Business News

Displaying 61-70 of 170 results.

আয়কর মেলায় সেবা নিলেন সাড়ে ৬ লাখ

জনগণকে আয়কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে করবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি কর কর্মকর্তাদের সম্পর্কে ভয়ভীতি দূর করার পরামর্শ দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। তারা বলেন, শুধু সাধারণ জনগণের ওপর করের বোঝা চাপালেই আদায় বাড়বে না। দেশে অনেক বিত্তবান আছেন, যারা এখনও ঠিকমতো কর দেন না। সামর্থ্যবান ও ধনী এসব ব্যক্তিকে করের আওতায় আনতে হবে। গতকাল রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে আয়কর মেলার ষষ্ঠ দিনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।

 


আয়কর মেলা উপলক্ষে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক ও নির্বাহীদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে এনবিআর। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সভায় কিছু সময়ের জন্য উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামীতে মেলার পরিসর ও সময় আরও বাড়ানো হবে।
সভায় দ্য অবজারভারের সহযোগী সম্পাদক সৈয়দ বদরুল আহসান, সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাশেম হুমায়ুন, বণিক বার্তার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হুমায়রা শারমিন প্রমুখ বক্তব্য দেন। আরও উপস্থিত ছিলেন মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবীর, এনবিআরের সদস্য পারভেজ ইকবাল, আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, আয়কর মেলা এখন উৎসবে পরিণত হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত মেলায় মোট রিটার্ন জমা পড়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৮৫৫টি। কর আদায় হয়েছে ১ হাজার ৬৪০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। মোট সেবা নিয়েছেন সাড়ে ছয় লাখ। মেলা শেষ হওয়ার আগের দিন গতকালও ভিড় ছিল লক্ষণীয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশে আয়কর মেলা শুরু হয়েছে। সাত দিনের এ মেলা শেষ হবে আজ।

তথ্যসূত্র : সমকাল

ভবিষ্যতে আয়কর মেলার সময় বাড়বে : অর্থমন্ত্রী

ভবিষ্যতে আয়কর মেলার সময় ও পরিধি বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সোমবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে আয়কর মেলার ষষ্ঠ দিনে মেলা প্রাঙ্গণে ঝটিকা সফর শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত আয়কর মেলা সোমবার ঢাকাসহ ৭টি বিভাগ ছাড়াও ১৭টি জেলা এবং ৩২টি উপজেলায় (২০টি ভ্রাম্যমাণ) অনুষ্ঠিত হয়। এতে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সেবা নেন করদাতারা। আজ সপ্তাহব্যাপী মেলার শেষ দিন।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন করদাতাদের কর দেয়ার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে আয়কর মেলা সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তাই ভবিষ্যতে আয়কর মেলার সময় ও পরিধি বাড়ানো হবে।
মেলা প্রাঙ্গণে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল অর্থমন্ত্রীর। বিকাল সাড়ে ৩টায় মতবিনিময় সভা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু অর্থমন্ত্রী সভাস্থলে আসেন সাড়ে ৪টায়। এরপর কিছু সময় অবস্থান করে চলে যান তিনি।
এদিকে, দুই দিন বৃষ্টির পর আবারো চেনা রূপে ফিরেছে আয়কর মেলা। ষষ্ঠ দিন সোমবার কিছুট?া বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও করদাতা এবং সেবাগ্রহীতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
করদাতারা জানান, শনি ও রোববার বৃষ্টির কারণে অনেকে মেলায় আসতে পারেননি। তাই গতকাল অনেকে মেলায় এসেছেন। এদিকে, মেলা শেষ হওয়ার পথে, তাই ভিড়ও বাড়ছে। তবে ভিড় হলেও দ্রুত সেবা পেয়ে খুশি সবাই।
মিরপুর থেকে প্রথমবারের মতো রিটার্ন জমা দিতে আসা মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, প্রথম বছর স্ত্রী এবং নিজের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে এসেছেন। শেষদিকে ভিড় হবে না ভেবে সোমবার মেলায় এসেছেন। এত ভিড় হবে জানলে আগেই আসতেন। তবে রিটার্ন ফরম পূরণ এবং কর জমা থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে সেবা পেয়ে খুশি তিনি।
রিটার্ন জমা দিতে আসা ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান জানান, গত ১০ বছর ধরে ব্যবসা করেন এবং কর দেন। কর সম্পর্কে মানুষের মধ্যে যে ভীতি ছিল, মেলায় কর প্রদান দেখে তা মনে হচ্ছে না। আগে কর অঞ্চলে রিটার্ন জমা দিতেন, দুই বছর ধরে শেষ সময়ে মেলায় তা জমা দেন।

