Business Blog

Displaying 21-30 of 60 results.

আয়কর আইনে কি ধরনের আয় হিসেবে আনতে হবে অর্থাৎ আয়ের খাতসমূহ : বেতন

আয়কর অধ্যাদেশের ধারা-২০ মোতাবেক আয়কর ধার্য্যরে জন্য এবং মোট আয় নির্ণয়ের জন্য সকল আয়কে নিম্নেবর্ণিত খাতে বিভক্ত করে হিসাবে করতে হবে, যথাঃ
 

(১) বেতন
২১(১) বেতনাদি (আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ২১ এবং আয়কর বিধিমালা ১৯৮৪ এর বিধি ৩৩ অনুযায়ী)
সাধারণতঃ মূল বেতন উৎসব ভাতা, মহার্ঘ ভাতা, পরিচারক ভাতা, সম্মানী ভাতা, ওভারটাইম ভাতা, স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত চাঁদা এবং বিভিন্ন পারকুইজিটস (সুবিধা) বেতন খাতের করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হয়। বেতনাদি ঘরটি পূরণ করার আগেই রিটার্ন ফরমের (আইটি ১১গ) তৃতীয় পৃষ্ঠায় বর্ণিত তফসিল-১ (বেতনাদি) পূরন করিতে হইবে। প্রয়োজনে করদাতা পৃথক কাগজে বেতন খাতের আয়ের হিসাব সংযোজন করিতে পারিবেন। তফসিল-১ (বেতনাদি)  পূরণের পদ্ধতি নিচে আলোচনা করা হলো- (সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারি ব্যতীত)অর্থ আইন ২০১৬ দ্বারা নতুন রিটার্ন ফরমের সাথে তফসিল ২৪এ প্রবর্তন করা হয়েছে।

আয়ের বিস্তারিত বিবরণী সম্বলিত তফসিল-১ (বেতনাদি)
(সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী ব্যতীত)

বেতন ও ভাতাদি আয়ের
পরিমাণ (টাকা)
কর মুক্ত আয়ের পরিমাণ
টাকা
নীট করযোগ্য আয়
(টাকা)
মূল বেতন   করমুক্ত নয় সম্পূর্ণ অংশ করযোগ্য।
মহার্ঘ ভাতা   করমুক্ত নয় সম্পূর্ণ অংশ করযোগ্য।
যাতায়াত ভাতা (নগদে গৃহীত)   ৩০,০০০/- টাকা পর্যন্ত করমুক্ত ৩০,০০০/- টাকা বাদ দিলে
যে অংশ অবশিষ্ট থাকে।
বাড়ী ভাড়া ভাতা (নগদে গৃহীত)   ৩,০০,০০০/-টাকা বা মূল বেতনের
৫০% এর মধ্যে যেটি কম তা করমুক্ত।
অবশিষ্ট অংশ
চিকিৎসা ভাতা   প্রাপ্ত মূল বেতনের ১০% অথবা বার্ষিক
১,২০,০০০/- টাকা, এ দুটির মধ্যে যেটি কম
সে পরিমাণ অংক
- প্রাপ্ত ভাতার অবশিষ্ট অংশ
- প্রতিবন্ধী এমপ্লয়ির ক্ষেত্রে ১০
লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ভাতা কর মুক্ত আয় হিসেবে গণ্য হবে।
- কোম্পানীর শেয়ার হোল্ডার পরিচালক ব্যতীত অন্য কোন এমপ্লয়ির ক্ষেত্রে হার্ট, কিডনি, চক্ষু, লিভার এবং ক্যান্সার সার্জাারীর জন্য প্রাপ্ত চিকিৎসা খরচ কর মুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
পরিচারক ভাতা   করমুক্ত নয় সম্পূর্ণ অংশ
ছুটি ভাতা   করমুক্ত নয় সম্পূর্ণ অংশ
সম্মানী/পুরস্কার/ফি   করমুক্ত নয় সম্পূর্ণ অংশ
ওভারটাইম ভাতা/মহার্ঘভাতা   করমুক্ত নয় সম্পূর্ণ অংশ
উৎসব ভাতা   করমুক্ত নয় সম্পূর্ণ অংশ
স্বীকৃত ভবিষ্যৎ তহবিলে
নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত চাঁদা
  করমুক্ত নয় সম্পূর্ণ অংশ
স্বীকৃত ভবিষ্যত তহবিলে অর্জিত সুদ   মূল বেতনের ১/৩ অংশ পর্যন্ত প্রাপ্ত সুদ
(এখানে বেতন বলতে মূল বেতন এবং
মহার্ঘ ভাতা বুঝাবে) অথবা সরকার কর্তৃক
নির্ধারিত হার ১৪.৫০% এ দুয়ের মধ্যে
যেটি কম
এর অতিরিক্ত করযোগ্য।
যানবাহন সুবিধার জন্য বিবেচিত আয়  

যদি করদাতা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নিয়োগকর্তার নিকট থেকে গাড়ী পান তাহলে মূল বেতনের ৫% সরাসরি নীট করয্যোগ্য আয় হবে। অথবা সর্বনিম্ন বার্ষিক ৬০,০০০/- টাকা, দুটির মধ্যে  যেটি বেশি বলে অনুমিত আয় হিসাবে গণ্য হবে।

 

মূল বেতনের ৫%
বা ৬০,০০০/- যেটি বেশি।
বিনামূল্যে বা হ্রাসকৃত ভাড়ায় প্রাপ্ত বাসস্থানের জন্য বিবেচিত আয়  

ক। যদি করদাতা নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত বিনা ভাড়ায় সজ্জিত বা অ-সজ্জিত বাসস্থানে বাস করেন তাহলে সাধারণ ভাবে মূল বেতনের ২৫% করযোগ্য আয় হিসাবে গণ্য হবে।

খ। যদি করদাতা নিয়োগকর্তা থেকে হ্রাসকৃত ভাড়ায় সজ্জিত বা অ-সজ্জিত বাসস্থান প্রাপ্ত হন সেক্ষেত্রে সাধারণভাবে মূল বেতনের ২৫% হতে প্রকৃত পরিশোধিত ভাড়া বাদ দিয়ে পার্থক্য করযোগ্য আয় হিসাবে গণ্য হবে।

মূল বেতনের ২৫%
যোগ হবে।

পার্থক্য করযোগ্য আয় হবে = *
বাদঃ প্রকৃত ভাড়া           =*
খ) মূল বেতনের ২৫%     = *

অন্যান্য, যদি থাকে (বিবরণ দিন)   করদাতা যদি নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত বাসস্থানে দারোয়ান, মালি, বাবুর্চী কিংবা অন্য কোন সুবিধা পেয়ে থাকেন তবে প্রাপ্ত সুবিধার সমপরিমাণ আর্থিক মূল্য করযোগ্য আয় হিসাবে দেখাতে হবে।  
ছুটি নগদায়ন   করমুক্ত নয়। করযোগ্য
পেনশন   করমুক্ত। শূণ্য
গ্র্যাচুইটি   ২.৫ কোটি টাকা পর্যন্ত করমুক্ত। ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত অংক করযোগ্য
Workers Participation Fund   ৫০,০০০/- টাকা পর্যন্ত করমুক্ত।

৫০,০০০/- টাকার অবশিষ্ট অংশ

সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতন খাতে আয় নিরূপনঃ
সরকারি কর্মকর্তাকর্মচারীদের বেতন-ভাতাদির উপর আয় পরিগণনার জন্য একটি প্রজ্ঞাপন এস,আর,ও নং ১৯৮-আইন-আয়কর/২০১৫, তারিখ: ৩০ জুন, ২০১৫ জারি করা হয়েছে। এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে  একজন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সরকার কর্তৃক প্রদত্ত মূল বেতন (basic salary), উৎসবভাতা এবং বোনাস ব্যতীত সকল প্রকার ভাতা ও সুবিধাদিকে এতদ্বারা প্রদেয় আয়কর হইতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
২০১৬-১৭  কর বছরের  আয়কর রিটার্নে এক অর্থ বছরে প্রাপ্ত মূল বেতন বোনাস ও উৎসব ভাতা করযোগ্য আয় হিসেবে প্রদর্শন করতে হবে এবং সে অনুযায়ী প্রদেয় করের পরিমাণ পরিগণনা  করতে  হবে। সামরিক বাহিনীতে কর্মরতদের ক্ষেত্রেও এ বিধান সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
উদাহরণের সাহায্যে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর আয় এবং কর পরিগণনা নিম্নে দেখানো হলঃ
(ক)  জনাব লিয়াকত  বাংলাদেশ সচিবালয়ে কর্মরত একজন সরকারি কর্মকর্তা। ৩০ জুন, ২০১৬  তারিখে সমাপ্ত অর্থ বছরে তিনি নিম্নোক্ত হারে বেতন ভাতাদি পেয়েছেনঃ
    মাসিক মূল বেতন  ৩৩,২০০/-
    চিকিৎসা ভাতা        ১৫০০/-
    নববর্ষ ভাতা         ৬,৬৪০/-
তিনি সরকারি বাসায় থাকেন ভবিষ্য তহবিলে তিনি প্রতি মাসে ৫০০০/- টাকা জমা রাখেন। হিসাব রক্ষণ অফিস হতে প্রাপ্ত প্রত্যয়ন পত্র হাতে দেখা যায় যে, ৩০/০৬/২০১৬ তারিখে ভবিষ্য তহবিল অর্জিত সুদের পরিমাণ ছিল ৩০,৫০০/- টাকা। কল্যাণ তহবিলে ও  গোষ্ঠী বীমা তহবিলে চাঁদা প্রদান বাবদ প্রতিমাসে বেতন খাতে কর্তন ছিল যথাক্রমে ৫০/- ও ৪০/- টাকা। এছাড়াও তিনি একটি তফসিল ব্যাংকের ডিপোজিট পেনশন স্কীম মাসিক ৩,০০০/- টাকার কিস্তি জমা। ২০১৬-২০১৭ করবছরে জনাব লিয়াকত সাহেব এর মোট আয় এবং করদায় কত হবে তা নিম্নে  পরিগণনা করা হলোঃ
বেতন খাতে আয় ঃ
মূল বেতন (৩৩,২০০/- × ১২ মাস)                       =   ৩,৯৮,৪০০/-
বোনাস (৩৩,২০০×২)­                                      =      ৬৬,৪০০/-
চিকিৎসা ভাতা (১৫০০×১২)            =      ১৮,০০০/-                
(-) করমুক্ত                          ১৮,০০০/-                        -
নববর্ষ ভাতা   ৬,৬৪০/- সম্পূর্ণ কর মুক্ত                               -      
    মোট আয়                                                  =   ৪,৬৪,৮০০/-
কর দায় পরিগণনাঃ
প্রথম ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত  ‘শূন্য’ হার
অবশিষ্ট ২,১৪,৮০০ টাকা পর্যন্ত  ১০% হারে       ২১,৪৮০/-
    মোট কর দায় =                                  ২১,৪৮০/-
বিনিয়োগ জনিত আয়কর রেয়াত পরিগণনা
প্রকৃত বিনিয়োগের পরিমাণঃ
১। ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা (৫,০০০×১২)                     = ৬০,০০০/-
২। কল্যাণ তহবিলে চাঁদা (৫,০×১২)                        =     ৬০০/-
৩। গোষ্ঠী বীমা তহবিলে চাঁদা (৪০×১২)                     =     ৪৮০/-
৪। ডিপোজিট পেনশন স্কীমে কিস্তি (৩,০০০×১২)          = ৩৬,০০০/-
     মোট প্রকৃত বিনিয়োগ                                    = ৯৭,০৮০/-    
রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount)ঃ

(ক) মোট প্রকৃত বিনিয়োগ               ৯৭,০৮০/-
(খ) সর্বোচ্চ সীমা মোট আয়ের ৪,৬৪,৮০০ টাকা ২৫%         ১,১৬,২০০/-
(গ)         ১,৫০,০০,০০০/-
অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) (ক) বা (খ) বা (গ) এই
তিনটির মধ্যে যেটি কম                      ৯৭,০৮০/-

 

কর রেয়াতের পরিমাণঃ
করদাতার মোট আয় ১০ লক্ষ টাকার অধিক না হওয়ায় কর রেয়াতের পরিমাণ হবে অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) ৯৭,০৮০ এর ১৫% অর্থাৎ (৯৭,০৮০ × ১৫%) = ১৪,৫৬২/-
ফলে প্রদেয় করের পরিমাণ হবে ২১,৪৮০-১৪,৫৮২ = ৬,৮৯৮/-

