Business Blog

Displaying 51-60 of 60 results.

রিটার্ন দাখিলের পদ্ধতি

Picture

বর্তমানে রিটার্ন দাখিলের জন্য দু’টি পদ্ধতি প্রচলিত আছে। যথাঃ  সাধারণ পদ্ধতি ও সার্বজনীন  স্বনির্ধারণী  পদ্ধতি। নিম্নে পদ্ধতি  দু’টি  স¤পর্কে  বিস্তারিত আলোচনা  করা হলোঃ

সাধারণ পদ্ধতিঃ
রিটার্নে  সার্বজনীন  স্বনির্ধারণী  পদ্ধতি  উল্লেখ  করা  না  হলে  রিটার্নটি  সাধারণ  পদ্ধতির আওতায়  দাখিলকৃত  বলে  গণ্য  হবে।  এক্ষেত্রে  রিটার্নে  প্রদর্শিত  আয়ের  সমর্থনে যথোপযুক্ত তথ্য ও প্রমাণাদি না থাকলে করদাতার শুনানী গ্রহণপূর্বক মামলা নি®পত্তির বিধান রয়েছে।

সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিঃ
করদাতা তাঁর নিজের আয় নিজে পরিগণনা করে প্রযোজ্য আয়কর পরিশোধ করবেন -এটি  বিশ্বব্যাপী  বহুল  অনুসৃত  পদ্ধতি।  এই  পদ্ধতিতে  করদাতার  দাখিলকৃত  রিটার্ন প্রাথমিকভাবে বিনা প্রশ্নে আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত হয়। রিটার্ন দাখিলের সমর্থনে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র এক্ষেত্রে কর  নির্ধারণী  আদেশ হিসেবে বিবেচিত হয়।  করদাতা রিটার্ন ফরম পূরণ পর্যায়ে রিটার্নের প্রথম পৃষ্ঠায়  সার্বজনীন  স্বনির্ধারণী  পদ্ধতির ঘরে টিক প্রদান করলে কিংবা  রিটার্নের  উপরে  সার্বজনীন  স্বনির্ধারণী  পদ্ধতি  উল্লেখ করলে দাখিলকৃত রিটার্নটি  সার্বজনীন  স্বনির্ধারণী  পদ্ধতির  আওতায়  গৃহীত  হবে।  সার্বজনীন  স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে  দাখিলকৃত  রিটার্ন   সমূহের  মধ্যে  একটি  অংশ  জাতীয়  রাজস্ব  বোর্ড  কর্তৃক নির্ধারিত এর ভিত্তিতে পরবর্তীতে অডিট হয়ে থাকে।
২০১৪-২০১৫ করবর্ষে সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে দাখিলকৃত রিটার্ণসমূহের মধ্যে যে সকল রিটার্ন পূর্ববর্তী কর বছরের নিরূপিত আয়ের কমপক্ষে ২০% আয় বৃদ্ধি করে এবং নি¤েœাক্ত শর্ত সমূহ  পূরণ করে  দাখিল  করবে  কর বিভাগ  কর্তৃক  উক্ত  রিটার্ন  অডিট  না করার বিধান করা হয়েছে।
পালনীয় শর্তসমূহঃ
ক. রিটার্নের ভিত্তিতে ফেরতযোগ্য কর সৃষ্টি হবে না।
খ. কোনরূপ দান গ্রহণ প্রদর্শন করা যাবে না।
গ. রিটার্নে করমুক্ত আয় প্রদর্শন করলে করমুক্ত আয়ের সমর্থনে যাচাইযোগ্য দালিলিক প্রমানাদি রিটার্নের সাথে দাখিল করতে         হবে।
ঘ. আয়কর  অধ্যাদেশ,  ১৯৮৪  এর  ৪৪  ধারা  অনুযায়ী  জারীকৃত  প্রজ্ঞাপন অনুসারে  হ্রাসকৃত হারে আয়কর প্রযোজ্য হয়         এরূপ কোন আয় প্রদর্শন করা যাবে না।
ঙ. ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা অন্য যেকোন উৎস থেকে ৫ লক্ষ টাকার অধিক ঋণ গ্রহন প্রদর্শন করা হলে দাখিলকৃত         রিটার্নের সাথে গৃহীত ঋণ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বিবরণী বা হিসাব বিবরণী দাখিল করতে হবে।
পূর্ববর্তী  বছরের  ন্যায়  এ  বছরও  আয়কর  অধ্যাদেশের  ৮২বিবি  ধারায়  সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে দাখিলকৃত নতুন রিটার্নে ব্যবসা ও পেশা খাতে প্রদর্শিত আয়ের ৪ গুন হারে প্রারম্ভিক পূঁজি নেয়া যাবে। তবে এ পূঁজি বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট আয় বছরে বা আয় বছর শেষ হওয়ার  পরবর্তী ৫  বছরের মধ্যে  ব্যবসা বা পেশা থেকে  স্থানান্তর  করা  যাবে না। করলে যে বছর স্থানান্তর করা হবে, সে বছরের সংশ্লিষ্ট করবছরে অর্থ স্থানান্তরকারীর অন্যান্য উৎসের আয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
উল্লেখ্য যে, নিরীক্ষার আওতায় না পড়লেও কোন রিটার্নে আয় গোপন করা হলে বা কর ফাঁকি থাকলে, সংশ্লিষ্ট করবছরের  রিটার্নের ক্ষেত্রে অধ্যাদেশের ৯৩  ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

