই থেকে এসেছে ৪৩ কোটি চার লাখ ৩০ হাজার ডলার। কুয়েত থেকে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এসেছে ১৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৩৬ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার। আলোচ্য সময়ে মালেশিয়া থেকে এসেছে ১৫ কোটি ৪৯ লাখ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য থেকে একই সময়ে এসেছে ১৫ কোটি ৩৯ লাখ মার্কিন ডলার।

শেয়ারবাজারের দরপতন থেমেছে

শেয়ারবাজারের দরপতন থেমেছে

সিভিও পেট্রোকেমিকেলের লেনদেন স্থগিত

রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় টানা পাঁচদিন শেয়ারবাজারে দরপতনের পর গতকাল মঙ্গলবার সূচক কিছুটা বেড়েছে। তবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা সঠিক ধারণা করতে পারছেন না। ফলে অনেকেই বিনিয়োগ না করে পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করছেন।

আইডিএলসি'র দৈনন্দিন বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত পাঁচ দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১১৬ পয়েন্ট কমেছে, আর গতকাল বেড়েছে ৯ পয়েন্ট। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে খাত ভিত্তিক লেনদেনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গতকালও বাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে পোশাক খাতের অবদান ছিল শীর্ষে। ডিএসই'র মোট লেনদেনের প্রায় ২৩ শতাংশ হয়েছে এ খাত ঘিরে।

তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই'র ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের দিনের তুলনায় ৯ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএস-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৪৭১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৬৮ কোটি ৪২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৫৩ কোটি টাকা কম। লেনদেনকৃত ২৯১টি কোমপানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫১টির, কমেছে ১১৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টি কোম্পানির শেয়ারের।

সমপ্রতি অস্বাভাবিক হারে দর বাড়ায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিভিও পেট্রোকেমিকেল কোম্পানির শেয়ার লেনদেন গতকাল মঙ্গলবার স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কর্তৃপক্ষ। এ কোম্পানির শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করছে ডিএসই ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তদন্ত চলাকালীন সময়ে অর্থাত্ মঙ্গলবার এ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়। তবে আজ বুধবার থেকে আবার স্বাভাবিক লেনদেন চলবে বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে।