(২) নিরাপত্তা (সিকিউরিটির) উপর সুদ
(৩) গৃহ সম্পত্তি হতে  আয়
(৪) কৃষি আয়
(৫) ব্যবসা বা পেশা হতে আয়
(৬) ফার্মের আয়ের অংশ
(৭) অন্যান্য উৎস হতে আয়
(৮) মূলধনী আয়
(৯) স্বামী/স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের আয়

পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী এবং জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণী

যদি কোন ব্যক্তি-করদাতা নিম্নোক্ত শর্তসমূহ পূরণ করেন তাহলে আয় বছরের শেষ তারিখে তার নিজের, spouse এর (spouse করদাতা না হয়ে থাকলে) এবং নির্ভরশীল সন্তানদের পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী ঐ ব্যক্তির আয়কর রিটার্নের সাথে দাখিল করতে হবে। শর্তসমূহ হলো-
১. আয় বছরের শেষ তারিখে মোট পরিসম্পদ (gross wealth) এর পরিমাণ ২০ লক্ষ টাকার অধিক হলে; অথবা
২. আয় বছরের শেষে তারিখে মোট গাড়ি (জীপ বা মাইক্রোবাসসহ) এর মালিকানা থাকলে; অথবা
৩. আয় বছরে কোন সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কোন গৃহ-সম্পত্তি বা এপার্টমেন্টের মালিক হলে অথবা গৃহ-সম্পত্তি বা  এপার্টমেন্টে বিনিয়োগ করলে।
কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে উপরে বর্ণিত শর্তসমূহ পূরণ না হলে পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী দাখিল করা তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে বর্ণিত শর্তসমূহ পূরণ না করা সত্বেও কোন ব্যক্তি করদাতা চাইলে স্ব-প্রণোদিতভাবে (Voluntarily) পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী দাখিল করতে পারবেন। উপরোক্ত শর্তসমূহ পূরণ না করার কারণে  পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী দাখিল করেননি এমন যেকোন ব্যক্তিকে উপ কর কমিশনার ধারা ৮০ এর উপধারা (৩) অনুযায়ী নোটিশ প্রেরণ করে পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী দাখিল করার জন্য বলতে পারবেন।

(ক). সম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী (ফরম আইটি-১০বি, আইটি-১০বিবিবি, আইটি-১০বিবিবিবি ও আইটি১০বি২০১৬)

আইটি-১০বিঃ  যে সকল করদাতা প্রচলিত রিটার্ন ফরম অর্থাৎ আইটি-১১গ এর মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন তাদের ক্ষেত্রে এ বিবরণীটি প্রযোজ্য হবে।
আইটি-১০বিবিবিঃ  যে  সকল  বেতনভোগী  করদাতা  সহজীকৃত রিটার্ন ফরম অর্থাৎ আইটি-১১ঙ  এর মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন তাদের ক্ষেত্রে এ বিবরণীটি প্রযোজ্য হবে।
আইটি-১০বিবিবিবিঃ  ব্যবসা  বা  পেশার  ক্ষেত্রে  ৩  লক্ষ  টাকা  পর্যন্ত  আয় বিশিষ্ট করদাতাদের যারা যে সকল করদাতা সহজীকৃত রিটার্ন ফরম অর্থাৎ আইটি-১১চ এর মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন তাদের ক্ষেত্রে এ বিবরণীটি প্রযোজ্য হবে।
আইটি-১০বি২০১৬ঃ সকল ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতা যারা নতুন ফরম অর্থাৎ, আইটি-১১গ২০১৬ এর মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে তাদের ক্ষেত্রে এ বিবরণটি প্রযোজ্য হবে

ব্যক্তি করদাতার স¤পদের পরিমাণ যা-ই হোক না কেন তাঁকে স¤পদ ও দায়ের বিবরণী এবং জীবন যাত্রার মান স¤পর্কিত তথ্য বিবরণী পূরণ করতে হবে।  যে সকল করদাতা প্রচলিত রিটার্ন ফরমের (আইটি-১১গ) মাধ্যমে তাঁদের  আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন সে সকল  করদাতা  আইটি  ১০বি, যে সকল বেতনভোগী করদাতা আইটি-১১ঙ এর মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন সে সকল করদাতা আইটি-১০বিবিবি  এবং যে সকল পেশাজীবি বা ব্যবসায়ী করদাতা আইটি-১১চ এর মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দখিল করবেন  সে সকল করদাতা আইটি-১০বিবিবিবি পূরণের মাধ্যমে তাঁদের সম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করবেন।

আয় বছরের শেষ তারিখে (যেমন ২০১৬-২০১৭ কর বছরের জন্য ৩০/০৬/২০১৫  ইং তারিখে) যে স¤পদ ও দায় রয়েছে করদাতাকে তা স¤পদ ও দায় বিবরণীতে দেখাতে হবে। করদাতা তাঁর নিজের, তাঁর  স্ত্রী  বা স্বামী (তাঁরা রিটার্ন দাখিলকারী না হলে) বা নাবালক সন্তানের যাবতীয় পরিস¤পদ ও দায়, স¤পদ ও দায় বিবরণীতে দেখাবেন। স¤পদ ও দায়ের বিবরণীতে দেখানো কোন স¤পদ কিভাবে অর্জিত হয়েছে তার ব্যাখ্যা থাকতে  হবে। অর্থাৎ  কোন  স¤পদ  কেনা  হয়ে  থাকলে  ক্রয়মূল্য  বাবদ  পরিশোধিত অর্থের উৎস স¤পর্কে তথ্য দিতে হবে। করদাতা  যদি কোন স¤পদ দান হিসেবে পেয়ে থাকেন  তাহলে  দানকারীর  নাম,  ঠিকানা ও  ই-টিআইএন উল্লেখ করতে হবে এবং দানের স্বপক্ষে কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। করদাতা নিজেও যদি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দান করেন  বা ঋণ দিয়ে থাকেন, তাহলে যিনি দান বা ঋণ গ্রহণ করেছেন তাঁর নাম, ঠিকানা এবং টিআইএন উল্লেখ করতে হবে।

করদাতা যদি কোন ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান বা কোন ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন তাহলে  তা  স¤পদ ও দায়ের  বিবরণীর ”বাদঃ  দায়সমূহ” অথবা  ইংরেজী  ফরমের “Less:Liabilities” অংশে দেখাতে হবে।

সম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী পূরণের ক্ষেত্রে নিম্ন লিখিত বিষয়গুলি পালন করতে হবেঃ
●  সম্পদ বিক্রয় বা হস্তান্তর বা নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত  তার ক্রয় বা অর্জিত  মূল্যে প্রদর্শন করে যেতে হবে;
●  নতুন স¤পদ ক্রয় করলে তার ক্রয়মূল্য প্রদর্শন করতে হবে;
●  স¤পদ অজর্ন করলে (দান বা উত্তরাধিকার সূত্রে) অর্জনকালীন সময়ের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রদর্শন করতে হবে;

যেকোন স¤পদ তা ক্রয় বা অন্য যে কোনভাবে অর্জিত হোক না কেন তা স¤পদ বিবরণীতে  ঘোষণা করা না হলে আয়কর আইন অনুযায়ী তা স¤পদ গোপন করা হিসেবে গণ্য হবে।

স¤পদের মোট পরিবৃদ্ধি অর্থাৎ সম্পদের পরিবৃদ্ধি অংশে প্রাপ্ত অংকের সাথে পারিবারিক ব্যয় যোগ করে যে যোগফল পাওয়া যাবে তা  “মোট সম্পদ পরিবৃদ্ধি” অংশে দেখাতে হবে। অপরপক্ষে স¤পদের  পরিবৃদ্ধি ঋণাত্বক হলে তা থেকে পারিবারিক ব্যয় বিয়োগ করে যে পার্থক্য পাওয়া যাবে তা “মোট সম্পদ পরিবৃদ্ধি” অংশে দেখাতে হবে।

”অর্জিত তহবিল” অংশে বিবেচনাধীন করবর্ষে রিটার্নে  প্রদর্শিত আয়, কর অব্যাহতি প্রাপ্ত ও করমুক্ত আয় এবং নিজস্ব আয় ব্যতীত অন্য কোন প্রাপ্তি থাকলে দেখাতে হবে।

“পার্থক্য” বলতে “সম্পদের মোট পরিবৃদ্ধি” এবং “অর্জিত তহবিল  সমূহ” এর যোগফলের পার্থক্য  বুঝানো  হয়েছে। সাধারণভাবে  অর্জিত  তহবিলের  যোগফল  দ্বারা স¤পদের মোট পরিবৃদ্ধির সংকুলান হতে হবে। সম্পদের পরিবৃদ্ধি অর্জিত তহবিলের চাইতে বেশী  হলে এবং তার কোন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না থাকলে স¤পদের এই অতিরিক্ত অংক করদাতার হাতে অব্যাখ্যায়িত আয় হিসেবে করযোগ্য হবে।

আয়কর বিধিমালা, ১৯৮৪ সংশোধনের মাধ্যমে পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় প্রদর্শনের জন্য নতুন ফরম  IT-10B2016 প্রবর্তন করা হয়েছে। যে সকল করদাতা নতুন রিটার্ন ফরম (IT-10B2016) ব্যবহার করবেন তাদেরকে IT-10B2016 ফরম ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তি করদাতার ব্যবসার পুঁজি বা মূলধন অথবা কৃষি বা অকৃষি সম্পত্তি থাকলে IT-10B2016 ফরমের সাথে schedule 25 সংযুক্ত করতে হবে।
যে সকল ব্যক্তি-করদাতা পুরোনো ফরমে রিটার্ন দাখিল করবেন তারা ঐ রিটার্নের সাথে সংশ্লিষ্ট আগের পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী দাখিল করবেন।
পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী পূরণে সাধারণ জ্ঞাতব্য বিষয়:
১. পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীতে আয় বছরের শেষ তারিখের পরিসম্পদ (assets) ও দায় (liabilities) এর সমাপনী জের
(closing balance) এর তথ্য প্রদান করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ১ জুলাই ২০১৫ তারিখে কোন করদাতার যদি মোট ৭,০০,০০০/- টাকার সঞ্চয়পত্র থাকে এবং তিনি যদি ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে আরো ৩,০০,০০০/- টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেন এবং আয় বছরের শেষ তারিখ পর্যন্ত কোন সঞ্চয়পত্র না ভাঙান তাহলে ২০১৬-১৭ বছরের জন্য দাখিলকৃত পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীতে সঞ্চয়পত্রের পরিমাণ প্রদর্শণ করতে হবে (৭,০০,০০০+৩,০০,০০০) = ১০,০০,০০০/- টাকা।
২. ক্রয়কৃত সম্পত্তির ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রিশন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচসহ ক্রয়মূল্য প্রদর্শন করতে হবে। ধরা যাক একজন করদাতা
১ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে ১৫,০০,০০০/- টাকায় একটি অকৃষি প্লট ক্রয় করেছেন, যার রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য অনুষঙ্গিক খরচ ছিল, ৩,০০,০০০/- টাকা। ৩০ জুর ২০১৬ তারিখে প্লটটির বাজারমূল্য ছিল ২২,০০,০০০/- টাকা। এক্ষেত্রে ২০১৬-১৭ কর বছরের জন্য করদাতার দাখিলকৃত পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীতে অকৃষি প্লটের মূল্য (১৫,০০,০০০ + ৩,০০,০০০) = ১৮,০০,০০০/- টাকা প্রদর্শিত হবে।
৩. করদাতার স্বামী/স্ত্রী বা নির্ভরশীল কোন সন্তানের আলাদা কর নথি না থাকলে তাদের পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় করদাতার
পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয়ের সাথে একীভূত করে দেখাতে হবে।
৪. পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীর কোন ক্রমিকে স্থান সংকুলান না হলে কাগজে সে ক্রমিকের জন্য অতিরিক্ত তথ্য লিকে
পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীর সাথে সংযুক্ত করা যাবে। আলাদা কাগজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাগজের উপর কর বছর, করদাতার টিআইএন এবংপরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীর কোন ক্রমিক নম্বর উল্লেখ করতে হবে এবং তাতে করদাতার স্বাক্ষর থাকতে হবে। সংযুক্ত আলাদা কাগজটি পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণীর অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, কোন করদাতা যদি কোন আয় বছরের ৩ জন ব্যক্তিকে ঋণ প্রদান করে থাকেন তাহলে IT-10B2016 এর সাথে আলাদা কাগজ সংযুক্ত করে তাতে নিম্নরূপভাবে তথ্য লিপিবদ্ধ করা যেতে পারে:

কর বছর: ২০১৬-১৭
টিআইএন:-------------------
ক্রমিক ৮ডি: ঋণ প্রদান:

ক্রম ঋণ গ্রহণকারীর নাম টিআইএন ও সার্কেল পরিমাণ
০১      
০২      
০৩      
মোট  

(করদাতার স্বাক্ষর)


নতুন প্রবর্তিত পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী (IT-10B2016) এর বিভিন্ন অংশের বিবরণ:
ক্রমিক নং-১:    কর বছরের তথ্য দিতে হবে। ২০১৬-১৭ কর বছরের জন্য পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী দাখিলের ক্ষেত্রে এ ঘরের বক্সগুলোতে বাংলা বা ইংরেজীতে নিম্নরূপভাবে লিখতে হবে:

2 0 1 6 - 1 7


ক্রমিক নং-২:    আয় বছরের শেষ দিনের তারিখ উল্লেখ করতে হবে। তারিখটি  দিন-মাস-বছর আকারে লিখতে হবে।
                    ২০১৬-১৭ কর বছরের জন্য পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী দাখিলের ক্ষেত্রে এ ঘরের বক্সগুলোতে বাংলা বা ইংরেজীতে নিম্নরূপভাবে লিখতে হবে:

3 0 0 6 2 0 1 6

ক্রমিক নং-৩:    করদাতার নাম লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-৪:    করদাতার  টিআইএন লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-৫:    করদাতার ব্যবসা বা পেশা খাতের আয় থাকলে উক্ত ব্যবসা বা পেশার সমাপনী মূলধনের পরিমাণ উপ-ক্রমিক ৫এ তে উল্লেখ করতে হবে। করদাতা কোম্পানীর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হলে উপ-ক্রমিক ৫বি তে শেয়ার মালিকানার বিবরণ লিপিবদ্ধ করতে হবে। এরূপ করদাতার জন্য তফসিল ২৫ সংযুক্ত
করতে হবে।  উপ-ক্রমিক ৫এ ও ৫বি এর সমষ্টি ক্রমিক ৫ এ লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-৬     করদাতার অকৃষি সম্পত্তি (আবাসিক বা বাণিজ্যিক প্লট, বাড়ি, এপার্টমেন্ট ইত্যাদি অকৃষি সম্পত্তির
কয়েকটি উদাহরণ) থাকলে তফসিল ২৫ সংযুক্ত করে অকৃষি সম্পত্তির বিবরণ, মূল্য ইত্যাদির বিস্তারিত তথ্য সেখানে দিতে হবে। এ ক্রমিকের উপ-ক্রমিক ৬এ তে করদাতার অকৃষি সম্পত্তির মূল্য এবং ৬বিতে অকৃষি সম্পত্তির বিপরীতে কোন অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করা হলে কার জের (balance) লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-৭:    করদাতার কৃষি সম্পত্তি থাকলে এখানে লিখতে হবে এবং তফসিল ২৫ সংযুক্ত করে অকৃষি সম্পত্তির বিবরণ, মূল্য ইত্যাদি বিস্তারিত তথ্য সেখানে দিতে হবে।
ক্রমিক নং-৮:     করদাতার আর্থিক সম্পত্তি (financial assets) যেমন শেয়ার, ডিবেঞ্চার, সঞ্চয়পত্র, বন্ড ও অন্যান্য
নিরাপত্ত জামানত, এফডিআর, মেয়াদি আমানত, সঞ্চয়ী পেনশন স্কীম, ঋণ প্রদানসহ অন্য কোন financial assets থাকলে তার তথ্য এ ক্রমিকে প্রদান করতে হবে।
ক্রমিক নং-৯:     করদাতার ব্যক্তিগত মোটরগাড়ি, জীপ বা মাইক্রোবাস থাকলে তার মূল্য (রেজিস্ট্রেশন ও আনুষঙ্গিক
খরচসহ) ক্রমিক ৯ এ লিখতে হবে। একাধিক যানবাহন থাকলে (রেজিস্ট্রেশন ও অনুষঙ্গিক খরচসহ) মূল্যের সামষ্টি লিখতে হবে। প্রতিটি যানবাহনের ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড নাম, ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি (সিসি)  ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখতে হবে। দুইয়ের অধিক যানবাহন থাকলে আলাদা কাগজ সংযুক্ত করে বর্ণিত তথ্য সমূহ লিপিবদ্ধ করতে হবে।
ক্রমিক নং-১০:    করদাতার সোনা, হীরক, জেম বা মূল্যবান পাথরসহ কোন অরলকারাদি থাকলে তার তথ্য এ ক্রমিকে লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-১১:    এ ক্রমিকে করদাতার আসবাবপত্র, সরঞ্জাম, ইলেট্রনিক্স দ্রব্যাদি ইত্যাদির তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হবে।
ক্রমিক নং-১২:    এছাড়া ১-১১ ক্রমিকে উল্লিখিত সম্পত্তির বাইরে করদাতার আরো কোন মূল্যবান সম্পত্তি থাকলে তার তথ্য এ ক্রমিকে প্রদান করতে হবে।
ক্রমিক নং-১৩:    করদাতার ব্যবসা-বহির্ভূত নগদ অর্থ, ব্যাংক, কার্ড বা ইলেট্রনিক অর্থের ব্যালেন্স, প্রভিডেন্ট ফন্ডের ব্যালেন্স এবং

ক্রমিক ৮-এ উল্লিখিত অংক বাদে অন্যান্য জমা, ব্যালেন্স বা অগ্রিম প্রতদানের পরিমাণ লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-১৪:    ক্রমিক ১-১৩ উল্লিখিত সম্পত্তির পরিমাণের সমষ্টি এ ক্রমিকে লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-১৫:    করদাতার ব্যবসা-বহির্ভূত দায় যেমন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহীত ঋণ, জামানবিহীন ঋণ, ওভারড্রাফট ও অন্যান্য ঋণ (যেমন, বাকীতে ক্রয় সংক্রান্ত দায়) এ ক্রমিকে লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-১৬:     ক্রমিক ১৪ ও ক্রমিক ১৫ এর বিয়োগফল সংশ্লিষ্ট আয় বছরের নীট পরিসম্পদ, যা ক্রমিক ১৬ তে লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-১৭:     পূর্ববর্তী আয় বছরের শেষ তারিখের নীট পরিসম্পদ ক্রমিক ১৭ তে লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-১৮:    ক্রমিক ১৬ ও ক্রমিক ১৭ এর বিয়োগফল হবে নীট পরিসম্পদের পরিবর্তন (পরিবৃদ্ধি বা হ্রাস), যা ক্রমিক ১৮ তে লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-১৯:     সম্পদ অর্জন ব্যতীত অন্য কোন কারণে তহবিলের বহিঃপ্রবাহ (outflow) ঘটলে তা এ ক্রমিকে লিখতে
হবে। এ ক্রমিকে যে বিষয়গুলো থাকবে তা হলো: বার্সিক জীবনযাত্রার সংশ্লিষ্ট ব্যয়, কর পরিশোধ, ব্যবসা বহির্ভূত কোন আর্থিক লোকসান, কর্তন বা IT-10B2016  তে উল্লিখিত নয় এমন কোন ব্যয়, কোন দান বা কোন চাঁদা প্রদান (যা পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী আর কোথাও প্রতিফলিত হয়নি)।
ক্রমিক নং-২০:     ক্রমিক ১৮ ও ক্রমিক ১৯ এর যোগফল হবে আয় বছরের করদাতার তহবিলের মোট বহিঃপ্রবাহ (outflow), যা এ ক্রমিকে লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-২১:    এ ক্রমিকে তহবিলের উৎস লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-২২:     ক্রমিক ২১ ও ক্রমিক ২০ এর বিয়োগফল এ ক্রমিকে লিখতে হবে।

(খ). জীবনযাত্রার মান সম্পর্কিত তথ্য বিবরণী বা ফরম আইটি-১০বিবি এবং আইটি ১০বিবি ২০১৬ পূরণের নিয়ম

●     যে সকল করদাতা প্রচলিত রিটার্ন ফরম অর্থাৎ আইটি-১১গ এর মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন তাদের ক্ষেত্রে এ বিবরণীটি প্রযোজ্য হবে।
●     যে সকল  বেতনভোগী  করদাতা  এবং  স্বল্প  আয়বিশিষ্ট  পেশাজীবি  ও  ব্যবসায়ী করদাতা সহজীকৃত রিটার্ন ফরম অর্থাৎ আইটি-১১ঙ ও  আইটি-১১চ এর মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন তাদের ক্ষেত্রে এ বিবরণীটি প্রযোজ্য হবে না।
●     যে সকল করদাতা নতুন প্রবর্তিত ফরম অর্থাৎ- আইটি ১১গ ২০১৬ এর মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল করবেন তাদের ক্ষেত্রে আইটি-১০ বিবি ২০১৬ বিবরণটি প্রযোজ্য হবে।

আইটি১০বিবি বিবরণীতে করদাতার  নাম, টিআইএন এবং আয় বছরে জীবনযাত্রার বিভিন্ন বিষয়ের খরচের উল্লেখ করতে হবে। রিটার্নের এ সংক্রান্ত  ছকটি পূরণের নিয়ম নীচে বর্ণনা করা হলো-

ক্রমিক নং-১ঃ      এই ঘরে করদাতা ও তার পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের ভরণ পোষণ বাবদ খরচের অংকটি লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-২ঃ      এই ঘরে উৎসে কেটে নেয়া কর এবং নিজে জমা দেয়া বা পরিশোধ করা করের পরিমাণ লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-৩ঃ      এই ঘরে বাড়ী ভাড়া বাবদ খরচের অংক লিখতে হবে। ভাড়া বাড়ী না হলে মন্তব্যের ঘরে  নিজের বাড়ী, পিতার বাড়ী, নিয়োগ কর্তা প্রদত্ত বাড়ী অথবা অন্য কারো হলে সে তথ্য লিখতে হবে।  নিজ বাড়ীর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়  (যেমন পৌরকর, সার্ভিস চার্জ ইত্যাদি) যদি থাকে তবে তা এখানে লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-৪ঃ      এই ঘরে যানবাহন বিষয়ে যাবতীয় ব্যয় যেমন-জ্বালানী, রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রাইভারের বেতন  ইত্যাদি খাতে  ব্যয়ের মোট পরিমাণ লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-৫ঃ      এই ঘরে বিদ্যুৎ বিল বাবদ পরিশোধিত অংকের পরিমাণ লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-৬ঃ      এই ঘরে আবাসিক পানির বিল বাবদ পরিশোধিত অংকের পরিমাণ লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-৭ঃ      এই ঘরে আবাসিক গ্যাস বিল বাবদ পরিশোধিত অংকের পরিমাণ লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-৮ঃ      এই ঘরে আবাসিক টেলিফোন বিল বাবদ পরিশোধিত অংকের পরিমাণ লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-৯ঃ      এই ঘরে সন্তানদের লেখাপড়া বাবদ যে পরিমাণ খরচ হয়েছে তা লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-১০ঃ      করদাতা  নিজ  ব্যয়ে  বিদেশ ভ্রমণ  করে  থাকলে  বিদেশ ভ্রমণ বাবদ যাবতীয় খরচ এই ঘরে লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-১১ঃ      বিভিন্ন  উৎসব যেমন -বিয়ে, জন্মদিন  ইত্যাদি বাবদ কোন খরচ হয়ে  থাকলে সে খরচ, চিকিৎসা খরচ  এবং  কাউকে অর্থ দান করা হয়ে থাকলে সে দানের অংক এ ঘরে লিখতে হবে।

জীবনযাত্রার  মান  স¤পর্কিত তথ্য বিবরণী বা ফরম আইটি-১০বিবিতে উল্লিখিত খরচসমূহের যোগফল রিটার্ন ফরমের ১৫(ক) নং ক্রমিকে উল্লেখ করতে হবে।