উদাহরণ-১
করদাতা জনাব ইকবাল হোসেন ২০১৪-১৫ কর বছরে ১০ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে এবং ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা নীট সম্পদ প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেন। তিনি রিটার্ন দাখিলের সময় সারচার্জসহ প্রদেয় আয়কর ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৬ শত টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি ৮ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেছিলেন। ৩০ জুন, ২০১৩ তারিখে তিনি ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা নীট সম্পদ প্রদর্শন করেন। তিনি ২০১৪-১৫ কর বছরের আয়কর রিটার্নে IT-10B ফরম এর ক্রমিক নং- ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ এবং ১৮ তে কোন তথ্যাদি প্রদান করেননি। অর্থাৎ করদাতা ২০১৩-১৪ আয় বছরের খরচের হিসাব, সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ এবং সম্পদ বৃদ্ধির ব্যাখ্যা প্রদর্শন করেননি।
এক্ষেত্রে করদাতা জনাব ইকবাল বিগত বছরের নিরূপিত আয়ের চেয়ে ২০% বেশি আয় প্রদর্শন করে রিটার্ন দাখিল করলেও ২০১৪-১৫ কর বছরের দাখিলকৃত রিটার্নটিকে পড়সঢ়ষবঃব রিটার্ন বলে গণ্য করা যাবে না। ফলে করদাতা তাঁর রিটার্নটি ৮২ইই ধারায় অডিটের আওতা বহির্ভূত থাকার সুবিধা পাবেন না।

উদাহরণ-২
করদাতা জনাব বদিউল আলম ২০১৪-১৫ কর বছরে ১৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে এবং ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা নীট সম্পদ প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেন। তিনি রিটার্ন দাখিলের সময় প্রদেয় আয়কর ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি ১১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেছিলেন। ৩০ জুন, ২০১৩ তারিখে তিনি ১ কোটি ৭৫ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা নীট সম্পদ প্রদর্শন করেন। ২০১৪-১৫ কর বছরের আয়কর রিটার্নে IT-10BB র্ফম এ ২০১৩-১৪ আয় বছরের যাবতীয় খরচ বাবদ মোট ১০ লক্ষ টাকা প্রদর্শন করেন এবং তা ওঞ-১০ই র্ফম এর ক্রমিক নং- ১৫ তে উল্লেখ করেন। তিনি ৩০ জুন, ২০১৪ তারিখের IT-10B ফরম এর ক্রমিক নং- ১৮ তে ১০ লক্ষ টাকা পার্থক্য প্রদর্শন করেন।  অর্থাৎ ৩০ জুন, ২০১৪ তারিখে করদাতা জনাব বদিউল আলমের সম্পদ বৃদ্ধি ও খরচের পরিমাণ ২০১৩-১৪ আয় বছরের আয়ের উৎসের তুলনায় ১০ লক্ষ টাকা বেশি।
এক্ষেত্রে করদাতা জনাব বদিউল আলম বিগত বছরের নিরূপিত আয়ের চেয়ে ২০% বেশি আয় প্রদর্শন করে রিটার্ন দাখিল করলেও ২০১৪-১৫ কর বছরের দাখিলকৃত রিটার্নটিকে সঠিক রিটার্ন বলে গণ্য করা যাবে না এবং করদাতা তাঁর রিটার্নটি 82BB ধারায় অডিটের আওতা বহির্ভূত থাকার সুবিধা পাবেন না। কারণ এক্ষেত্রে করদাতার সম্পদ বৃদ্ধি ও খরচের পরিমাণ তাঁর আয়ের পরিমাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সুতরাং এ রিটার্নটিকে সাধারণ পদ্ধতিতে দাখিলকৃত রিটার্ন বলে অভিহিত করে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ৮৩(২) অথবা ৮৪ ধারায় কর নির্ধারণ করা যাবে।

