শ্রম অধিকার নিশ্চিত করতে হবে
পোশাকশিল্পের মালিক ও শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে নিশা দেশাইর বৈঠক
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উন্নয়নে কারখানার নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিতকরণের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এসব কাজের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ বিশ্বের ১ নম্বর তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হতে পারে।
রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল রোববার দুপুরে তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতাদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় নিশা দেশাই এসব কথা বলেন। বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা।
দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে নিসা বিসওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের শ্রম অবস্থার উন্নতি করতে শিল্প উদ্যোক্তা, শ্রমিক, সরকার, সুশীলসমাজসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একযোগে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের অগ্রসরমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের একযোগে কাজ করাকে স্বাগত জানাই।’
অন্যদিকে আতিকুল ইসলাম জানান, বিজিএমই শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধাই চায়নি, জিএসপিসুবিধা পুনর্বিবেচনার অনুরোধও করেছে। এ ছাড়া বৈঠকে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর বিষয়টিও সফররত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। সমিতির সভাপতি পোশাক কিনতে ন্যায্য মূল্য প্রদানের জন্য মার্কিন এই মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেন।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বৈঠকে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতায় রপ্তানি কার্যক্রম কীভাবে ব্যাহত হচ্ছে সেই বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তিনি জানান, শুল্কমুক্ত বাজার কিংবা জিএসপিসুবিধা পুনর্বিবেচনার দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন নিশা বিসওয়াল।
বৈঠকে উপস্থিত সমিতির নেতারা জানান, বৈঠকে নিশা দেশাই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সার্বিক অবস্থা জানতে চান। এই অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার যে দৃষ্টিভঙ্গি তা আলোচনায় তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে শিল্পটিতে ইউনিয়নভিত্তিক শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠা ও শিল্পে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
বৈঠকে বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম ও রিয়াজ-বিন-মাহমুদ, সমিতির কয়েকজন পরিচালক ও মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়: এর আগে বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে সকালে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নিশা দেশাই।
বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটি (বিসিডব্লিউএস) সাধারণ সম্পাদক কল্পনা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ও শ্রমিক স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার ও মালিকপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে নিশা দেশাই জানতে চেয়েছেন। এ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা কী কী সে সম্পর্কে তিনি খোঁজ নেন।
রানা প্লাজা ধস ও যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি বাতিলের পর তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে শ্রমিকেরা এ অধিকার কতটা পাচ্ছেন জানতে চান সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ সময় শ্রমিকনেতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের এ অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। অথচ এখানে ট্রেড ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে একধরনের অদৃশ্য চাপের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিকেরা। এ ছাড়া রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকায় (ইপিজেড) ট্রেড ইউনিয়ন না থাকায় এক দেশে দুই আইন চলছে এমন অভিমত দেন শ্রমিকনেতারা।
http://www.prothom-alo.com/economy/article/75874/