তথ্যসূত্র : যায়যায়দিন

কুটির ও মাইক্রো উদ্যোক্তাদের জন্য আইএফআইসি ব্যাংকে ঋণ বিতরণ

আইএফআইসি ব্যাংক কুটির ও মাইক্রো উদ্যোক্তাদের জন্য ‘আইএফআইসি শিল্প-সহায়’ নামে একটি নতুন আর্থিক সেবার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল মতিঝিলে হোটেল পূর্বানীতে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে নতুন এই আর্থিক সেবা উদ্বোধন করেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক নির্মল চন্দ্র ভক্ত, মহাব্যবস্থাপক এসএমইএসপিডি স্বপন কুমার রায় ও ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড ম্যানেজার-ডিএফআইডি ক্রিস অগাস্ট এবং আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শাহ এ সারওয়ার এবং আইএফআইসি ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আল-মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। এস কে সুর চৌধুরী দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যে অন্য ব্যাংককেও কুটির ও মাইক্রো উদ্যোক্তাদের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। উল্লিখিত আইএফআইসি ব্যাংক শিল্প-সহায় প্রকল্পের অধীনে কুটির ও মাইক্রো উদ্যোক্তাদের মাঝে মৃৎশিল্প, জামদানি, পাদুকা শিল্প ইত্যাদি খাতে জামানত বিহীন ঋণ প্রদান করবে।

তথ্যসূত্র : মানবজমিন

দুই মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৬ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আহরণ

অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই হিলি স্থলবন্দর দিয়ে লক্ষ্যমাত্রার বেশি রাজস্ব আহরণ হয়েছে। গত জুলাই ও আগস্টে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আহরণ হয়েছে ১১ কোটি ১৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। এতে স্থলবন্দরটি দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকা বেশি রাজস্ব আহরণ হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত অর্থবছর হিলি স্থলবন্দরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। ফলে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্থলবন্দরটির রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা তুলনামূলক কমিয়ে এনে নির্ধারণ করে। ফলে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই হিলি স্থলবন্দরে লক্ষ্যমাত্রার অনেক বেশি রাজস্ব আহরণ হয়।

হিলি স্থল শুল্কস্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছর হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৩৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সে অনুযায়ী জুলাইয়ে হিলি স্থলবন্দরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে মাস শেষে ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা আহরণ হয়। এছাড়া আগস্টে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৮ কোটি ৫৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

এদিকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫৬ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ওই অর্থবছরের জুলাইয়ে ১১ কোটি ৪২ লাখ ৪৮ হাজার টাকার বিপরীতে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ ৫ হাজার টাকা। এছাড়া আগস্টে ২১ কোটি ৪৫ লাখ ৭২ হাজার টাকার বিপরীতে রাজস্ব আহরণ হয়েছিল ৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। এভাবে গত অর্থবছর শেষে স্থলবন্দরটি দিয়ে মোট রাজস্ব আহরণ হয় ৩০ কোটি ৫৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ফলে রাজস্ব আহরণে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১২৬ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের সহকারী কমিশনার (এসি) মতিয়ার রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বর্তমানে আমদানি হওয়া পণ্যের বেশির ভাগই শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কযুক্ত। তবে দুই মাস ধরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কাঁচামরিচ আমদানি হওয়ায় বন্দর থেকে লক্ষ্যমাত্রার বেশি রাজস্ব আহরণ সম্ভব হয়েছে।