উদাহরণ-৩
করদাতা জনাব রুহুল আমিন ২০১৪-১৫ কর বছরে ২০ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে এবং ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা নীট সম্পদ প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেন। তিনি রিটার্ন দাখিলের সময় প্রদেয় আয়কর ৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি ১৮ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।
এক্ষেত্রে করদাতা জনাব রুহুল আমিন বিগত বছরের নিরূপিত আয়ের চেয়ে ২০% বেশি আয় প্রদর্শন করেননি বিধায় তাঁর দাখিলকৃত রিটার্নটি 82BB ধারায় অডিটের আওতা বহির্ভূত থাকার সুবিধা পাবেন না।

উদাহরণ-৪
করদাতা জনাব জসীমুদ্দিন আহম্মেদ ২০১৪-১৫ কর বছরে ১০ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে এবং ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা নীট সম্পদ প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেন। তিনি রিটার্ন দাখিলের সময় সারচার্জসহ প্রদেয় আয়কর ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৬ শত টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন। তিনি উক্ত রিটার্নে বিদেশে অর্জিত আয় হিসেবে ২৫ লক্ষ টাকা করমুক্ত আয় প্রদর্শন করেন কিন্তু উক্ত আয়ের স্বপক্ষে কোনরূপ দালিলিক প্রমাণাদি দাখিল করেন নাই। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি ৮ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।
এক্ষেত্রে করদাতা জনাব জসীমুদ্দিন আহম্মেদ বিগত বছরের নিরূপিত আয়ের চেয়ে ২০% বেশি আয় প্রদর্শন করলেও তাঁর দাখিলকৃত রিটার্নটি 82BB ধারায় অডিটের আওতা বহির্ভূত থাকবে না, কারণ তিনি রিটার্নের সাথে করমুক্ত আয়ের স্বপক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণাদি দাখিল করেননি।  

উদাহরণ-৫
করদাতা মোসাঃ শামীমা পারভীন ২০১৪-১৫ কর বছরে ১৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে ৮২ইই ধারায় রিটার্ন দাখিল করেন। তিনি রিটার্ন দাখিলের সময় প্রদেয় আয়কর ১ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন। তিনি উক্ত রিটার্নে তাঁর স্বামীর নিকট থেকে ৫০ লক্ষ টাকা দান প্রাপ্তি প্রদর্শন করেন। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি ১১ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে ৮২ইই ধারায় রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।
এক্ষেত্রে করদাতা জনাবা শামীমা পারভীন বিগত বছরের নিরূপিত আয়ের চেয়ে ২০% বেশি আয় প্রদর্শন করলেও বিবেচ্য কর বছরে দান প্রাপ্তি প্রদর্শন করেন বিধায় তাঁর দাখিলকৃত রিটার্নটি ৮২ইই ধারায় অডিটের আওতা বহির্ভূত থাকার সুবিধা পাবেন না।

উদাহরণ-৬
করদাতা সেহেলা সিদ্দিকা ২০১৪-১৫ কর বছরে ১০ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে এবং ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা নীট সম্পদ প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেন। তিনি রিটার্ন দাখিলের সময় সারচার্জসহ প্রদেয় আয়কর ১ লক্ষ ৪ হাজার ৫ শত টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন। তিনি উক্ত রিটার্নে তাঁর মামার নিকট থেকে ১০ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ প্রদর্শন করেন কিন্তু ঋণ গ্রহণের সমর্থনে তাঁর ব্যাংক বিবরণী দাখিল করেননি। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি ৮ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।
এক্ষেত্রে করদাতা সেহেলা সিদ্দিকা বিগত বছরের নিরূপিত আয়ের চেয়ে ২০% বেশি আয় প্রদর্শন করলেও বিবেচ্য কর বর্ষে ঋণ গ্রহণের সমর্থনে ব্যাংক বিবরণী দাখিল করেননি বিধায় তাঁর দাখিলকৃত রিটার্নটি 82BB ধারায় অডিটের আওতা বহির্ভূত থাকার সুবিধা পাবেন না।  

উদাহরণ-৭
করদাতা জনাব রবিউল আওয়াল ২০১৪-১৫ কর বছরে ২০ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে এবং ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা নীট সম্পদ প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেন। তিনি রিটার্ন দাখিলের সময় প্রদেয় আয়কর ৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি ১৬ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেছিলেন। তিনি উক্ত রিটার্নে মৎস্য চাষ খাতে ৫ লক্ষ টাকা আয় প্রদর্শন করেন।
এক্ষেত্রে করদাতা জনাব রবিউল আওয়াল বিগত বছরের নিরূপিত আয়ের চেয়ে ২০% বেশি আয় প্রদর্শন করলেও বিবেচ্য কর বছরে হ্রাসকৃত হারে আয়কর প্রযোজ্য হয় এরূপ মৎস্য চাষ খাতে আয় প্রদর্শন করেছেন বিধায় তাঁর দাখিলকৃত রিটার্নটি 82BB ধারায় অডিটের আওতা বহির্ভূত থাকার সুবিধা পাবেন না।