ফের মূল্যবৃদ্ধির ধারায় পুঁজিবাজার

ফের মূল্যবৃদ্ধির ধারায় পুঁজিবাজার
ডিএসই-৩০ সূচক বাড়ে ৪ দশমিক ২৬ পয়েন্ট। দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের যথাক্রমে ২৬ দশমিক ৭০ ও ১৬ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে। এ দিকে সূচকের উন্নতি ঘটলেও গতকাল বাজারগুলোর লেনদেনে অবনতি ঘটে। ঢাকায় লেনদেন নেমে আসে ৪৬৮ কোটি টাকায়। আগের দিন সোমবার এ বাজারে লেনদেন হয় ৫২১ কোটি টাকা। চট্টগ্রামে ৪৪ কোটি টাকার স্থলে লেনদেন হয় ৪০ কোটি টাকা। গতকাল দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনে টেক্সটাইল ও মূল্যবৃদ্ধিতে প্রাধান্য ধরে রাখে বীমা খাত। ডিএসই’র লেনদেনের শীর্ষ দু’টি কোম্পানি ছাড়াও বাজারটির শীর্ষ বিশে উঠে আসে এ খাতের ছয়টি কোম্পানি। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই লেনদেনে প্রাধান্য ধরে রাখছে টেক্সটাইল খাত। প্রায় প্রতিদিনের লেনদেনের একটি বড় অংশ দখলে রাখার পাশাপাশি ডিএসই’র শীর্ষ কোম্পানির তালিকায় উঠে আসছে এ খাতের বেশ কয়েকটি কোম্পানি। অপর দিকে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ দশে জায়গা করে নেয় বীমা খাতের ছয়টি। এ খাতের তালিকাভুক্ত ৪৬টি কোম্পানির মধ্যে একটি ছাড়া সব কোম্পানিরই শেয়ারের দাম বেড়েছে গতকাল। দীর্ঘ দিন মূল্যস্তর অনেকটা স্থির অবস্থায় কাটানোর পর সোম ও মঙ্গলবার এ দু’দিন উল্লেøখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি ঘটে এ খাতে। মঙ্গলবার মূল্যবৃদ্ধি দিয়েই শুরু হয় দুই পুঁজিবাজারের লেনদেন। প্রথম দিকে সূচকের বড় ধরনের উন্নতিও ঘটে। ঢাকায় ৪ হাজার ২১ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে আধঘণ্টায় ডিএসইএক্স সূচকটি ৪ হাজার ৬৪ পয়েন্টে পৌঁছে। এর পরই বিক্রয়চাপে পড়ে বাজার। পরবর্তী এক ঘণ্টায় সূচকটি আবার নেমে আসে ৪ হাজার ৪২ পয়েন্টে। দুপুর ১২টার দিকে বিক্রয়চাপ কমে গেলে আবার ঊর্ধ্বমুখী হয় বাজার সূচক। এক ঘণ্টার টানা মূল্যবৃদ্ধির পর বেলা ১টায় সূচকটি পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৬৬ পয়েন্টে। লেনদেনের এপর্যায়েই আসে দিনের বড় বিক্রয়চাপটি। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এ চাপ অব্যাহত থাকলে বৃদ্ধি পাওয়া সূচকের মাত্র ৯ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রেখে লেনদেন শেষ করে ডিএসই। এ দিকে লেনদেন হওয়া খাতগুলোর মধ্যে বীমার পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল সিমেন্ট ও নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। অপর দিকে সবচেয়ে খারাপভাবে দিন পার করে ব্যাংক ও মিউচুয়াল ফান্ড। জ্বালানি, রসায়ন, টেক্সটাইল, প্রকৌশল ও সিরামিক খাতে ছিল মিশ্র আচরণ। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ২৯১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বাড়ে ১৫১টির। ১১৬টি দরপতনের শিকার হয়। ২৪টির দর ছিল অপরিবর্তিত। অপর দিকে চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২২৩টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১০৪টির দাম বাড়লেও কমে ১০২টির। ১৭টির দর ছিল অপরিবর্তিত। দিনের বাজার আচরণে কিছুটা পরিবর্তন ঘটে গতকাল। কিছু দিন ধরে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে দুই বাজারের শীর্ষ মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসা কয়েকটি কোম্পানির দরপতন কিছুটা কমেছে। গতকালও এ ধরনের কোম্পানিগুলোর কয়েকটি ডিএসই’র মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এলেও কয়েকটি আবার দরপতনের শীর্ষ তালিকায় চলে আসে। এদের মধ্যে ছিল মডার্ন ডাইং, দেশ গার্মেন্ট, জেএমআই সিরিঞ্জ ও আনলিমা ইয়ার্ন ডাইং। আর এদের পরিবর্তে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসে বীমা খাতের কোম্পানি। তারপরও রহিমা ফুড ও হাক্কানি পেপার মিলের মতো কোম্পানিগুলো গতকালও ডিএসই’র মূল্যবৃদ্ধির তালিকার শীর্ষে ছিল। বাজার আচরণের এ পরিবর্তনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও তারা বিষয়টি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন। তাদের মতে, খাতওয়ারি মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বাজারগুলোতে ভারসাম্য ফিরে আসবে। ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে লাভবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ম্যাধমে বিভিন্ন খাতের ভালো কোম্পানিগুলো উঠে আসবে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায়। তাল্লøু স্পিনিংকে হটিয়ে গতকাল ডিএসই’র লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে একই খাতের সিএমসি কামাল। ১৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় ৫০ লাখ ৪০ হাজার শেয়ার বেচাকেনা হয় কোম্পানিটির। ১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা লেনদেন করে জেনারেশন নেশন ফ্যাশন্স ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসই’র শীর্ষ লেনদেনকারী কোম্পানির মধ্যে আরো ছিল অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, এমআই সিমেন্ট, আর এন স্পিনিং, বঙ্গজ লিমিটেড, তাল্লøু স্পিনিং ও জেএমআই সিরিঞ্জ। গতকাল ডিএসই’র মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল রহিমা ফুড। ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ দাম বাড়ে কোম্পানিটির। ৯.৫৩ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় ছিল হাক্কানি পেপার অ্যান্ড পাল্প। এ ছাড়া উল্লেøখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া অন্য কোম্পানির মধ্যে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স ৯.০৯, পিপলস ইন্স্যুরেন্স ৮.৬৩, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স ৭.৮৭, রূপালী ৭.০০, তাকাফুল ৬.৯৯ ও সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের ৬.৩৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। অপর দিকে দিনের সর্বোচ্চ দর হারায় মডার্ন ডাইং। ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। 
 

টানা পঞ্চম দিনে পুঁজিবাজারের দরপতন

টানা পঞ্চম দিনে পুঁজিবাজারের দরপতন

 