তথ্যসূত্র : বণিক বার্তা

সঞ্চয়পত্রের টাকা জমা হবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা অথবা মূল টাকা সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর সব শাখায় যাতে প্রচার চালানো হয়, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে জারি করে দেশে কার্যরত সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শাখা কর্তৃক সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল টাকা নগদে বা সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় তফসিলি ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এবং এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার চালানোর উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হলো।

তথ্যসূত্র : সমকাল

ডিএসই’র সূচক পুনরায় ৪৮০০ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে

দেশের প্রধান পুঁজি বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ সূচক বাড়লেও শেয়ার লেনদেন কমেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস আজ মঙ্গলবার ইতিবাচক প্রবণতার মধ্য দিয়ে দিনের শেয়ার লেনদেন শেষ হয়। আজ সূচক বেড়ে পুনরায় ৪৮০০ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। তবে বিনিয়োগকারীদের সতর্কাবস্থানে দিনে শেয়ার লেনদেন কিছুটা কম হয়েছে। আজ ডিএসইতে দিনের শেয়ার লেনদেন ৩.৮০ শতাংশ কম হবার মধ্য দিয়ে শেয়ার ট্রেডিং শেষ হয়। আজ ৪২০.৪০ কোটি টাকা মূল্যের ১১.৩১ কোটি শেয়ার হাত বদল হয়। গতকালের চেয়ে শেয়ার লেনদেন ২.২২ শতাংশ কম হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক (ডিএসইএক্স) আগের দিনের চেয়ে ১৫.৬১ পয়েন্ট বেড়ে পুনরায় ৪৮০০.০০ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। ব্ল চীফ ডিএস-৩০ এবং শরীয়াহ ডিএসইএস দিনের শেষে সামান্য বেড়ে যথাক্রমে ১৮৩৭.৬৬ ও ১১৮০.৪২ পয়েন্ট হয়েছে।
আজ দিনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখি প্রবণতার মধ্যদিয়ে দিনের লেনদেন শুরু হয়। তবে বিক্রয় চাপ বেড়ে যাওয়ায় দিনের মাঝামাঝিতে সূচক কিছুটা কমে যায়। দিনের শেষে সূচকে ইতিবাচক প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়।
দাম বাড়ার তালিকায় শীর্ষে ছিল পাওয়ার গ্রীড। পাওয়ার গ্রীডের শেয়ার দর দশ শতাংশ বেড়েছে। বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি।
এছাড়া দর বাড়া কোম্পানির তালিকায় ছিল ব্যাংক, খাদ্য এবং সহযোগি ও টেলিকম সেক্টরের শেয়ার।
দাম কমা শেয়ার কোম্পানির তালিকায় শীর্ষে ছিল বস্ত্র ও এনবিএফআই সেক্টর। দাম কমার তালিকায় শীর্ষে ছিল সোনারগাঁও টেক্সটাইল, দেশবন্ধু, পলিমার, মেঘনা লাইফ, পপুলার লাইফ।
আজ ডিএসইতে মোট ৩২০টি কোম্পানির শেয়ার হাতবদল হয়। এর মধ্যে ১০৬ কোম্পানির শেয়ার দর সামান্য বেড়েছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ইতিবাচক প্রবণতার মধ্য দিয়ে দিনের শেয়ার লেনদেন সম্পন্ন হয়। আজ সিএসইতে মোট ২৪১টি কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তর হয়। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৫টি কোম্পানির শেয়ার। দাম কমেছে ১০৯টি কোম্পানির শেয়ার এবং ২৭টি কোম্পানির শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে। আজ সিএসইতে ২৬.০৩ কোটি টাকা মূল্যের ৯০.২২ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়।