উদাহরণ-৮
করদাতা জনাব শামীম আল মামুন ২০১৪-১৫ কর বছরে ১৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেন। তিনি উক্ত রিটার্নে উৎসে কর পরিশোধ বাবদ ৫০ হাজার টাকা, অগ্রিম আয়কর পরিশোধ বাবদ ১ লক্ষ টাকা এবং বিগত কর বছরের ফেরত যোগ্য কর বাবদ ৭৫ হাজার টাকা সর্বমোট ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা কর পরিশোধ দাবি করে উক্ত রিটার্নে ৩৫ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য কর প্রদর্শন করেন। ২০১৩-১৪ কর বছরে তিনি ১১ লক্ষ টাকা মোট আয় প্রদর্শন করে 82BB ধারায় রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।
এক্ষেত্রে করদাতা জনাব শামীম আল মামুন বিগত বছরের নিরূপিত আয়ের চেয়ে ২০% বেশি আয় প্রদর্শন করলেও বিবেচ্য কর বর্ষের রিটার্নে ফেরতযোগ্য কর প্রদর্শন করেছেন বিধায় তাঁর দাখিলকৃত
রিটার্নটি 82BB ধারায় অডিটের আওতা বহির্ভূত থাকার সুবিধা পাবেন না।
এ বিধান ২০১৪-১৫ কর বছর থেকে কার্যকর হবে।

করমুক্ত এবং কর অব্যাহতির জন্য দাবীকৃত আয় (করবর্ষ ২০১৫-২০১৬ জন্য প্রযোজ্য)

Picture

করদাতার করমুক্ত এবং কর অব্যাহতি প্রাপ্ত আয় থাকলে তা এখানে দেখাতে হবে। ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়ের কয়েকটি আইটেম নিচে দেয়া হলোঃ
(১)    করদাতা যদি চাকুরীর দায়িত্ব পালনের জন্য কোন বিশেষ ভাতা, সুবিধা বা আনুতোষিক (perquisite) পান;
(২)    পেনশন;
(৩)    অংশীদারী ফার্ম হতে পাওয়া মূলধনী মুনাফার (ফার্ম কর্তৃক কর পরিশোধিত) অংশ;
(৪)    গ্রাচুইটি প্রাপ্তি;
(৫)    প্রভিডেন্ট ফান্ড (এ্যাক্ট, ১৯২৫ অনুযায়ী) থেকে প্রাপ্ত অর্থ;
(৬)    স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ;
(৭)    স্বীকৃত সুপারএ্যানুয়েশন ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ;
(৮)    কোম্পানীজ প্রফিট  (ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন) এ্যাক্ট ১৯৬৮ এর আওতায় ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন ফান্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থ;
(৯)    মিউচুয়্যাল ফান্ড অথবা ইউনিট ফান্ড থেকে পাওয়া লভ্যাংশ (dividend)) যা ২৫,০০০/-টাকার বেশী নয়;
(১০)    নগদ লভ্যাংশ খাতে প্রাপ্ত আয় ২০,০০০/- টাকা পর্যন্ত
(১১)    সরকারি নিরাপত্তা জামানতের সুদ যা সরকার করমুক্ত বলে ঘোষণা করেছে;
(১২)    রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ী অধিবাসীর দ্বারা এই জেলাগুলোতেপরিচালিত আর্থিক কর্মকান্ডের ফলে প্রাপ্ত আয়;
(১৩)    রপ্তানী ব্যবসা হতে প্রাপ্ত আয়ের ৫০%;
(১৪)    আয়ের একমাত্র উৎস ’কৃষি খাত’ হলে কৃষি খাত হতে আয় ২,০০,০০০/-টাকা পর্যন্ত;
(১৫)    ২০০৮ সালের জুলাই মাসের প্রথম দিন হতে ২০১৯ সালের জুলাই মাসের ত্রিশতম দিন পর্যন্ত Software Development and info-rmation Technology Enabled Services (ITES) এর ব্যবসা-উদ্ভূত যেকোন আয়  তবে শর্ত থাকে যে, সংশি−ষ্ট ব্যাক্তি ধারা ৭৫(২) (সি) এর বিধানমতে আয়কর রিটার্ণ দাখিল করতে হবে।
ব্যাখ্যা- Info-rmation Technology Enabled Services (ITES) ej‡Z Digital Content Development and Manage-ment,Animation (both 2D and 3D), Geographic Information Service (GIS), IT Support and Software Maintenance Services, Web Site Services Business Process Outsourcing, Data Entry, Data Processing,Call Centre,Graphics Design (Digital Service),Search Engine Optimization,Web Listing, E-commerse and Online Shopping,Document Conversion,Imaging and Archiving বুঝাবে ।  