●      বেতনভোগী করদাতাদের মধ্যে যারা আইটি-১১ঙ এবং ব্যবসা বা পেশার আয়ের ক্ষেত্রে যারা আইটি-১১চ এর মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন তাদের জন্য জীবনযাত্রার মান সম্পর্কিত তথ্য বিবরণী বা ফরম আইটি- ১০বিবি দাখিল বাধ্যতামূলক নয়।

 


নতুন প্রবর্তিত জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণী (আইটি-১০বিবি ২০১৬) এর বিভিন্ন অংশের বিবরণ:
ক্রমিক নং-১:     কর বছরের তথ্য দিতে হবে। ২০১৬-১৭ কর বছরের জন্য জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণী দাখিলের ক্ষেত্রে এ ঘরে বাংলা বা ইংরেজীতে নি¤œরূপভাবে লিখতে হবে:

2 0 1 6 - 1 7

ক্রমিক নং-২:     আয় বছরের শেষ দিনের তারিখ উল্লেখ করতে হবে। তারিখটি দিন মাস বছরে আকারে লিখতে হবে। ২০১৬-১৭ কর বছরের জন্য জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণী দাখিলের ক্ষেত্রে এ ঘরে বাংলা বা ইংরেজীতে নিম্নরূপভাবে লিখতে হবে:

3 0 0 6 2 0 1 6

ক্রমিক নং-৩:     করদাতার নাম লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-৪:     করদাতার টিআইএন লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-৫:     এ ক্রমিকে করদাতা ও তার পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের ভরণ পোষণ ব্যয়ের দিতে হবে।
ক্রমিক নং-৬:     এ ক্রমিকে আবাসন সংক্রান্ত ব্যয়ের তথ্য লিখতে হবে। ভাড়া বাড়িতে বসবাস না করা হলে মন্তব্যের ঘরে নিজের বাড়ি, পিতা মাতার বাড়ি, নিয়োগকর্তা প্রদত্ত বাড়ি অথবা অন্য কারো হলে সে তথ্য লিখতে হবে। নিজ বাড়ির     রক্ষনাবেক্ষন ব্যয়  (যেমন পৌরকর, সার্ভিস চার্জ ইত্যাদি) যদি ধাকে তবে তা এখানে লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-৭:     এ ক্রমিকে যানবাহন বিষয়ে যাবতীয় ব্যয় যেমন-জ্বালানী, রক্ষনাবেক্ষণ, ড্রাইবারের বেতন ইত্যাতি খাতে ব্যয়ের তথ্য দিতে হবে।
ক্রমিক নং-৮:     বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিল, পয়ঃনিষ্কাষন ও দৈনন্দিন বর্জ্য অপসারণ খরচ, আবাসিক টেলিফোন বিল, ইন্টারনেট ও টেলিভিশন চ্যানেল সাবস্ক্রিপশন বিল, গৃহস্থালির সহায়ক কর্মী ও গৃহস্থাল ও সেবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয়ের তথ্য এ ক্রমিকে লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-৯:     এ ক্রমিকে সন্তানদের পড়াশোনার ব্যযের তথ্য দিতে হবে।
ক্রমিক নং-১০:    উৎসব, অনুষ্ঠান, উপহার, দেশে ও বিদেশে ভ্রমন, অবকাশ, অনুদান, মানবিক সহায়তাসহ অন্যান্য বিশেষ ব্যয়ের তথ্য এ ক্রমিকে দিতে হবে।
ক্রমিক নং-১১:     উপরের ক্রমিক ৫ হতে ১০ এ বর্ণিত ব্যয়ের বাইরে অন্য কোন ব্যয় হয়ে থাকলে সে খরচ, চিকিৎসা খরচ থাকলে সে অংক এ ঘরে লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-১২:     জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট মোট খরচ অর্থাৎ ক্রমিক ০৫ হতে ক্রমিক ১১ তে প্রদর্শিত ব্যয়ের সমষ্টি এ ঘরে লিখতে হবে।
ক্রমিক নং-১৩:     এ ঘরে করদাতা কর্তৃক উৎসে পরিশোধিত কর এবং করদাতার নিজের পরিশোধ করা আয়কর, সারচার্জ অথবা অন্য কোন পরিশোধিত অংক লিখতে হবে। বিবেচ্য আয় বছরে অন্য কোন কর বছরের কর, সারচার্জ, অথবা কর সংশ্লিষ্ট অন্য কোন অংক পরিশোধ করা হলে তাও এ ক্রমিকে উল্লেখ করতে হবে।
ক্রমিক নং-১৪:     ক্রমিক নং ১২ ও ১৩ এর প্রদর্শিত অংকের সমষ্টি এ ক্রমিকে উল্লেখ করতে হবে।

রিটার্ন দাখিলের পদ্ধতি

 বর্তমানে রিটার্ন দাখিলের জন্য দু’টি পদ্ধতি প্রচলিত আছে। যথাঃ  সাধারণ পদ্ধতি ও সার্বজনীন  স্বনির্ধারণী  পদ্ধতি। নিম্নে পদ্ধতি  দু’টি  সম্পর্কে  বিস্তারিত আলোচনা  করা হলোঃ

১। সাধারণ পদ্ধতিঃ
সাধারণ পদ্ধতির আওতায় দাখিলকৃত রিটার্নের ক্ষেত্রে প্রাপ্তি স্বীকারপত্রটি কর নির্ধারণী আদেশ (assessment order) বলে গণ্য হয় না। রিটার্ন দাখিলের পর উপ কর কমিশনার কর নির্ধারণ করেন। করদাতা কর্তৃক রিটার্নে প্রদর্শিত তথ্য উপ কর কমিশনারের নিকট সঠিক মনে হলে তিনি করদাতাকে শুনানীতে না ডেকেই কর নির্ধারণ করতে পারেন। আবার প্রদর্শিত আয়ের সমর্থনে যথাপযুক্ত তথ্য প্রমাণাদি না থাকলে বা উপ কর কমিশনার প্রয়োজন মনে করলে করদাতাকে শূনানীতে ডেকে করদাতার বক্তব্য, তথ্য, প্রমাণাদি বিবেচনায় নিয়ে কর নির্ধারণ করতে পারেন।
উল্লেখ্য যে, নিরীক্ষার আওতায় না পড়লেও কোন রিটার্নে আয় গোপন করা হলে বা কর ফাকি থাকলে, সংশ্লিষ্ট কর বছরের রিটার্নের ক্ষেত্রে অধ্যাদেশের 93 ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। একই সাথে উক্ত রিটার্ন process করা যাবে।

২। সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিঃ
করদাতা তাঁর নিজের আয় নিজে পরিগণনা করে প্রযোজ্য আয়কর পরিশোধ করবেন -এটি  বিশ্বব্যাপী  বহুল  অনুসৃত  পদ্ধতি।  এই  পদ্ধতিতে  করদাতার  দাখিলকৃত  রিটার্ন প্রাথমিকভাবে বিনা প্রশ্নে আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত হয়। সার্বজনীন স্বনির্ধারনী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে করদাতা তার নিজের আয় নিরুপন করে প্রযোজ্য আয়কর পরিশোধ করেন। ২০১৬-১৭ কর বছরে কোন ১২-ডিজিট টিআইএন ধারী ব্যক্তি-করদাতা রিটার্নে প্রদর্শিত মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য সমুদয় আয়কর ও সারচার্জ পরিশোধ পূর্বক ৩০ নভেম্বর ২০১৬ তারিখের মধ্যে বা উপকর কমিশনার কর্তৃক মঞ্জুরকৃত বর্ধিত সময়ের মধ্যে সার্বজনীন স্বনির্ধারনী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। করদাতার ১২-ডিজিট টিআইএন না থাকলে করদাতা সার্বজনীন স্বনির্ধারনী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন না। তাছাড়া, মোট আয়ের প্রযোজ্য সমুদয় আয়কর ও সারচার্জ পরিশোধ না করা হলে বা ৩০ নভেম্বর ২০১৬ তারিখের মধ্যে বা উপ কর কমিশনার কর্তৃক মঞ্জুরকৃত বর্ধিত সময়ের মধ্যে দাখিলকৃত না হলে করদাতা রিটার্ন সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতির আওতায় পড়বে না।

বর্ণিত সকল শর্ত পূরণ করে সার্বজনীন স্বনির্ধারনী পদ্ধতির আওতায় রিটার্ন দাখিল করা হলে আয়কর বিভাগ থেকে করদাতাকে যে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র প্রদান করা হয় তা-ই কর নির্ধরণী আদেশ (assessment order) বলে গণ্য হয়।

পরবর্তীতে উপ কর কমিশনার কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিতকরণ ও এর কারনে কম করে পরিশোধ করা হলে  তা আদায়ের লক্ষ্যে রিটার্নটি process করেন। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নির্ধারিত criterion এর ভিত্তিতে সার্বজনীন স্বনির্ধারনী পদ্ধতিতে দাখিলকৃত কোন রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বচন করে উপ কর কমিশনারকে নির্বাচিত রিটার্ন অডিট এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কর নির্ধারনের জন্য বলতে পারে।
২০১৬-২০১৭ করবর্ষে সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে দাখিলকৃত রিটার্নসমূহের মধ্যে যে সকল রিটার্ন পূর্ববর্তী কর বছরে নিরূপিত আয়ের কমপক্ষে ২০% আয় বৃদ্ধি করে এবং নিম্নোক্ত শর্ত সমূহ  পূরণ করে  দাখিল  করবে  কর বিভাগ  কর্তৃক  উক্ত  রিটার্ন  অডিট  না করার বিধান করা হয়েছে।
পালনীয় শর্তসমূহঃ
ক. রিটার্নের ভিত্তিতে ফেরতযোগ্য কর সৃষ্টি হবে না।
খ. কোনরূপ দান গ্রহণ প্রদর্শন করা যাবে না।
গ. রিটার্নে করমুক্ত আয় প্রদর্শন করলে করমুক্ত আয়ের সমর্থনে যাচাইযোগ্য দালিলিক প্রমাণাদি রিটার্নের সাথে দাখিল করতে হবে।
ঘ. আয়কর  অধ্যাদেশ,  ১৯৮৪  এর  ৪৪  ধারা  অনুযায়ী  জারীকৃত  প্রজ্ঞাপন অনুসারে  হ্রাসকৃত হারে আয়কর প্রযোজ্য হয় এরূপ কোন আয় প্রদর্শন করা যাবে না।
ঙ. ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা অন্য যেকোন উৎস থেকে ৫ লক্ষ টাকার অধিক ঋণ গ্রহণ প্রদর্শন করা হলে দাখিলকৃত রিটার্নের সাথে গৃহীত ঋণ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বিবরণী বা হিসাব বিবরণী দাখিল করতে হবে।
পূর্ববর্তী  বছরের  ন্যায় ২০১৬-২০১৭ কর বছরেও  আয়কর  অধ্যাদেশের  ৮২বিবি  ধারায়  সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে দাখিলকৃত নতুন রিটার্নে ব্যবসা ও পেশা খাতে প্রদর্শিত আয়ের ৪ গুন হারে প্রারম্ভিক পূঁজি নেয়া যাবে। তবে এ পূঁজি বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট আয় বছরে বা আয় বছর শেষ হওয়ার  পরবর্তী ৫  বছরের মধ্যে  ব্যবসা বা পেশা থেকে  স্থানান্তর  করা  যাবে না। করলে যে বছর স্থানান্তর করা হবে, সে বছরের সংশ্লিষ্ট করবছরে অর্থ স্থানান্তরকারীর অন্যান্য উৎসের আয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
উল্লেখ্য যে, নিরীক্ষার আওতায় না পড়লেও কোন রিটার্নে আয় গোপন করা হলে বা কর ফাঁকি থাকলে, সংশ্লিষ্ট করবছরের  রিটার্নের ক্ষেত্রে অধ্যাদেশের ৯৩  ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