তথ্যসূত্র : কালেরকন্ঠ

প্রথম দিনেই ব্যাপক সাড়া

ধরুন, করের পরিমাণ শুনে মাথা গরম হয়ে গেল। বেড়ে গেল রক্তচাপ কিংবা শরীরে চিনির (সুগার) মাত্রা। অন্য কোনো কারণেও অসুস্থ হতে পারেন, কোনো দুশ্চিন্তা করবেন না। আপনার সেবায় রাজধানীর আয়কর মেলায় একটি প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক ও কয়েকজন সহকারী আছেন।

মেলায় আয়কর-সংক্রান্ত সেবার পাশাপাশি করদাতার চিকিৎসাসেবাও নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে সাত দিনের এ আয়কর মেলা শুরু হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রে ২১ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই শরীরে চিনির মাত্রা বৃদ্ধি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা নিয়ে এসেছেন বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ইশরাত জাহান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।

অন্যবারের মতো এবারও কর মেলায় ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) নিবন্ধন, আয়কর বিবরণী ফরম পূরণ ও জমাসহ সব ধরনের আয়কর সেবা দেওয়া হচ্ছে। আর কর পরিশোধের জন্য ব্যাংক বুথও রয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেলা চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। করদাতাদের বিনোদনের জন্য ফুড কোর্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গতকাল সকালে মেলা শুরুর পর থেকেই করদাতাদের সমাগম বাড়তে থাকে। প্রথম দিনেই কর মেলায় বেশ সাড়া পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলা প্রাঙ্গণে বসে অনেক করদাতা নিজেই আয়কর বিবরণী ফরম পূরণ করছেন। আবার অনেকে কর কর্মকর্তার সহায়তায় ফরম পূরণ করছেন। ফরম পূরণ করে করের টাকা জমার জন্য কেউ কেউ যাচ্ছেন ব্যাংক বুথে। কর পরিশোধের পর এবার কর বিবরণী জমা দেওয়ার পালা। কোনো ঝক্কি-ঝামেলা নেই, মাত্র পাঁচ-ছয় মিনিট সময়ই যথেষ্ট। নির্দিষ্ট কর অঞ্চলের বুথে গেলেই কর্মকর্তারা বিবরণী ফরমটি জমা নিয়ে প্রাপ্তি সনদ দেবেন।এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মেলায় ৫৭ হাজার ৪৭ জন কর সেবা নিয়েছেন। আর আয়কর বিবরণী জমা পড়েছে ১৪ হাজার ৯৯৮টি। এতে এনবিআরের রাজস্ব প্রাপ্তি হয়েছে ১৫৩ কোটি ২০ লাখ ১ হাজার ৯৬২ টাকা। অন্যদিকে নতুন ই-টিআইএন নিয়েছেন ২ হাজার ৭০৫ জন। আর পুরোনো টিআইএন বদলে ই-টিআইএন নিয়েছেন ৮২৭ জন।
মেলায় প্রত্যেক কর অঞ্চলের জন্য আলাদা বুথ খোলা হয়েছে। কোথায় কোন সেবা পাওয়া যাবে—এ তথ্য জানাতে মেলা প্রাঙ্গণে স্কাউট সদস্যরা আছেন। আর মুক্তিযোদ্ধা, নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ করদাতাদের জন্য আলাদা বুথ রয়েছে।
কামাল উদ্দিন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, থাকেন শাহজাহানপুরে। গতকাল দুপুরে তিনি মেলায় এসে আয়কর বিবরণী জমা দিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে জানান, হয়রানি এড়াতে তিনি প্রথমবারের মতো মেলায় বিবরণী জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কর কার্যালয়ে বিবরণী জমা দিলে কর্মকর্তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এই কাগজ চান, ওই কাগজ চান। মেলায় কোনো হয়রানি নেই।’
হয়রানি হচ্ছে কি না এমন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনবিআরের সদস্য আবদুর রাজ্জাক দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, করদাতারা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য সর্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে জমা দেওয়া হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রাপ্তি সনদ দেওয়া হচ্ছে। পরে কোনো হিসাব-নিকাশে ভুল থাকলে করদাতাকে নোটিশ দেওয়া হবে।