(১৬)    ১লা জুলাই ২০১১ হতে তারিখ ৩০শে জুন, ২০১৫ তারিখ পর্যন্ত সময়সীমার মধ্যে পোলট্রি খামারায়ন হতে নিম্নে বর্ণিত শর্তাবলী সাপেক্ষে যেকোন আয়ঃ
(এ) যদি ঐরূপ আয় ১,৫০,০০০/- টাকার অধিক হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ঐরূপ আয়ের অন্যূন ১০ শতাংশ আয় বর্ষ সমাপ্ত হবার ছয় মাসের মধ্যে সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত বণ্ড বা সিকিউরিটি ক্রয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ হতে হবে;
(বি) ঐ ব্যাক্তি অত্র অধ্যাদেশের ৭৫ ধারার উপ-ধারা (২) এর দফা (সি)-এর বিধাাবলী অনুসরণ করে তার আয়ের রিটার্ন দাখিল করতে হবে; এবং
(সি) ঐরূপ কোন আয় আয় বর্ষ সমাপ্ত হবার পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে দান বা ঋণ
      প্রদানের অজুহাতে হস্তান্তর করা যাবে না।

(১৭)    স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানীর শেয়ার বিক্রয় হতে অর্জিত মূলধনী মুনাফা (এসআরও নং ২৬৯ আইন/আয়কর/২০১০ তাং ১/৭/২০১০)।
(১৮)    বাংলাদেশের বাইরে উদ্ভুত আয় প্রচলিত আইনের অধীনে বাংলাদেশে আনীত হলে, উক্ত আয় (এসআরও নং ২১৬ আইন/আয়কর/২০০৪)।
(১৯)    হস্তশিল্পজাত পণ্য রপ্তানী হতে উদ্ভূত আয়।
(২০)    তেল গ্যাস উৎপাদনে নিয়োজিত কোন কোম্পানীকে সরকার কর্তৃক উহার আয়কর বাবদ অর্থ পরিশোধ করা হলে উক্ত তেল গ্যাস কোম্পানীর আয়।
(২১)    বেসরকারি কৃষি কলেজ ও কৃষি বিষয়ক শিক্ষা কার্যক্রম হতে উদ্ভিত্ত যে কোন আয়;
(২২)    বাংলাদেশের অবস্থিত যেকোন দালান হইতে অর্জিত আয় যাহা কম পক্ষে দশ ফ্ল্যাট বিশিষ্ট পাঁচ তলা দালান নির্মাণ কাল ১লা জুলাই ২০০৯ এবং ৩০ শে জুন ২০১৪ (উভয় দিন সহ ) এর মধ্যে দালান সম্পূর্ণ হইবার তারিখ হইতে দশ বৎসরের জন্য সিটি কর্পোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, টঙ্গী উপজেলা, নারায়নগঞ্জ পৌরসভা, গাজীপুর পৌরসভা এবং ঢাকা জেলার যে কোন পৌরসভা এলাকায় উপস্থিত যে কোন দালান ব্যতীত।
(২৩)    ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প যার বার্ষিক টার্ণওভারের পরিমাণ ৩০ লক্ষ টাকার বেশী নয় উহার আয়;
(২৪)    জিরো কুপন বন্ড হতে উদ্ভূত আয়;)
(২৫)    সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সঞ্চয়ী হিসাব স্কিম হতে অর্জিত সুদ আয় (এসআরও নং ৮৯ আইন আয়কর/২০০৩)
(২৬) একজন করদাতার আয়ের পঞ্চাশ শতাংশ পরিমাণ অর্থ,যা শস্য মেইজ বা ইক্ষু উৎপান থেকে উদ্ভূদ হয়েছে।
(২৭) কোন অর্থ বর্ষে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাষ্ট আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ১৫নং আইন) (Trust of Prime Minister’s Education Assistance Act 2012) (Act no. 15 of 2012) (অপঃ হড়. ১৫ ড়ভ ২০১২) দ্বারা বা তদধীন গঠিত যে কোন তহবিলে করদাতা আয় হতে দানকৃত অর্থ নিম্নে বর্ণিত সর্বোচ্চ সীমা সাপেক্ষে-
ধ) কোন কোম্পানীর আয়ের বিশ শতাংশ (২০%)  বা ১২ কোটি টাকা, এতদোভয়ের মধ্যে যেটি কম:
ন) কোম্পানী নয় এরূপ করদাতার আয়ের বিশ শতাংশ (২০%) বা ১ কোটি টাকা, এতদোভয়ের মধ্যে যেটি কম:

আয়কর রিটার্নের প্রকারভেদ

Picture

ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতা ও কো¤পানী করদাতাদের জন্য পৃথক  পৃথক  রিটার্ন ফরম চালু আছে। যথাঃ-        
ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতার জন্য রিটার্ন ফরমঃ         
      ●    আইটি-১১গ
    এ ফরম বাংলা ও ইংরেজী উভয় ভাষায় চালু আছে (পরিশিষ্ট-ঘ, পৃষ্ঠা নং-৪৭)। সকল ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতা এ ফরমটি ব্যবহার     করতে পারবেন।
    
    ●    আইটি-১১ঙ
    রিটার্ন  ফরমটি  (IT-11-UMA)  কেবল  বেতনভোগী  করদাতাদের  জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে (পরিশিষ্ট-খ, পৃষ্ঠা নং-৩৮)।
    ●    আইটি-১১চ
    যে  সকল  ব্যক্তি  করদাতার  ব্যবসা  বা  পেশাখাতে  আয়  রয়েছে  এবং  এরূপ আয়ের  পরিমাণ  ৩  লক্ষ  টাকার      বেশী  নয়  সে  সকল  করদাতার  জন্য  এই আয়কর রিটার্ন  ফরম (IT-11CHA) প্রণয়ন করা হয়েছে (পরিশিষ্ট-গ, পৃষ্ঠা নং-৪৪)  

¯পট এ্যাসেসমেন্ট এর আওতাধীন করদাতাদের জন্য ভিন্ন রিটার্ন ফরমঃ
রিটার্ন ফরমটি  (IT-GAGA)  কেবলমাত্র ¯পট এ্যাসেসমেন্ট এর আওতাধীন ব্যবসা এবং ডাক্তার ও আইন পেশায় নিয়োজিত তুলনামূলক কম আয়ের নতুন করদাতাদের  জন্য  প্রযোজ্য  (পরিশিষ্ট-খ)।  ব্যবসার  ক্ষেত্রে  যাদের  ব্যবসার পুঁজি সর্বোচ্চ  ১৫  লক্ষ টাকা এবং ডাক্তার  বা আইনজীবী যারা অনধিক ১০ বছর  তাঁদের  পেশায়  নিয়োজিত  আছেন  তাঁরা  দুই  পৃষ্ঠার  ফরমটি  স্পট এ্যাসেসমেন্টের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবেন।