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, শুধু লিখিত আবেদন পেলেই পুঁজিবাজারে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখবে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। গতকাল ডিএসইতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডিএসই প্রেসিডেন্ট এ কথা বলেন। ডিএসই প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা শুনেছি এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজেরাও উপলব্ধি করছি সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কিছু স্বল্প মূলধনী কোম্পানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। কিন্তু যারা এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা এর সঠিক তথ্য তুলে ধরে আমাদের লিখিতভাবে জানাতে হবে। নতুবা ডিএসই কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে কিছুই করার নেই। ডিএসই প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, বিনিয়োগকারীদের কাছে টাকা আছে, তারা যেকোনো শেয়ার যেকোনো দামেই কিনতে পারেন। এতে আমরা কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারি না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ডিএসই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানাতে পারে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, ভবিষ্যতে সার্ভিল্যান্স প্রক্রিয়া আরো শক্তিশালী করা হবে। প্রসঙ্গত কিছু দিন ধরে দেশের দুই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটে চলেছে। গত এক মাসে কোনো কোনো কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে কয়েক শ’ শতাংশ। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে তিনি ইসলামি সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) আয়োজিত পুঁজিবাজারবিষয়ক সম্মেলনে যোগদানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারে ইসলামিক ইনডেক্স গঠনের মাধ্যমে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর বিনিয়োগ আমাদের পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে। এখন এ ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে মালয়েশিয়ার। সঠিক উদ্যোগ নিলে পুঁজির বিশাল এ উৎস থেকে আমরাও উপকৃত হতে পারি। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএসই প্রেসিডেন্ট বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সুদ মওকুফের নেয়া স্কিমের জন্য যে ৩০০ কোটি টাকার তহবিল ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে সেখানে এখনো প্রয়োজনীয় আবেদন জমা পড়েনি। যত দ্রুত এ আবেদন জমা পড়বে তত দ্রুতই এ ব্যাপারে সুরাহা করা হবে। এ দিকে দরপতনের টানা পঞ্চম দিন পার করল দেশের পুঁজিবাজারগুলো। গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দরপতনের এ প্রবণতা গতকাল ২৩ সেপ্টেম্বরও অব্যাহত ছিল। ভালোভাবে দিন শুরু করেও শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারেনি পুঁজিবাজারগুলো। দিনশেষে দুই বাজারেই সূচকের অবনতি ঘটে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ডিএসইএক্স সূচক ১৫ দশমিক ৭০ ও ডিএসই -৩০ সূচক ১৬ দশমিক ৯১ পয়েন্ট হ্রাস পায়। দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচক যথাক্রমে ৩৮ দশমিক ৮২ ও ২৪ দশমিক ২৯ পয়েন্ট অবনতি ঘটে। তবে নেতিবাচক প্রবণতায় দিন অতিবাহিত হলেও গতকাল উভয় বাজারে লেনদেন কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকায় আগের দিনের ৪১৪ কোটি টাকার স্থলে গতকাল লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৫২১ কোটি টাকা। চট্টগ্রামে ৩৬ কোটি টাকা থেকে লেনদেন পৌঁছে ৪৪ কোটি টাকায়। যথারীতি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় গতকাল লেনদেন শুরু হয় দুই পুঁজিবাজারে। প্রথম কয়েক মিনিট সূচকেরও কিছুটা উন্নতি ঘটে। ঢাকা শেয়ারবাজারে আগের দিন লেনদেন শেষ করা ডিএসইএক্স সূচকের চার হাজার ৩৬ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করে প্রথম দিকে সূচকটি চার হাজার ৫৩ পয়েন্টে উঠে যায়। এর পর যথারীতি বিক্রয় চাপের কবলে পড়ে বাজার। দিনের শেষ পর্যন্ত এ মন্দা অব্যাহত থাকলে প্রধান সূচকটির ১৫ দশমিক ৭০ পয়েন্ট হারায় ডিএসই। অপর সূচক ডিএসই-৩০ কমে যায় ১৬ দশমিক ৯১ পয়েন্ট। টানা পাঁচ দিন ধরে দুই পুঁজিবাজার সূচকের এ অবনতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। তারা মনে করেন, কোনো কারণ ছাড়াই টানা পতনের শিকার হচ্ছে পুঁজিবাজারগুলো। কিছু কিছু কোম্পানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি যদিও সূচকের পতন রোধ করছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ভালো শেয়ারগুলো বিশেষ করে ব্যাংক, বীমা ও জ্বালানি খাতের মতো প্রধান প্রধান খাতগুলোতে প্রতিনিয়তই দরপতন ঘটছে। গতকাল ঢাকা পুঁজিবাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশির ভাগ মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে এলেও সূচকের অবনতি রোধ করা যায়নি। কিন্তু এর মধ্যেও থেমে নেই নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। ডিএসইর ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী গতকাল কমপক্ষে ৪৪টি কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৮ শতাংশের বেশি। এদের মধ্যে লেনদেনের বড় একটি সময় ধরে বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের বিক্রেতা ছিল না। গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে টেক্সটাইল খাতের কোম্পানি তাল্লু স্পিনিং। ১৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৪১ লাখ ৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। লেনদেনে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল একই খাতের আর এক কোম্পানি সিএমসি কামাল। ১৬ কোটি টাকা লেনদেন করে কোম্পানিটি। ডিএসইর শীর্ষ ১০ লেনদেনকারী কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস, সায়হাম কটন, আর এন স্পিনিং, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, গ্রামীণফোন, জেএমআই সিরিঞ্জ অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইস ও বঙ্গজ লিমিটেড।

রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালো

রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালো

এমএম মাসুদ: সাত দিনব্যাপী এবারের আয়কর মেলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় বেড়েছে। এবারের মেলায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আদায় হয়েছে ১১১৭ কোটি ৪০ লাখ ২৩,৪৩৯ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ২৩,৪৩৯ টাকা বেশি আদায় হয়েছে। জানা গেছে, ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী জাতীয় আয়কর মেলা শুরু হয় গত ১৬ই সেপ্টেম্বর। শেষ হয় গতকাল। মেলায় সাত দিনই ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে ই-টিআইএন নেয়ায় করদাতাদের আগ্রহ ছিল বেশি। এনবিআর সূত্র জানায়, আয়কর মেলায় ৭ দিনে সারা দেশে মোট ৫ লাখ ১০,১৪৫ জন করদাতা সেবা নিয়েছেন। নতুন করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন ১২,৩৩৭ জন করদাতা। আর ৭৪,৩৫৬ জন করদাতা নতুন ই-টিআইএন পদ্ধতিতে পুনঃনিবন্ধন করেছেন। মোট ১ লাখ ৩২,০১৭টি আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে এবং সর্বমোট আয়কর আদায় হয়েছে ১ লাখ ১১৭ কোটি ৪০ লাখ ২৩,৪৩৯ টাকা। মেলার শেষ দিন গতকাল মোট ১ লাখ ৭৮৭ জন করদাতাকে সেবা প্রদান নিয়েছে। নতুন করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন ২,২৫৬ জন করদাতা। ১৬,৮১০ জন করদাতা নতুন ই-টিআইএন পদ্ধতিতে পুনঃনিবন্ধিত হয়েছেন। আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে ২৯,৩১০টি এবং আয়কর আদায় হয়েছে ৩১৭ কোটি ৭৭ লাখ ২৮,৮৪৯ টাকা। আয়করদাতাদের স্বস্তি, জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল, ডেটাবেইসের (এনআইডি ও আরজেএসসি) তথ্য সমন্বয়ের দেরি হওয়া, সেবাদানকারী ব্যক্তিদের অদক্ষতা ও গ্রাহকদের তুলনায় সেবাকেন্দ্রের অপর্যাপ্ততার মতো বিষয়গুলো ভোগাচ্ছে আয়কর দিতে আসা গ্রাহকদের। তবে এসব ভোগান্তি সত্ত্বেও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে টিআইএন, রি-রেজিস্টেশন নেয়া ও রিটার্ন (আয়কর বিবরণী) জমা দিতে পেরে অনেকই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা কয়েক টিআইএনধারী ও রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তির সঙ্গে কথা হলে তারা এ ব্যাপারে জানিয়েছেন, দেশের করপ্রথায় অনলাইন সিস্টেম চালু হওয়ার ফলেই করদাতারা এ সুযোগটি নিতে পারছেন। এভাবে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনের আওতায় এলে নিঃসন্দেহে রাজস্ব ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও মত প্রকাশ করেন তারা। এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, শুরুতেই অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। এর অর্থ হচ্ছে আয়কর আদায়ের ক্ষেত্রে পরিবেশ কিছুটা হলেও আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। করবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আগামীতে এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। জনগণকে কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে ২০১০ সালে প্রথম আয়কর মেলার আয়োজন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর মেলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। প্রথম দিকে স্বল্প পরিসরে মেলার আয়োজন করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যে জনগণের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ মেলা। স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর প্রদানে এগিয়ে আসার এমন সাফল্যে, পরিসর আরও বাড়িয়ে চলতি বছর সব জেলাতেই আয়কর মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এনবিআর বলেছে, আয়কর মেলা এখন জনগণের প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বিশাল বাজেটের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ১১০০ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা নিয়ে গত ১৬ই সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী সাত দিনের আয়কর মেলার আয়োজন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ঢাকাসহ সাত বিভাগীয় শহরে সাত দিন, ৫৪ জেলায় দুই দিন ও তিন পার্বত্য জেলায় একদিন করে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আয়কর মেলার সমাপনী ও এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. বশির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল, এমপি।
এমএম মাসুদ