সার্বজনীন স্ব-নির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 82BB এর সংশোধনঃ
অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশের বিদ্যমান ধারা 82BB এর উপ-ধারা (1) এবং উপ-ধারা (2) প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিস্থাপিত বিধান অনুসারে কোন করদাতা ১২ ডিজিটের টিআইএন (e-TIN) দাখিল, ধারা 74 অনুযায়ী কর পরিশোধ এবং
ধারা 75 এ বর্ণিত শর্তাদি পূরণপূর্বক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন দাখিল- এ তিনটি শর্ত পূরণ করে ধারা 82BB উল্লেখপূর্বক রিটার্ন দাখিল করলে উপ কর কমিশনার নিজে অথবা তার পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বাক্ষর প্রদানপূর্বক প্রাপ্তি স্বীকার পত্র প্রদান করবেন, যা উপ-ধারা (2) ও (3) এর বিধান সাপেক্ষে উপ কর কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত কর নির্ধারণী আদেশ হিসেবে গণ্য হবে।
(২) ধারা 82BB এর উপ-ধারা (1) এর আওতায় দাখিলকৃত রিটার্ন এর ক্ষেত্রে উপ কর কমিশনার প্রতিস্থাপিত উপ-ধারা (2) এর বিধান অনুযায়ী process এর কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। তাছাড়া বিদ্যমান বিধান অনুসারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদনক্রমে উপ কর কমিশনার উপ-ধারা (3) এর বিধান অনুযায়ী উক্ত রিটার্ন এর ক্ষেত্রে audit কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারবেন। অধিকন্তু আয় গোপন বা কর ফাঁকির কোন তথ্য পাওয়া গেলে ধারা 93 অনুযায়ী কার্যক্রমও গ্রহণ করা যাবে।
(৩) উপ কর কমিশনার কর্তৃক return process এর ক্ষেত্র এবং পরিসর এর বিষয়টি নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ
Return process কার্যক্রমে উপ কর কমিশনার পরীক্ষা করে দেখবেন যে দাখিলকৃত রিটার্নে কোন গাণিতিক ত্রুটি (arithmetic error) আছে কি না বা করদাতা কর্তৃক দাখিলকৃত তথ্যের আলোকে দৃশ্যমান কোন অশুদ্ধ দাবী (incorrect claim) আছে কি না।
গাণিতিক ত্রুটি (arithmetic error) বা অশুদ্ধ দাবী (incorrect claim) এর কয়েকটি উদাহরণ নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
(ক) প্রদর্শিত খাতভিত্তিক আয়ের যোগফল সঠিক না হওয়াঃ
উদাহরণস্বরূপ, একজন করদাতা রিটার্নের আয় বিবরণী অংশে বেতনাদি কলামে ২,৫০,০০০/- টাকা ও গৃহ-সম্পত্তি কলামে ২,০০,০০০/- টাকা আয় প্রদর্শন করেছেন, কিন্তু মোট আয় কলামে ৩,৫০,০০/- টাকা প্রদর্শন করেছেন। এক্ষেত্রে করদাতার মোট আয় হবে ৪,৫০,০০০/- টাকা, কিন্তু করদাতা গাণিতিক ভুলের কারণে মোট আয় প্রদর্শন করেছেন ৩,৫০,০০০/- টাকা। ফলে রিটার্নটির ক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) অনুযায়ী ঢ়ৎড়পবংং এর কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
(খ) আয়কর অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী দাবীকৃত বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত গণনা সঠিক না হওয়াঃ
উদাহরণস্বরূপ, একজন করদাতা ১০,০০,০০০/- টাকা মোট আয় এবং কর রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের পরিমাণ ২,০০,০০০/- টাকা প্রদর্শনপূর্বক বিনিয়োগের উপর ৪০,০০০/- টাকা কর রেয়াত দাবী করেন। এক্ষেত্রে করদাতার দাখিলকৃত তথ্য অনুযায়ী কর রেয়াতের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০,০০০/- টাকা (২,০০,০০০/- টাকার ১৫%), অথচ করদাতা কর রেয়াত গ্রহণ করেছেন ৪০,০০০/- টাকা। এরূপ ক্ষেত্রেও উপ-ধারা (২) অনুযায়ী process এর কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
(গ) গৃহ সম্পত্তি খাতের আয় নিরূপণে মেরামত, আদায়, ইত্যাদি বাবদ বিধিবদ্ধ সীমার বাইরে অনুমোদনযোগ্য খরচ দাবী করাঃ
উদাহরণস্বরূপ, কোন করদাতা যদি আবাসিক ভবনের বার্ষিক ভাড়া মূল্যের পরিমাণ ২০,০০,০০০/- টাকা প্রদর্শন করে ৮,০০,০০০/- টাকা মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ দাবী করেন তাহলে তার দাবীকৃত খরচ বিধিবদ্ধ অনুমোদিত সীমা (২০,০০,০০০/- টাকার ২৫% = ৫০০,০০০/- টাকা) থেকে বেশি হবে এবং রিটার্নটি উপ-ধারা (২) অনুযায়ী process যোগ্য হবে।

গাণিতিক ত্রুটি বা অশুদ্ধ দাবী এর আরো কয়েকটি নমুনা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
(i)  অনুমোদিত খাতসমূহে বিনিয়োগ না করেও তার উপর কর রেয়াত দাবী;
(ii) ব্যবসা খাতে প্রদর্শিত আয়ের ক্ষেত্রে আয়কর অধ্যাদেশের ধারা 30 এর ক্লজ (g),
    (h), (j), (k) এবং আয়কর বিধিমালার বিধি 65 এবং 65C তে বর্ণিত অনুমোদনযোগ্য খরচের সর্বোচ্চ সীমার অধিক খরচ দাবী;
(iii) অবচয় ভাতার ক্ষেত্রে তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত হার অপেক্ষা অধিক হারে অবচয় দাবী;
(iv) বেতন খাতে আয় প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আয়কর বিধিমালার বিধি 33A, 33B, 33C, 33D, 33E, 33G, 33H, 33I I 33J এর বিধানাবলী যথাযথভাবে অনুসরণ না করে কম আয় পরিগণনা করা, ইত্যাদি।
উপরে উল্লিখিত ক্ষেত্র ছাড়াও আরো অনেক ক্ষেত্রে রিটার্নে গাণিতিক ত্রুটি বা অশুদ্ধ দাবী থাকতে পারে, যা উপ-ধারা (2) অনুযায়ী process এর কার্যক্রমের আওতাভুক্ত হবে।
উল্লেখ্য, উপ-ধারা (2) এর আওতায় গাণিতিক ত্রুটি বা অশুদ্ধ দাবী চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে কেবলমাত্র করদাতার দাখিলকৃত তথ্যের উপরই নির্ভর করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, কোন করদাতার কর রেয়াত গ্রহণের ক্ষেত্রে করদাতা কর্তৃক দাবীকৃত বা প্রদর্শিত বিনিয়োগের
সমর্থনে প্রমাণপত্র সংযুক্ত করা হয়নি-এরূপ বিবেচনায় প্রদর্শিত বিনিয়োগ সম্পর্কিত প্রশ্ন উত্থাপন করে উপ-ধারা (2) এর আওতায় কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। অনুরূপভাবে, কোন করদাতা দাবীকৃত সম্পদ ক্রয় বা সংযোজনের প্রমাণ দাখিল করেন নি- এ বিবেচনায়
অবচয়ের যাচাইযোগ্যতার প্রশ্ন উত্থাপন করে উপ-ধারা (2) এর আওতায় কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। এ সকল ক্ষেত্রে উপ-ধারা (3) এর আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ অবারিত থাকছে।
(৪) রিটার্নে কোন গাণিতিক ত্রুটি ও অশুদ্ধ দাবী পাওয়া গেলে উপ কর কমিশনার তা সমন্বয় করে করদাতার আয় নিরূপণ ও কর পরিগণনার কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। সমন্বয়ের কারণে যদি করদাতার করদায় বৃদ্ধি পায় তাহলে আয় নিরূপণ ও কর পরিগণনার পূর্বে যুক্তিসংগত সময় দিয়ে করদাতাকে লিখিতভাবে বক্তব্য প্রদানের জন্য পত্র প্রেরণ করতে হবে। করদাতার নিকট প্রেরিত পত্রে গাণিতিক ভুল বা অশুদ্ধ দাবীর বিবরণ, সমন্বয়ের ফলশ্রুতিতে নিরূপণযোগ্য আয়ের পরিমাণ, প্রযোজ্য করের পরিমাণ, কর রেয়াত বা ক্রেডিটের পরিমাণ, পরিশোধিত করের পরিমাণ, নীট প্রদেয়/ফেরৎযোগ্য করের পরিমাণ ইত্যাদি তথ্য বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে। করদাতার বক্তব্য চাওয়ার ক্ষেত্রে করদাতা বা তার প্রতিনিধিকে শুনানীতে হাজির হওয়ার জন্য অনুরোধ করা যাবে না।
প্রেরিত পত্রে করদাতাকে যে তারিখের মধ্যে তার বক্তব্য দাখিল করতে বলা হবে উক্ত তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আয় ও কর পরিগণনা পত্র এবং নির্ধারিত ফরমে দাবীর নোটিশ যথাযথভাবে করদাতার নিকট প্রেরণ করতে হবে।
(৫) করদাতা যে অর্থ বছরে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন সে অর্থ বছর শেষ হওয়ার পরবর্তী ১২ (বার) মাস পর্যন্ত উপ-ধারা (2) এর আওতায় কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে। উক্ত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোন রিটার্ন process করা যাবে না।
(৬) যে ক্ষেত্রে রিটার্নে কোন গাণিতিক ভুল অথবা অশুদ্ধ দাবী নেই সে ক্ষেত্রে ধারা 82BB এর উপ-ধারা (2) এর আওতায় রিটার্ন process সংক্রান্ত কোন কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।
(৭) অর্থ আইন, ২০১৫ এর মাধ্যমে ধারা 82BB এর উপ-ধারা (3) এ কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে উপ-ধারা (1) এর আওতায় দাখিলকৃত রিটার্ন পূর্বের ন্যায় উপ-ধারা (3) এ বর্ণিত বিধান অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অডিটের জন্য নির্বাচনযোগ্য হবে।
এক্ষেত্রে কোন রিটার্নের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (2) এর আওতায় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি হয়নি তা বিবেচনায় আসবে না।
পরিবর্তিত এ বিধান ২০১৫-১৬ কর বছর হতে প্রযোজ্য হবে।

ভাড়ায় চালিত সড়ক যানবাহনের আয়করের হার

এস, আর, ও ১৬০-আইন/আয়কর/২০১৪ তারিখঃ ২৬ জুন, ২০১৪ অনুযায়ী  বাস, মিনিবাস, কোস্টার, ট্যাক্সি ক্যাব, প্রাইমমুভার, ট্রাক, ট্যাংকলরী, পিক-আপ, হিউম্যান হলার, ম্যাক্সি বা মাল বহনকারী অটোরিক্সা এর মালিককে নিম্নবর্ণিত হারে আয়কর প্রদান করতে হবে:-
 

(অ) রেজিষ্ট্রেশন এর তারিখ থেকে দশ বছর অতিক্রান্ত হয়নি এমন যানবাহন এর ক্ষেত্রে-

ক্রঃ সড়ক যানবাহনের ধরণ অনুমিত আয়করের হার
(ক) ৫২ সিটের অধিক আসন বিশিষ্ট বাস টাকা ১২,৫০০.০০
(খ) ৫২ সিট বা উহার কম আসন বিশিষ্ট বাস টাকা ৯,০০০.০০
(গ)

অ. তাপানুকূল লাক্সারী বাস প্রতিটির জন্য

আ. দোতলা বাস প্রতিটির জন্য

টাকা ৩০,০০০.০০

টাকা ১২,৫০০.০০

(ঘ) তাপানুকূল মিনিবাস/কোস্টার প্রতিটির জন টাকা ১২,৫০০.০০
(ঙ) অন্যান্য মিনিবাস ও কোস্টার প্রতিটির জন্য টাকা ৫,০০০.০০
(চ) কনটেইনার পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইমমুভার প্রতিটির জন টাকা ১৯,০০০.০০
(ছ) পাঁচ টনের অধিক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রাক বা ট্যাংক-লরি প্রতিটির জন্য  টাকা ১২,৫০০.০০
(জ) দেড় টনের বেশী কিন্তু পাঁচ টনের বেশী নহে এইরূপ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রাক বা ট্যাংক-লরী প্রতিটির জন্য টাকা  ৭,৫০০.০০
(ঝ) দেড় টন বা উহার কম ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রাক, পিক-আপ,   সকল ধরণের হিউম্যান হলার, ম্যাক্সি বা মাল বহনকারী বা যাত্রী
বহনকারী অটোরিক্সা  প্রতিটির জন
টাকা  ৩,০০০.০০
(ঞ) শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি ট্যাক্সিক্যাবের জন্য টাকা  ৯,০০০.০০
(ট) শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয় এইরূপ প্রতিটি ট্যাক্সিক্যাবের জন্য টাকা ৩,০০০.০০