TIN (টিআইএন) সনদ এর প্রয়োজনীয়তা, ধারা 184A

Picture

অর্থ আইন, ২০১৪ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ১৮৪অ ধারা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যমান বিধান অনুসারে ২৫টি ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের নিকট টিআইএন সনদ দাখিলের ক্ষেত্রে ১ জুলাই, ২০১৪ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট ১২ ডিজিটের টিআইএন সনদ দাখিল করার বিধান করা হয়েছে।
(১)    আমদানির উদ্দেশ্যে ঋণপত্র (এলসি) খেলার সময়;
(২)    আমদানী রেজিষ্ট্রেশন সার্র্টিফিকেট পাওয়ার উদ্দেশ্যে আবেদনের সময়;
(৩)    সিটি কর্পোরেশন অথবা পৌরসভা এলাকা বা বিভাগীয় সদর দপ্তর এর ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করারর ক্ষেত্রে;
(৪)    চুক্তিকার্যকর, পন্য সরবরাহ বা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে দরপত্র দাখিলের সময়;
(৫)    কোম্পানী আইন ১৯৯৪-এর আওতায় নিবন্ধনকৃত কোন ক্লাবের সদস্য হবার জন্য আবেদন দাখিল করার সময়;    
(৬)    সাধারন বীমার সার্ভেয়ার হিসেবে তালিকাভুক্তি বা লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়নের সময়;
(৭)    সিটি করর্পোরেশন এলাকার মধ্যে অবস্থিত কোন ভূমি, ইমারত বা কোন ফ্ল্যাটের চুক্তিমূল্য যদি এক লক্ষ টাকার উর্ধেব হয় সে ক্ষেত্রে ঐ ভূমি ভবন বা ফ­টের ক্রয়ের রেজিষ্ট্রেশনের সময়। তবে সিটি করর্পোরেশন এলাকার মধ্যে অবস্থিত কোন  ভূমি ভবন বা কোন ফ্ল্যাটের ক্রেতা বাংলাদেশের অনিবাসী হইলে তার ক্রয়ের রেজিষ্ট্রেশনের সময় এর বিধান কার্যকর  হইবে না;
(৮)    কার, জিপ বা মাইক্রোবাসের নিবন্ধন, মালিকানা বদল বা ফিটনেস রেজিষ্ট্রেশন নবায়নের সময়;
(৯)    কোন বানিজ্যিক ব্যাংক বা লিজিং কোম্পানী কর্তৃক কোন ব্যাক্তিকে পাঁচ লক্ষ টাকার অধিক ঋণ বরাদ্দ দানকালে;
(১০)    ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর সময়;
(১১)    ডাক্তার, চার্টার্ড একাউনন্ট্যান্ট, কষ্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট একাউনন্ট্যান্ট, আইনজীবি বা আয়কর পেশাজীবির পেশাদারীর লাইসেন্স অনুমোদনের সময়;
(১২)    যে কোন ধরনের ফোনের আই. এস. ডি সংযোগ প্রদান কালে;
(১৩)     কোম্পানি আইন ১৯৯৪ (১৯৯৪ সন এর ১৮নং আইন) এর আওতায় কোম্পানীর স্পন্সর ডাইরেক্টদের রেজিষ্ট্রেশনের  সময় এবং যে কোন শেয়ারহোল্ডারের সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর পরিচালক হওয়ার ক্ষেত্রে;
(১৪)    মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন ১৯৭৪ এর আওতায় নিকাহ রেজিষ্টারের লাইসেন্স প্রদানের সময়। তবে শর্ত থাকে যে, যে ব্যক্তি ইতোমধ্যে নিকাহ রেজিষ্টার হিসাবে লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়েছে, তার ক্ষেত্রে অত্র বিধান কার্যকর হওয়ার  তিন মাসের মধ্যে টি.আই.এন সনদ সংগ্রহ করতে হবে;
(১৫)    কোন ব্যবসা সংস্থার সদস্য পদের জন্য আবেদন বা উহা নবায়নের সময়;  
(১৬)    ইমারত নির্মানের নিমিত্তে  রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(রাজউক), চট্রগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ), খুলনা  উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)  অনুমোদনের সময় টিআইএন সনদ দাখিল করতে হবে।
(১৭)    ড্রাগ লাইসেন্স ইস্যুর সময়;
(১৮)    সিটি করর্পোরেশন, পৌরসভা  বা ক্যান্টমেন্ট বোর্ড এর আওতাধীন এলাকায় বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে ;
(১৯)    সিটি করর্পোরেশন, পৌরসভা  বা ক্যান্টমেন্ট বোর্ড এর আওতাধীন এলাকায় বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে ;
(২০)    ভাড়ায় চালিত বাস, ট্রাক, প্রাইমমুভার, লরী বা এরূপ পরিবহনের রেজিষ্ট্রেশন বা ফিটনেস নবায়নের সময় বা মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ;
(২১)    ভাড়ায় চালিত লঞ্চ, ষ্টীমার, ফিশিং ট্রলার, কার্গো, কোষ্টার, ডাম্প বার্জ ইত্যাদির সার্ভে সার্টিফিকেট ইস্যু বা নবায়ন; এবং
(২২)    ইন্সুরেন্স কোম্পানীর এজেন্টের সার্টিফিকেট রেজিষ্ট্রেশন বা নবায়ন;
(২৩)    জেলা সদরের পৌরসভার আওতাধীন এলাকায় জমি বা স্থাপনা রেজিস্ট্রেশনের সময় জমি স্থাপনার ক্রেতাকে;
(২৪)    ইট ভাটার মালিকগণকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে অনুমতিপত্র সংগ্রহের সময় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের দপ্তরের আয়কর পরিশোধ সনদপত্র (Tax Clearence Certificate) দাখিলের বিধান করা হয়েছে;
(২৫)    উপজেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার ক্ষেত্রে ১২ ডিজিটের টিআইএন সনদ দাখিলের বিধান করা হয়েছে।

 

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন আইন হচ্ছে

মূলধনের ১০%-এর বেশি টাকা পুঁজিবাজারে খাটানো যাবে না

মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে অব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন আইন তৈরি হচ্ছে।


তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের যদি অগ্রাধিকার শেয়ার থাকে আর সেই শেয়ারে বিনিয়োগ যদি কোম্পানির উদ্যোগ বা প্রচেষ্টা মূলধনের (ভেনচার ক্যাপিটাল) অংশ হয়, তাহলে এই বিনিয়োগের পরিমাণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূলধনের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ হতে পারবে।


কিন্তু কোনোভাবেই সাধারণ ও অগ্রাধিকার শেয়ার মিলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ তার মোট আমানতের (দায়) ১০ শতাংশের বেশি হবে না।


বর্তমানে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুসারে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে মূলধনের ২৫ শতাংশ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে।


অন্যদিকে নতুন আইনে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একক কোনো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ বিনিয়োজিত কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।


কিন্তু আইন প্রণয়নের দিনে এই হারের চেয়ে বেশি কোনো একক কোম্পানির শেয়ার কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকলে ১৫ দিনের মধ্যে তা বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।


এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত সময়ে বিনিয়োগ উল্লিখিত আইনি সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে। তবে তা দুই বছরের বেশি হবে না বলে খসড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।