সকালে মেলার উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে সবাইকে কর দেওয়া উচিত। জনগণের দেওয়া করই রাষ্ট্রের আয়। রাষ্ট্রের আয় জনগণের উন্নয়নে ব্যয় হয়। জনগণই এর সুফল পায়। তিনি মনে করেন, দেশি সম্পদে পদ্মা সেতুর মতো বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হলেই বেশি লাভ। কেননা বিদেশি টাকায় প্রকল্প নিলে পরামর্শক সেবায় অনেক অর্থ চলে যায়।

একই অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান সবাইকে কর দেওয়ার আহ্বান জানান।

এ বছর রাজধানীসহ দেশের সব বিভাগীয় শহর, জেলা শহরের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ৮৬টি উপজেলায় এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরে সাত দিন, অন্য সব জেলা শহরে চার দিন, ২৯টি উপজেলায় দুই দিন এবং ৫৭টি জেলায় এক দিনের ভ্রাম্যমাণ কর মেলা হবে। ১৬ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

২০১০ সালে প্রথমবার ঢাকা ও চট্টগ্রামে আয়কর মেলার আয়োজন করা হয়। এরপর প্রতিবছরই মেলার পরিধি বেড়েছে। আর করদাতাদের মধ্যে কর মেলা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

তথ্যসূত্র : প্রথমআলো

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাড়াতে হবে করের আওতা

কর প্রদান পদ্ধতি সহজ করা, করের আওতা বাড়ানো এবং ব্যবসার লাভ-ক্ষতি বিবেচনায় এনে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের তাগাদা দিয়েছেন ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদরা। একই করদাতার ওপর বারবার কর আদায়ের সমালোচনা করলেও বক্তারা একবাক্যে স্বীকার করেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আয়কর আদায় বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। গতকাল মঙ্গলবার আয়কর দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁরা এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম কর বিভাগের পক্ষ থেকে নগরের চট্টগ্রাম কর ভবন-২-তে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম জেলা, কক্সবাজার জেলা, তিন পার্বত্য জেলা, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির মোট ২৭ করদাতাকে সম্মাননা জানানো হয়। প্রধান অতিথি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও বিশেষ অতিথি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সর্বোচ্চ ও দীর্ঘমেয়াদি করদাতাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

প্রধান অতিথি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশে ছয় কোটি ব্যবসায়ী থাকলেও কর দেয় মাত্র চার কোটি, বাকিদের করের আওতায় না আনা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ব্যর্থতা। একই করদাতাদের বারবার করারোপ না করে করবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে নতুন করদাতা বাড়িয়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পরিকল্পনা নিতে হবে।

কর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায় লাভ-ক্ষতি বিবেচনায় এনে কর আদায় করতে হবে। আর ঠিক সময়ে কর দিতে না পারলে জরিমানার হার আরো একটু কমানো দরকার।

কর মানে রাষ্ট্রের হক, সুতরাং সেই হক প্রদান সবার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য উল্লেখ করে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, 'আপনারা ভালো সড়ক, অবকাঠামো চাইবেন, সুন্দর পরিচ্ছন্ন নগর চাইবেন, কিন্তু কর দেবেন না তা হবে না। দেশে মোবাইল ফোন গ্রাহকের সংখ্যা ১২ কোটি হলেও করদাতার সংখ্যা মাত্র ১২ লাখ, এটা অস্বাভাবিক। তারাও বাধ্য হয়ে দিচ্ছে। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে কর দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।' বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় এনবিআর সদস্য (শুল্কনীতি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পদ্ধতি আগামী এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে। ফলে অডিটের ক্ষেত্রে কর কর্মকর্তাদের বাছাই, আচরণ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত (ইনটেনশন) কোনো প্রভাব ফেলবে না। সিস্টেমই প্যারামিটারের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেগুলো বাছাই করবে।

