১২ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তুষ্ট বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৪২টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পগুলোতে প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৪২টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পগুলোতে প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা রয়েছে।
সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে এক বৈঠকে এ অসন্তুষ্টির কথা জানানো হয়েছে।
এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি কম হওয়ার কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে বিশ্বব্যাংক, ইআরডি ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৪২টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পগুলোতে প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা রয়েছে।
সূত্র জানায়, বাস্তবায়নে গতিহীন এসব প্রকল্পের অধিকাংশেরই মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকলেও অর্থছাড়ে যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে। প্রকল্পগুলোতে জনবল নিয়োগ, ক্রয় প্রক্রিয়ায় জটিলতা এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরিতে ত্রুটি রয়েছে বলে ইআরডিকে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
এ বিষয়ে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব আরাস্তু খান সমকালকে বলেন, মূলত বাস্তবায়নকারী সংস্থার অদূরদর্শিতার কারণে কিছু প্রকল্পের অগ্রগতি কম হয়েছে। এর জন্য প্রধানত প্রকল্প পরিচালকই দায়ী।
তবে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এসব সমস্যাপ্রবণ প্রকল্পসহ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান সব প্রকল্পই পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
সূত্র জানায়, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যাকবলিত ১২ প্রকল্পের অন্যতম হচ্ছে 'চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন' প্রকল্প। ২০১০ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে প্রায় তিন বছরে অর্থছাড় হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৯ হাজার ডলার, যা মোট বরাদ্দের মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ। আগামী ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ।
এ প্রকল্পের এখনও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শেষ হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। দ্বিতীয় প্রকল্পটি হচ্ছে, 'ঢাকা পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্প'। বিশ্বব্যাংকের ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বৈদেশিক সাহায্যের এ প্রকল্পটি শুরু হয় ২০০৮ সালে। গত জুন মাসে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু প্রকল্পটিতে অর্থ ব্যয় হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ মাত্র ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা গেছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে 'ঝরেপড়া শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনা (দ্বিতীয় পর্যায়)' প্রকল্পটির জন্য গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৩ কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এ পর্যন্ত প্রকল্পটি শুরু করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
একইভাবে 'দ্বিতীয় পর্যায়ে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন' প্রকল্পটিও গত বছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হলেও এ পর্যন্ত এক টাকাও ব্যয় করেনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সমস্যাপ্রবণ প্রকল্পগুলোর বেশ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারের সঙ্গে এসব প্রকল্পের বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসতে চায় তারা।
ওই বৈঠকে প্রকল্পগুলোর সমস্যা সমাধানে সরকারের কাছে প্রস্তাব দিতে পারে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
সূত্র জানায়, বাস্তবায়নে পিছিয়ে পড়া অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ১০ কোটি ২২ লাখ ডলারের 'ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্ট'। এ প্রকল্পটিতে বিগত ৬ বছরে ছাড় হয়েছে মাত্র ৩ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।
৬ কোটি ২৬ লাখ ডলার ব্যয়ের 'ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি' নামের প্রকল্পে ৫ বছরে ছাড় হয়েছে মাত্র ৩ কোটি ৫৯ লাখ ডলার।
৬ কোটি ২২ লাখ ডলার ব্যয়ের 'ক্লিন এয়ার অ্যান্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট প্রজেক্টে ৫ বছরে ছাড় কহয়েছে মাত্র ২ কোটি ডলার।
সূত্র জানায়, এছাড়াও বাস্তবায়নে পিছিয়ে পড়া প্রকল্পগুলো হচ্ছে- এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন প্রোগ্রাম, ওয়াইল্ডফিল্ড প্রটেকশন, প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (তৃতীয় পর্যায়)। লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (দ্বিতীয় পর্যায়)।
samakal: অক্টোবর ০৫, ২০১৩