 

(আ) রেজিষ্ট্রেশন এর তারিখ থেকে দশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে এমন যানবাহন এর ক্ষেত্রে-

ক্রঃ সড়ক যানবাহনের ধরণ অনুমিত আয়করের হার
(ক) ৫২ সিটের অধিক আসন বিশিষ্ট বাস টাকা ৬,৫০০.০০
(খ) ৫২ সিট বা উহার কম আসন বিশিষ্ট বাস টাকা ৪,৫০০.০০
(গ)

অ. তাপানুকূল লাক্সারী বাস প্রতিটির জন্য 

আ. দোতলা বাস প্রতিটির জন্য    

টাকা ১৫,০০০.০০

টাকা ৬,৫০০.০০

(ঘ) তাপানুকূল মিনিবাস/কোস্টার প্রতিটির জন টাকা ৯,০০০.০০
(ঙ) অন্যান্য মিনিবাস ও কোস্টার প্রতিটির জন্য টাকা ২,৫০০.০০
(চ) কনটেইনার পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইমমুভার প্রতিটির জন টাকা ১০,০০০.০০
(ছ) পাঁচ টনের অধিক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রাক বা ট্যাংক-লরি প্রতিটির জন্য টাকা ৭,৫০০.০০
(জ) দেড় টনের বেশী কিন্তু পাঁচ টনের বেশী নহে এইরূপ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রাক বা ট্যাংক-লরী প্রতিটির জন্য টাকা  ৪,৫০০.০০
(ঝ) দেড় টন বা উহার কম ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রাক, পিক-আপ, সকল ধরণের হিউম্যান হলার, ম্যাক্সি বা মাল বহনকারী বা যাত্রী বহনকারী অটোরিক্সা  প্রতিটির জন টাকা  ২,৫০০.০০
(ঞ) শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি ট্যাক্সিক্যাবের জন্য টাকা  ৪,৫০০.০০
 (ট) শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয় এইরূপ প্রতিটি ট্যাক্সিক্যাবের জন্য টাকা ১,৫০০.০০

  
(গ) অভ্যন্তরীণ নৌ-পথে যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত নৌ-যান এবং মালামাল পরিবহনে নিয়োজিত কার্গো, কোষ্টার ও ডাম্পবার্জ হইতে কোন করদাতার অর্জিত সম্পূর্ণ আয় নি¤œবর্ণিত শর্তাধীনে প্রদান করতে হবে, এসআরও নং-১৬২, আইন/আয়কর-২০১৪:   

       

বিনিয়োগ ও দানকৃত অংকের কর রেয়াত

নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে করদাতার বিনিয়োগ/চাঁদা থাকলে করদাতা বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পান। মোট আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়করের অংক থেকে কর রেয়াতের অংক বাদ দিলে প্রদেয় করের অংক পাওয়া যায়।
একজন করদাতার বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পরিগণনার ক্ষেত্রে নিম্নরূপ ২টি বিষয় বিবেচিত হয়:
(ক) করদাতার মোট আয়:
(খ) রেয়াতের জন্য অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount)
রেয়াতের জন্য  অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) হবে-
(ক) রেয়াত পাওয়ার যোগ্য খাতে করদাতার প্রকৃত বিনিয়োগ/চাঁদার পরিমাণ;
(খ) করযোগ্য মোট আয়ের (৮২সি ধারার (২) উপ-ধারায় বর্ণিত উৎস/উৎসসমূহ হতে প্রাপ্ত আয় এবং কর অব্যহতি প্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত করহার প্রযোজ্য এমন আয় থাকলে তা ব্যতীত) ২৫%;
(গ) ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা;
     এই তিনটির যেটি কম।
মোট আয় ও অনুমোদযোগ্য অংক (eligible amount) এর ভিত্তিতে আয়কর রেয়াতের পরিমাণ নিম্নরূপ হারে নির্ধারিত হবে:

মোট আয় রিবেট
যদি মোট আয় ১০ লক্ষ টাকার অধিক না হয় ১৫% হারে
যদি মোট আয় ১০ লক্ষ টাকার অধিক কিন্তু ৩০লক্ষ টাকার অধিক না হয় প্রথম ২.৫ লক্ষ টাকা ১৫% হারে
অবশিষ্ট টাকার উপর ১২% হারে
মোট আয় ৩০ লক্ষ টাকার অধিক হলে প্রথম ২.৫ লক্ষ টাকা ১৫%
পরবর্তী ৫ লক্ষ টাকা ১২% হারে
অবশিষ্ট টাকার জন্য ১০% হারে

বিনিয়োগ জনিত রেয়াত দাবির জন্য পৃথক তফসিল রয়েছে। নতুন রিটার্ন ফরমে তফসিলটি ২৪ডি নামে চিহ্নিত। নতুন রিটার্ন দাখিলকারী করদাতা বিনিয়োগ দাবী করলে রেয়াত পাওয়ার যোগ্য বিনিয়োগ বা দান নতুন প্রবর্তিত তফসিল ২৪-ডি এ উল্লেখপূর্বক মূল রিটার্নের সাথে সংযুক্ত করতে হবে এবং বিনিয়োগ বা দানের প্রমাণপত্র রিটার্নের সাথে দাখিল করতে হবে।

 

তফসিল- ৩ বিনিয়োগজনিত কররেয়াত
প্যারা অনুমোদিত বিনিয়োগ খাতের বিবরণ

০১ ব্যাক্তি করদাতার নিজের বা তাঁর স্বামীর / স্ত্রীর বা তাঁর অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তনাদের জীবন বীমার জন্য করদাতা কর্তৃক বাংলাদেশে প্রদত্ত যে কোন অর্থ তবে তা প্রকৃত বীমাকৃত অর্থের  (বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা বাদে) ১০ (দশ) শতাংশের  মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
০২ হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের সদস্য হিসেবে একজন করদাতা যদি ঐ পরিবারের  সে কোন পুরুষ সদস্যের জন্য বা অনুরূপ সদস্যের স্ত্রীর জীবন বীমা কার্যকর করার জন্য বাংলাদেশে প্রদত্ত যেকোন অর্থ;
০৩ করদাতা নিজের বা তার  স্ত্রীর বা তাঁর সন্তানের জন্য বিলম্বিত (ভবিষ্যতে প্রাপ্য বার্ষিক বৃত্তি প্রাপ্তিনিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চাকরির সর্তানুসারে সরকার বা সরকারের পক্ষে প্রদেয় বেতন হতে কর্তনকৃত যে কোন অর্থ, তবে এইরূপ কর্তনকৃত অর্থ বেতনের এক পঞ্চমাংশের বেশি হইতে পারিবে না;
০৪ ভবিষ্য তহবিল আইন ১৯২৫ অনুযায়ী গঠিত  ভবিষ্য তহবিলে করদাতা কর্তৃক প্রদত্ত চাঁদা;
০৫    কোন স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে করদাতা ও নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত চাঁদা;
০৬ অনুমোদিত সুপার এনুয়েশন করদাতা কর্তৃক প্রদত্ত বার্ষিক চাঁদা;
১০ (ক)    করদাতার নিজ নামে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সঞ্চয়পত্র(যেমন,পরিবার সঞ্চপত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, ৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র) ক্রয়ে বিনিয়োগকৃত অর্থ;
(খ)    বাংলাদেশ ইনভেষ্টমেন্ট কর্পোরেশন কর্তৃক ইস্যুকৃত ইউনিট সার্টিফিকেট এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড সার্টিফিকেট ক্রয়;
(গ)    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয়;
১১ সরকার অনুমোদিত কোন তফসিল ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডিপোজিট পেনশন স্ক্রীমে (ডিপিএস) এর বার্ষিক সর্বোচ্চ ৬০,০০০.০০ টাকা  পর্যন্ত জমাকৃত অর্থ।
(ক) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাহিরে ৩ (তিন) বৎসর পূর্বে স্থাপিত দাতব্য হাসপাতালকে করদাতা কর্তৃক প্রদত্ত কোন দান;
(খ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং সমাজ কল্যান অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত ১ (এক) বৎসর পূর্বে স্থাপিত প্রতিবন্ধী কল্যান ট্রাষ্টে করদাতা কর্তৃক প্রদত্ত কোন দান ;
১৩ সরকারি জাকাত তহবিলে করদাতা কর্তৃক প্রদত্ত জাকাত বা দান;
১৫ ও ১৬ কোন ব্যক্তি সংঘ/ অংশীদারী কারবার/ ফার্ম কর্তৃক উহার আয়ের উপর আয়কর  পরিশোধ করা হইলে, করদাতা কর্তৃক প্রাপ্ত ঐ ব্যক্তিসংঘ/ অংশীদারী কারবার/ ফার্মের আয়ের উপর গড় হারে আয়কর রেয়াত পাওয়া যাইবে।
১৭ কল্যান তহবিলে ও গোষ্ঠী বীমায় করদাতা প্রদত্ত দান;
২১ আগাখান উন্নয়ন কর্মসূচী দ্বারা বাংলাদেশে স্থাপিত কোন আর্থ-সামাজিক বা সাংস্কৃতিক উন্নয়ন তহবিলে করদাতা কর্তৃক প্রদত্ত দান;
২২ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত শিক্ষামূলক বা জনহিতকর প্রতিষ্ঠানে করদাতা কর্তৃক প্রদত্ত দান;
২৩ একজন ব্যক্তি শ্রেণী করদাতা কর্তৃক সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা পর্যন্ত একটি ল্যাপটপ বা সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা পর্যন্ত একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার ক্রয়ে প্রকৃত বিনিয়োগকৃত অর্থ;
২৪ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে নিয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের কোন প্রতিষ্ঠান এ করদাতা কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন অংকের অনুদান;
২৫ জাতির জনকের স্মৃতিরক্ষার্থে নিয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের কোন প্রতিষ্ঠান-এ করদাতা কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন অংকের অনুদান;
২৬ প্রধানমন্ত্রীর উচ্চ শিক্ষা সহায়তা তহবিল এ করদাতা কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন অংকের অনুদান;
২৭ কোন ব্যাক্তিবিশেষ করদাতা কর্তৃক  যেকোন স্টক এক্সচেঞ্জ এর তালিকাধীন কোম্পানীর স্টক ও শেয়ার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড বা ডিবেঞ্চার অর্জনে বিনিয়োগ করেছে ঐরূপ বিনিয়োগকৃত যেকোন পরিমাণ অর্থ।
২৮ কোন করদাতা একক ব্যক্তি কর্তৃক বাংলাদেশ সরকারের ট্রেজারী বন্ড ক্রয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগকৃত যেকোন পরিমাণ অর্থ।

 

উপরোক্ত ছাড়াও নিম্নে উল্লেখিত বিনিয়োগ বা দান কর রেয়াত যোগ্য।

*  প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানে দান।
*  মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে প্রদত্ত দান।
*  আগাঁ খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কে দান।
*  আহসানিয়া ক্যান্সার হাসপাতালে দান।
*  ICDDRB তে প্রদত্ত দান।
*  CRP, সাভার এ প্রদত্ত দান।
*  এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলাদেশ এ দান।
*  ঢাকা আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে দান।
*  মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে নিয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের কোন প্রতিষ্ঠানে অনুদান;
*  জাতির জনকের স্মৃতি রক্ষার্থে নিয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে অনুদান;

(১). ধরা যাক, জনাব সালাউদ্দিন একজন সরকারি বেতনভোগী করদাতা। তাঁর বেতন খাত, গৃহ সম্পত্তি ও সঞ্চয়পত্রের সুদ খাতে আয় রয়েছে। ২০১৬-১৭ কর বছরে উক্ত আয়ের পরিমাণ নিম্নরূপ:

আয়ের খাত পরিমাণ৳
(ক) বেতন খাতে আয় ৭,১৮,২০০
(খ) ব্যাংক সুদ আয় ১,২০,০০০
নিয়মিত উৎসের আয় ৮,৩৮,২০০
(গ) সঞ্চয়পত্রের সুদ খাতে আয় (৮২সি ধারায়) ৫০,০০০
(সঞ্চয়পত্রের সুদ হতে ৫% হারে উৎসে কর কর্তনের পরিমাণ ২,৫০০/-)  
মোট আয়    ৮,৮৮,২০০