তথ্যবহুল বক্তৃতায় ফরিদ উদ্দিন বলেন, বিগত অর্থবছরে আয়কর খাতে রাজস্ব আয়ের ৫৩ শতাংশই উৎসে আয়কর খাত থেকে জমা পড়েছে। কিন্তু স্বেচ্ছায় করদাতা খুব সামান্য। অনুষ্ঠানে কর দিবস উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক কাজী ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার সভাপতি আলহাজ খলিলুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।

তথ্যসূত্র : কালেরকন্ঠ

রাজস্ব ফাঁকি ৪০ কোটি টাকা

ভারত থেকে রেমন্ড ব্র্যান্ডের কাপড় আমদানিতে ঢাকার তিনটি প্রতিষ্ঠান ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ইসলাম ট্রেডার্স, রিলায়েন্স ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও টপটেন ফেব্রিকস অ্যান্ড টেইলার্স।

শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট কার্যালয় এ ফাঁকি উদ্ঘাটন করে ২ সেপ্টেম্বর ৩৫ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান তিনটির কাছ থেকে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে।
যোগাযোগ করলে কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবীর গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিন প্রতিষ্ঠানে শুধু রেমন্ড ব্র্যান্ডের কাপড়েই আমরা প্রায় ৪০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পেয়েছি। এ ধরনের ঘটনা আরও আছে বলে মনে হয়।’
ফাঁকি উদ্ঘাটনে গত জুলাইয়ে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে ঢাকা শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট কার্যালয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলাম ট্রেডার্স ও রিলায়েন্স ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল একই মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং ইসলাম ট্রেডার্সের একার ফাঁকিই ১৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আর রিলায়েন্স ট্রেডের ফাঁকি ১৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা। অন্যদিকে টপটেন ফেব্রিকস ফাঁকি দিয়েছে ৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
প্রতিবেদন তৈরিতে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছ থেকে তথ্যও নিয়েছে তদন্ত দল। হাইকমিশনের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর নাহিদ রশীদ নয়াদিল্লিতে থাকা রেমন্ডের শোরুমগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে গত ২৩ জুন এক চিঠিতে রেমন্ডের কাপড়ের মূল্যের তথ্য জানান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলাম ট্রেডার্স ও রিলায়েন্স রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে তিনটি উপায়ে। এগুলো হচ্ছে আন্ডারইনভয়েসিং বা মূল্য কম দেখিয়ে শুল্ক কম দেওয়া, আমদানি-পরবর্তী সংযোজনের ওপর মূসক না দেওয়া এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও বন্ডেড সুবিধায় পণ্য আমদানি। প্রতিষ্ঠান দুটি পণ্য আমদানি করেছে কেজিতে।
সর্বনিম্ন মূল্য বিবেচনায় নিলেও রিলায়েন্স ট্রেডের প্যান্ট-স্যুটের ঘোষিত মূল্য হবে প্রতি কেজি ৯ দশমিক ৮০ ডলার। অথচ প্রতিষ্ঠানটি দেখিয়েছে ২ দশমিক ৬৫ ডলার। যদিও শুল্কায়ন হয়েছে ৩ দশমিক ০৬ ডলারে।
আর টপটেন ফেব্রিকস বন্ডেড সুবিধায় আমদানি না করলেও রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে অন্য দুই পদ্ধতিতে। এ প্রতিষ্ঠান কাপড় এনেছে মিটারে এবং প্যান্ট-স্যুটের কাপড়ের দাম দেখিয়েছে মিটারপ্রতি শূন্য দশমিক ৭২ ডলার। তবে শুল্কায়ন হয়েছে শূন্য দশমিক ৯৬ ডলারে। অথচ কম করে ধরলেও মূল্য হবে ৫ দশমিক ৭৯ ডলার। নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, মিটারপ্রতি এই দর কয়েক গুণ বেশি।
আন্ডারইনভয়েসিংয়েই বেশি ফাঁকি: প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, আন্ডারইনভয়েসিং বা মূল্য কম দেখিয়েই বেশি ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ট্রেডার্স এবং রিলায়েন্স ট্রেড ঢাকা ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস দিয়ে ভারত থেকে রেমন্ড ব্র্যান্ডের প্যান্ট, শার্ট ও স্যুটের কাপড় আমদানি করে।
তদন্ত দল ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আমদানি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, দুই বছরে প্রতিষ্ঠান দুটি ফাঁকি দিয়েছে ৩০ কোটি ৮১ লাখ টাকা। প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্ডারইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে ইসলাম ট্রেডার্সের ফাঁকি ১৩ কোটি ৩৬ লাখ ও রিলায়েন্স ট্রেডের ফাঁকি ১০ কোটি ১৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।
ইসলাম ট্রেডার্সের বন্ডেড লাইসেন্স না থাকলেও গত ২২ মার্চ বন্ড সুবিধার আওতায় রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে ৯ লাখ ৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া আমদানি-পরবর্তী সংযোজনের ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ফাঁকি দিয়েছে ৪ কোটি ১৫ হাজার টাকা। রিলায়েন্স ট্রেডও বন্ডেড সুবিধায় ৩৭ হাজার এবং আমদানি-পরবর্তী সংযোজনের ওপর মূসক ফাঁকি দিয়েছে ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
টপটেন আন্ডারইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে ৭ কোটি ৬৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আর আমদানি-পরবর্তী মূল্য সংযোজনের ওপর মূসক ফাঁকি দিয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।
জানতে চাইলে ইসলাম ট্রেডার্স ও রিলায়েন্স ট্রেডের স্বত্বাধিকারী আমিরুল ইসলাম গতকাল মোবাইলে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর কোনো প্রতিষ্ঠান রাজস্ব ফাঁকি দেয়নি, সরকার অবরোহী পদ্ধতিতে হিসাব করেছে, যা আদালতেও গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মনে করেন।
একই দাবি করেন টপটেন ফেব্রিকসের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ হোসেনও। তিনি বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানও রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে না। এর সপক্ষে তিনিও কোনো যুক্তি দেখাতে পারেননি।

তথ্যসূত্র : প্রথমআলো

চট্টগ্রামে ভ্যাট আপিল ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের দাবি

চট্টগ্রামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প-কারখানার মামলা জটিলতা দ্রুত নিরসনে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামে স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে এই দাবি জানান তিনি।

এফবিসিসিআই সহসভাপতি মাহবুবুল আলম এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পসহ বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের দপ্তর এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি তিনটি ইপিজেড এবং বেসরকারি বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামে রয়েছে। এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানিসহ উৎপাদন এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের শুল্কায়ন ও ভ্যাট জটিলতাসংক্রান্ত কারণে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়ে থাকে। কিন্তু আপিলাত ট্রাইব্যুনাল ঢাকায় অবস্থিত হওয়ায় চট্টগ্রাম থেকে নিয়মিত ঢাকা গিয়ে মামলাসংক্রান্ত কাজ সমাধান করতে গলদঘর্ম হতে হয়। এতে ব্যবসায়ীদের যেমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তেমনি সংশ্লিষ্ট শুল্ক কর্মকর্তাদেরও চট্টগ্রাম-ঢাকা দৌড়াদৌড়ি করতে হয়।

দেশের বেশির ভাগ আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয় ও বিড়ম্বনা রোধসহ চট্টগ্রাম বিভাগের মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে আপিলাত ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামে স্থাপনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান চেম্বার সভাপতি।

তথ্যসূত্র : কালেরকন্ঠ