 

জনাব সালাউদ্দিনের রেয়াত পাওয়ার যোগ্য খাতে মোট প্রকৃত বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল নিম্নরূপ:

ক্রম বিনিয়োগের খাত পরিমাণ (৳)
০১   ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫ অনুযায়ী প্রযোজ্য ভবিষ্য তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা ৯৬,০০০
০২ কল্যাণ তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা এবং গোষ্ঠি বীমা স্কীমের কিস্তি ১,০৮০
০৩ নতুন সঞ্চয়পত্র ক্রয় ১,০০,০০০
০৪ জীবন বীমার কিস্তি প্রদান ১২,০০০
০৫ ষ্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভূক্ত কোম্পানীর শেয়ারে বিনিয়োগ ৫,০০০
মোট প্রকৃত বিনিয়োগ, দান ইত্যাদি ২,১৪,০৮০

 

রেয়াত পূর্ববর্তী করদায় হবে নিম্নরূপ:

মোট আয় করের পরিমাণ (৳)
সঞ্চয়পত্রের সুদ বাদে নিয়মিত উৎসের আয় ৮,৩৮,২০০/- এর উপর প্রযোজ্য আয়কর:  
প্রথম ২,৫০,০০০/- টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর শূন্য
পরবর্তী ৪,০০,০০০/- টাকার উপর ১০% ৪০,০০০
অবশিষ্ট ১,৮৮,২০০/- টাকা আয়ের উপর ১৫% ২৮,২৩০
সঞ্চয়পত্রের সুদ আয়ের জন্য প্রদেয় কর:  
সঞ্চয়পত্রের সুদ আয় ৫০,০০০/- উপর উৎসে কর্তিত কর ২,৫০০
রেয়াত পূর্ববর্তী করদায় ৭০,৭৩০

জনাব সালাউদ্দিনের তথ্য অনুযায়ী রেয়াতের জন্য অনুমোদযোগ্য অংক (eligible amount) হবে:

(ক) মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ, দান ইত্যাদি ২,১৪,০৮০/-  
(খ) সঞ্চয়পত্রের সুদ ৮২সি ধারার আয় হওয়ায় উক্ত আয় বিনিয়োগ রেয়াতের অনুমোদনযোগ্য সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ পর্যায়ে বিবেচিত হবে না। তাই অনুমোদনযোগ্য অংক বিবেচনার জন্য উক্ত আয় ব্যতীত মোট আয় দাঁড়ায় (৮,৮৮,২০০-৫০,০০০) = ৮,৩৮,২০০/- টাকা যার উপর ২৫% হারে

 

 

২,০৯,৫৫০/-

(গ) ১,৫০,০০,০০০/-
  অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) [(ক) বা (খ) বা (গ), এ তিনটির মধ্যে যেটি কম]   ২,০৯,৫৫০/-

 

কর রেয়াতের পরিমাণ:
করদাতার মোট আয় ১০ লক্ষ টাকার অধিক না হওয়ায় কর রেয়াতের পরিমাণ হবে সরাসরি অনুমোদনযোগ্য অংক (eligible amount) ২,০৯,৫৫০/- টাকার ১৫% অর্থাৎ ৩১,৪৩৩/- টাকা।

নীট প্রদেয় কর:
নীট প্রদেয় করের পরিমাণ (৭০,৭৩০-৩১,৪৩৩)              ৩৯,২৯৭/-
বাদঃ  উৎসে কর্তিত কর                                           ২,৫০০/-        

অবশিষ্ট প্রদেয় করের পরিমাণ                                   ৩৬,৭৯৭/-

রিটার্নের সাথে যে সকল ডকুমেন্ট দাখিল করতে হবে

বিভিন্ন উৎসের আয়ের সপক্ষে যে সকল ডকুমেন্টের ফটোকপি  দাখিল করতে হবে আয়ের খাতওয়ারী সেগুলোর একটি তালিকা নিচে
দেয়া হলোঃ
বেতন খাতঃ
(ক) বেতন বিবরণী;
(খ) ব্যাংক এ্যাকাউন্ট থাকলে কিংবা ব্যাংক সুদ খাতে আয় থাকলে ব্যাংক বিবরণী বা ব্যাংক সার্টিফিকেট
(গ) জীবন বীমার প্রিমিয়াম দাবী করা হলে প্রিমিয়াম জমার রশিদের কপি নিরাপত্তা জামানতের সুদ খাতঃ
(ক) বন্ড বা ডিবেঞ্চার যে বছরে কেনা হয় সে বছরে বন্ড বা ডিবেঞ্চারের কপি;
(খ) সুদ আয় থাকলে সুদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র;
(গ) ব্যাংক বা প্রাতিষ্ঠানিক, ঋণ নিয়ে বন্ড বা ডিবেঞ্চার কেনা হয়ে থাকলে ঋণের সুদের সমর্থনে ব্যাংক সার্টিফিকেট/ব্যাংক বিবরণী বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রত্যয়নপত্র;

গৃহ সম্পত্তি খাতঃ
(ক) বাড়ী ভাড়ার সমর্থনে ভাড়ার চুক্তিনামা বা ভাড়ার রশিদের কপি মাসিক ভিত্তিক বাড়ী ভাড়া প্রাপ্তির বিবরণী এবং প্রাপ্ত বাড়ী ভাড়া জমা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব বিবরণী;
(খ) পৌর কর, সিটি কর্পোরেশন কর, ভুমি রাজস্ব প্রদানের সমর্থনে রশিদের কপি;
(গ) ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে বাড়ী কেনা বা নির্মাণ করা হয়ে থাকলে ঋণের সুদের সমর্থনে ব্যাংক সার্টিফিকেট;
(ঘ) গৃহ সম্পত্তি বীমাকৃত হলে বীমার প্রিমিয়ামের রশিদের কপি।

ব্যবসা বা পেশা খাতঃ
ব্যবসায়ের বা পেশার আয়-ব্যয়ের বিবরণী (Income Statement) ও স্থিতিপত্র (Balance Sheet) অংশীদারী ফার্মের আয়ঃ
ফার্মের আয়-ব্যয়ের বিবরণী (Income Statement) ও স্থিতিপত্র (Balance Sheet)
মূলধনী মুনাফাঃ
(ক) স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের দলিলের কপি;
(খ) উৎসে আয়কর জমা হলে তার চালান/পে-অর্ডারের ফটোকপি;
(গ) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কো¤পানীর শেয়ার লেনদেন থেকে মুনাফা হলে এ সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র;

অন্যান্য উৎসের আয়ের খাতঃ
(ক) লভ্যাংশ খাতে আয় থাকলে ডিভিডেন্ট ওয়ারেন্টের কপি বা সার্টিফিকেট;
(খ) সঞ্চয়পত্র হতে সুদ আয় থাকলে সঞ্চয় পত্র ভাঙ্গানোর সময় নেয়া সার্টিফিকেটের কপি;
(গ) ব্যাংক সুদ আয় থাকলে ব্যাংক বিবরণী/সার্টিফিকেট;
(ঘ) অন্য যে কোন আয়ের উৎসের জন্য প্রাসংগিক কাগজপত্র;

রিটার্ন ফিলাপের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

১.    গত বছরের রিটার্ন এর ফটোকপি সঙ্গে রাখুন।
২.    প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রের একটি তালিকা তৈরি করুন।
৩.    কাগজ গুলো ভালভাবে পরীক্ষা করুন নির্দিষ্ট সময়ের কি না। যেমন: ২০১৬-২০১৭ কর বছরের জন্য জুলাই ২০১৫ থেকে জুন ২০১৬ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হতে হবে।
৪.    রিটার্নের একটি ফটোকপি করুন এবং গত বছরের রিটার্ন দিয়ে খসড়া রিটার্ন তৈরি করুন।
৫.    প্রতিটি কাগজের দুইটি করে কপি করুন।
৬.    স্বাক্ষর করার আগে কম পক্ষে দুই বার চেক করুন।
৭.    যারা নিজে রিটার্ন ফিলাপ না করে অন্যদের উপর নির্ভরশীল তারা সুপ্রশিক্ষিত এবং দায়িত্বশীল ব্যাক্তি ছাড়া  কোন মতেই ব্ল্যাংক রিটার্নে স্বাক্ষর করবে না।
৮.    স্বাক্ষর করার আগে গত বছরের সম্পদগুলো যথাযথ পরীক্ষা করুন এবং এই বছরের নতুন কোন সম্পদ থাকলে তা ভালভাবে পরীক্ষা করুন।
৯.    মনে রাখবেন আয়নার সামনে দাড়ালে আপনার চেহারা যেমন দেখা যাবে, রিটার্নে আপনার সম্পদের আয় এবং ব্যয়ের সম্পূর্ণ চিত্র ফুটে উঠবে।
১০.    স্বাক্ষর করার পর একটি সেট আপনার ট্যাক্স ফাইলে সংরক্ষণ করুন।
১১.   রিটার্ন জমা হওয়ার পর রিটার্ন জমা দেওয়ার স্লিপ সংগ্রহ করুন।

মোট আয়ের উপর নিরূপিত প্রদেয় কর থেকে অগ্রীম পরিশোধিত কর সমন্বয় সাধন

(ক) উৎস হতে কর্তিত/সংগৃহীত করঃ
আয় বছরে করদাতার আয় থেকে উৎসে কর কেটে রাখা হলে তা  প্রচলিত রিটার্ন ফরম আইটি-১১গ এর  ১৬ নং ক্রমিকে  উল্লেখ করতে হবে। যেমন বেতন থেকে, ব্যাংক সুদ থেকে, গৃহ স¤পত্তির বার্ষিক ভাড়া থেকে, পেশাগত ফি থেকে উৎসে কেটে রাখা কর এখানে দেখাতে হবে। উৎসে কেটে রাখা করের  স্বপক্ষে কর কর্তনকারী কর্তৃপক্ষের সার্টিফিকেট  রিটার্নের  সাথে  দাখিল করতে হবে।

(খ) ধারা ৬৪/৬৮ অনুযায়ী প্রদত্ত অগ্রিম করঃ
করদাতা যদি অগ্রিম কর পরিশোধ করে থাকেন, তাহলে পরিশোধিত করের পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে এবং চালানের কপিও সাথে দিতে হবে।
 
(গ)  রিটার্নের ভিত্তিতে প্রদত্ত কর (ধারা ৭৪ অনুযায়ী)
রিটার্নে প্রদর্শিত মোট আয়ের ভিত্তিতে নিরূপিত প্রদেয় আয়কর হতে উৎসে কর্তিত  কর  এবং  ৬৪  ধারায়  অগ্রীম  প্রদত্ত  কর  বিয়োগকরে  অবশিষ্ট  কর পরিশোধের  সমর্থনে  চালান,  পে-অর্ডার,  ব্যাংক  ড্রাফট,  একাউন্ট  পেয়ী চেকের কপি দাখিলসহ পরিশোধিত করের পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে।
 
(ঘ)  প্রত্যর্পনযোগ্য করের সমন্বয়ঃ
আগের বছরগুলোতে করদাতার যদি কর ফেরত দাবী থাকে তবে তা তিনি এখানে কর পরিশোধ হিসেবে দাবী করতে পারবেন। ধরা যাক ২০১৫-১৬ কর বছরে করদাতার ফেরতযোগ্য করের পরিমাণ ছিল ৫,০০০/-  টাকা। ২০১৬-১৭ কর বছরে রিটার্নে প্রদর্শিত আয় অনুসারে প্রদেয় মোট আয়করের পরিমাণ ৮,০০০/-  টাকা। এ অবস্থায়  ২০১৫-১৬  কর বছরের ফেরতযোগ্য ৫,০০০/-  টাকা  ২০১৬-১৭  কর বছরে কর দাবীর বিপরীতে কর পরিশোধ হিসেবে দাবী করতে  পারবেন এবং ২০১৬-২০১৭  কর বছরের জন্য তাঁকে অবশিষ্ট ৩,০০০/- টাকা পরিশোধ করতে হবে।

আয়কর রিটার্ন ফরম কিভাবে পূরণ করতে হবে?

২০১৬-২০১৭ কর বর্ষে নতুন ফরমসহ ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতারা চার শ্রেণীর ফরম আছে আগের এবং বর্তমান ফরমের মধ্যে করদাতা যেটি সুবিধা মনে করবেন সেটি ব্যবহার করবেন।
নিম্নে ফরম চারটি উল্লেখ করা হল
১.    যে সকল ব্যক্তি করদাতার বেতন খাত হতে আয় রয়েছে সে সকল করদাতার জন্য আয়কর রিটার্ন ফরম (IT-11UMA) প্রযোজ্য হবে।
●    রিটার্ন  ফরমটি  কেবল  বেতনভূক্ত  করদাতাদের  জন্য  প্রণয়ন  করা  হয়েছে (পরিশিষ্ট-খ)।  করদাতার পরিচিতিমূলক তথ্য, বিভিন্ন খাতের আয়ের বিবরণ এবং প্রদেয় ও পরিশোধিত আয়করের বিবরণ প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।
●    রিটার্নটির  অপর  পৃষ্ঠায়  বেতনভূক্ত  করদাতাদের  জন্য  প্রণীত  পৃথক  সম্পদ বিবরণী (IT-10BBB) এর ছক মুদ্রিত আছে।
●    রিটার্ন ফরমটির সাথে ফরম পূরণের অনুসরণীয় নির্দেশাবলী রয়েছে।
●    এ  রিটার্ন  ফরমের  সাথে  জীবনযাত্রার  মান  সম্পর্কিত  তথ্য  বিবরণী  বা  ফরম আইটি-১০বিবি দাখিল বাধ্যতামূলক নয়। তবে কোন করদাতা ইচ্ছা পোষণ করলে আইটি-১০বিবি দাখিল করতে পারবেন।
●    উল্লেখ্য, এ ধরণের করদাতারা ইচ্ছা করলে আইটি-১১ঙ এর পরিবর্তে ব্যক্তি শ্রেণীর জন্য প্রচলিত  আট পৃষ্ঠার  আয়কর রিটার্ন ফরম আইটি-১১গ ব্যবহার করতে পারবেন।
●    রিটার্ন  ফরমটি  পুরণকালে  করদাতাগণ  এই  নির্দেশিকার  তৃতীয়  ভাগে  বর্ণিত পদ্ধতিতে বিভিন্নখাতের আয় পরিগণনা করে রিটার্নের নির্দিষ্ট অংশে লিপিবদ্ধ করতে পারেন। ফরমটি ৫৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে
২.    যে সকল ব্যক্তি করদাতার ব্যবসা বা পেশাখাতে আয় রয়েছে ও এরূপ আয়ের পরিমাণ ৩ লক্ষ টাকার বেশী নয় সে সকল করদাতার জন্য আয়কর রিটার্ন ফরম (IT-11CHA)  প্রযোজ্য হবে।
●    যে সকল ব্যক্তি করদাতার ব্যবসা বা পেশাখাতে আয় রয়েছে এবং এরূপ আয়ের পরিমাণ ৩ লক্ষ টাকার বেশী নয় সে সকল করদাতার জন্য এই আয়কর রিটার্ন ফরম  (IT-11CHA)  প্রণয়ন  করা  হয়েছে  (পরিশিষ্ট-গ পৃষ্ঠা নং ৫৫ )।  করদাতার পরিচিতিমূলক তথ্য, বিভিন্ন খাতের আয়ের বিবরণ এবং প্রদেয় ও পরিশোধিত আয়করের বিবরণ প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।
●    রিটার্নটির  অপর  পৃষ্ঠায়  এ  ধরনের  করদাতাদের  জন্য  পৃথক  সম্পদ  বিবরণী (IT-10BBBB) এর ছক মুদ্রিত আছে।
●    রিটার্ন ফরমটির সাথে ফরম পূরণের অনুসরণীয় নির্দেশাবলী রয়েছে।
●    এ  রিটার্ন  ফরমের  সাথে  জীবনযাত্রার  মান  সম্পর্কিত  তথ্য  বিবরণী  বা  ফরম আইটি-১০বিবি দাখিল বাধ্যতামূলক নয়। তবে কোন করদাতা ইচ্ছা পোষণ করলে আইটি-১০বিবি দাখিল করতে পারবেন।  
●    উল্লেখ্য, এ ধরণের করদাতারা ইচ্ছা করলে আইটি-১১চ এর পরিবর্তে ব্যক্তি শ্রেণীর জন্য প্রচলিত  আট পৃষ্ঠার  আয়কর রিটার্ন ফরম আইটি-১১গ ব্যবহার করতে পারবেন।
●    রিটার্ন  ফরমটি  পূরণকালে  করদাতাগণ  এই  নির্দেশিকার  তৃতীয়  ভাগে  বর্ণিত পদ্ধতিতে বিভিন্নখাতের আয় পরিগণনা করে রিটার্নের নির্দিষ্ট অংশে লিপিবদ্ধ করতে পারেন। ফরমটি ৫৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে।
 ৩.    যে সকল ব্যক্তি করদাতার ব্যবসা বা পেশাখাতে আয় ৩ লক্ষ  টাকার বেশী  সে সকল করদাতার জন্য পূর্বের ফরম (IT-11GA) প্রযোজ্য হবে।
    এ ফরম বাংলা ও ইংরেজী উভয় ভাষায় চালু আছে (পরিশিষ্ট-ঘ)। সকল ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতা এ ফরমটি ব্যবহার করতে পারবেন। এই রিটার্নটি আট পৃষ্ঠা বিশিষ্ট যার প্রথম পৃষ্ঠায় করদাতার পরিচিতিমূলক তথ্য, দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় করদাতার বিভিন্ন খাতের আয়ের বিবরণ, প্রদেয় ও পরিশোধিত আয়করের বিবরণ ও প্রতিপাদন, তৃতীয় পৃষ্ঠায় বেতন ও গৃহস¤পত্তি  আয়ের  বিস্তারিত  বিবরণ  সম্বলিত  পৃথক  দু’টি  তফসিল,  চতুর্থ  পৃষ্ঠায় বিনিয়োগজনিত  কর  রেয়াতের  একটি  তফসিল  ও  দাখিলকৃত  প্রমাণাদির  তালিকা লিপিবদ্ধ করার ছক রয়েছে। রিটার্নের পঞ্চম ও ষষ্ঠ পৃষ্ঠায় করদাতার স¤পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী, সপ্তম পৃষ্ঠায় জীবনযাত্রার মান স¤পর্কিত তথ্যের বিবরণী এবং শেষ পৃষ্ঠায় রিটার্ন ফরম পূরণের অনুসরণীয় নির্দেশাবলী রয়েছে।  তবে ১নং, ২নং এ বর্ণিত করদাতারাও ইচ্ছা করলে এই ফরম ব্যবহার করতে পারবেন। ফরমটি ৫৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে।
 ৪.  সকল ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতার জন্য ফরম আইট-১১গ-২০১৬
(১) ব্যক্তি করদাতার জন্য নতুন প্রবর্তিত রিটার্ন ফরম ITGA2016 এর মূল রিটার্নটি তিন পৃষ্ঠার (পরিশিষ্ট-ঙ)। মূল রিটার্নের সাথে প্রাপ্তি স্বীকার পত্র এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বেতন, গৃহ সম্পত্তির আয়, ব্যবসায় বা পেশা খাতে আয় ও কর রেয়াতের জন্য পৃথক তফসিল সংযুক্ত করতে হবে। তিন পৃষ্ঠার মূল রিটার্ন পূরণ করা সকল ব্যক্তি করদাতাদের জন্য বাধ্যতামূলক। এত প্রথম পৃষ্ঠায় করদাতার বিষয়ে মৌলিক তথ্য, দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় আয় ও করের হিসাব এবং তৃতীয় পৃষ্ঠায় সংলাগ, করদাতার প্রতিপাদন ও স্বাক্ষর প্রদান করতে হবে।

করদাতার আয়ের উৎসের উপর নির্ভর করে মূল রিটার্নের সাথে তফসিল যোগ হবে। বেতন আয় থাকলে বেতন সংক্রান্ত তফসিল 24A, বাড়িভাড়া  আয় থাকলে সে আয়ের তফসিল 24B এবং ব্যবসায় বা পেশাগত আয় থাকলে ব্যবসায় বা পেশাগত আয়ের তফসিল 24C মূল রিটার্নের সাথে যোগ হবে। যে করদাতার এসব কোন খাতের আয় নেই তার কেবল তিন পৃষ্ঠার মূল রিটার্ন দাখিল করলেই চলবে, তফসিল দাখিল করার প্রয়োজন হবে না।

কেউ বিনিয়োগ রেয়াত দাবি করলে মূল রিটার্নের সাথে বিনিয়োগ রেয়াত সংক্রান্ত তফসিল 24D দাখিল করতে হবে। করদাতা রেয়াত দাবি না করলে তফসিল 24D দাখিল করার প্রয়োজন হবেনা।

মূল রিটার্নের প্রথম পৃষ্ঠার ০১ হতে ২৩ পর্যন্ত ক্রমিকে করদাতার বিষয়ে মৌলিক তথ্য প্রদান করতে হবে। এ অংশে পর্যায়ক্রমে কর বছর, করদাতার নাম, লিঙ্গ, টিআইএন, সার্কেল, কর অঞ্চল, আবাসিক মর্যাদা, বিশেষ কর অব্যাহতি সুবধাপ্রাপ্তির যোগ্যতা  গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধি ব্যক্তি, ৬৫ বছর বা তদুর্ধ্ব বয়সের ব্যক্তি, প্রতিবন্ধি ব্যক্তির পিতামাত বা আইনানুগ অভিভাবক ইত্যাদি), জন্ম তারিখ, আয় বছর ইত্যাদি সহ অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করতে হবে। ১২ ক্রমিকে আয় বছর শুরু ও সমাপ্তির তারিখ উল্লেখ করতে হবে।

রিটার্নের দ্বিতীয় পৃষ্ঠার ২৪ হতে ৪৮ ক্রমিকে করদাতা আয় ও করের তথ্য উল্লেখ করতে হবে।
রিটার্নের তৃতীয় পৃষ্ঠায় সংলাগ, করদাতার প্রতিপাদন ও স্বাক্ষর প্রদান করতে হবে।
কোন ব্যক্তি করদাতা প্রতিবন্ধি সন্তানের জন্য অতিরিক্ত করমুক্ত সীমার সুবিধা গ্রহণ করলে, তার স্ত্রী/স্বমী অনুরূপ সুবিধা গ্রহণ করেছেন কি-না তার তথ্য ৫০ ক্রমিকে প্রদান করতে হবে।

ক্রমিক নং-৫১ তে ৮০(১) ধারা অনুযায়ী করদাতার জন্য পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী (IT-10B2016)
করদাতার রিটার্নের সাথে যে সকল তফসিল সংযুক্ত করা হয়েছে তার তথ্য ৫২ ক্রমিকে প্রদান করতে হবে।

করদাতার রিটার্নের সাথে পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী (IT-10B2016) এবং জীবনযাত্রা সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণী (IT-10B2016) সংযুক্ত করা হয়েছে কি না তার তথ্য ৫৩ ক্রমিকে প্রদান করতে হবে।

কোন ব্যক্তি-করদাতার ক্ষেত্রে পরিসম্পদ , দায় ও ব্যয় বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক না হলেও করদাতা চাইলে স্বপ্রণোদিতভাবে voluntarily) পরিসম্পদ, দায় ও ব্যয় বিবরণী দাখিল করতে পারবেন।
ক্রমিক নং-৫৪ তে রিটার্নের বিভিন্ন উৎসের আয় ও কর পরিশোধের স্বপক্ষে যে সকর প্রমাণাদি দাখিল করবেন তার তালিকা প্রদান করবেন।
ক্রমিক নং-৫৫ তে করদাতার পূর্ণ নাম উল্লেখ করবেন এবং রিটার্নে প্রদর্শিত আয়ের সত্যতা সম্পর্কে ৭৫ ধারা অনুযায়ী প্রতিপাদন ও স্বাক্ষর (তারিখ সহ) প্রদান করবেন।
www.goldenbusinessbd.com -এ ফরমগুলো কনভার্ট করে দেওয়া  হয়েছে। শুধুমাত্র আপনার তথ্যগুলো ফরমে Input দিলে ১০/১৫ মিনিটের মধ্যেই আপনার রিটার্নটি তৈরি হয়ে যাবে। ফাইলটি সেভ করে প্রিন্ট দিয়ে এর সাথে প্রয়োজনীয় কাগজ সংযুক্তি করে আয়কর  অফিসে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।