২০০৮ সালে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর দেউলিয়া হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা যায়। বাংলাদেশে ২০১০ সালের শেষ ভাগে শেয়ারবাজারে যে বিপর্যয় নেমে আসে, এর আগে ও পরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়।


সূত্রগুলো বলছে, শেয়ারবাজারের মতো স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করা এবং সার্বিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ভারসাম্য আনতে নতুন এসব ধারা যুক্ত হচ্ছে ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১১’-এ।


বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যেই নতুন আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনের খসড়া তৈরি করে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর মন্ত্রিসভায় যাবে। পরে জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হলে বর্তমান ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩’-এর স্থলে নতুন আইন প্রতিস্থাপিত হবে।


অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রগুলো বলছে, নতুন আইন প্রণয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমান আইনকে যুগোপযোগী করা, প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসন আনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি বৃদ্ধি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট সম্পদ, ঋণ, লিজ, বিনিয়োগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে গতিশীল ও ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছে।


খসড়া নতুন আইনে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানার ক্ষেত্রেও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বর্তমান আইনের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দিয়ে কোনো একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা একই পরিবারের হাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার যাতে কেন্দ্রীভূত না হয়, সে জন্য সীমা আরোপ করে রেখেছে।


নতুন আইনে তা সংযুক্ত করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে: একক ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৫ শতাংশের বেশি শেয়ার কেন্দ্রীভূত হতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। কী উদ্দেশ্যে ৫ শতাংশের বেশি শেয়ার কেন্দ্রীভূত হবে, তা বিবেচনা করে দেখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ধারা সংযুক্ত করেছে বলে সূত্র জানায়।
অন্যদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের সংখ্যা বিদ্যমান আইনের আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা দিয়ে ১৩ জনে সীমিত করে রেখেছিল, এটি আইনের মধ্যে আনা হচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে নতুন যুক্ত হচ্ছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের মেয়াদ কাল হবে তিন বছর। একজন পরিচালক দুই মেয়াদে সর্বোচ্চ ছয় বছর পর্যন্ত পরিচালক থাকতে পারবেন। পরে তাঁকে এক মেয়াদের জন্য বিরতি দিয়ে পুনরায় পরিচালক হওয়ার সুযোগও রয়েছে নতুন আইনের খসড়ায়।


খসড়া আইনে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগী বা সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে পরিষ্কার কিছু উদ্দেশ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করতে পারবে।
আমানতকারীর সঞ্চয়ের নিরাপত্তা রক্ষা ও জনস্বার্থে পরিচালকদের অপসারণের সুস্পষ্ট বিধান নতুন আইনে রয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালা ও শর্তাবলি স্পষ্ট ও যুগোপযোগী করা হচ্ছে নতুন আইনে। এ ক্ষেত্রে জনস্বার্থের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে শর্তাবলি পালন না করলে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষাসহ বিধিবিধান লঙ্ঘনের কারণে লাইসেন্স বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে নতুন খসড়া আইনে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে ২৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। লিজিং কোম্পানি নামেই এগুলো অধিক পরিচিত পেয়েছে। ১৮ বছর আগের আইন দিয়ে এগুলো পরিচালিত হচ্ছে।


কিন্তু ব্যাংকগুলোর আন্তর্জাতিক মানসংক্রান্ত ব্যাসেল কমিটির ‘ব্যাসেল-২’ সুপারিশের আওতায় এখন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আনা হচ্ছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের মূলধন সংরক্ষণের হার আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির আওতায় এসেছে। তা ছাড়া সময়োপযোগী নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করতেও বিদ্যমান আইন সংশোধন করে নতুন আইন তৈরির সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা যায়।


আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত ঋণ, অগ্রিম ও লিজ অর্থায়ন করে থাকে। খসড়া আইনে এসবের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড, উন্নয়ন অর্থায়ন, নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ বা প্রচেষ্টায় বিনিয়োগ, ফ্যাক্টরিসহ ব্যবসা প্রসারের প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন আইনে ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কিছু পৃথক বিধান সংযোজন করা হয়েছে

অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার শর্ত শিথিল, পেপ্যালের কাজ শুরুর পথ প্রশস্ত করবে

Picture

অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডারসের (ওপিজিএসপি) মাধ্যমে সেবা রফতানির অর্থ সংগ্রহের শর্ত কিছুটা শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের ফ্রিল্যান্সাররা যাতে সহজে তাদের উপার্জিত অর্থ সংগ্রহ করতে পারে এজন্যই নতুন এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গেটওয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের পরিধি বাড়িয়ে প্রতিবারে ৫০০ ডলার থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার মার্কিন ডলার করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আগে থেকে কোন ঘোষণার (পূর্বানুমতি) প্রয়োজন হবে না। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। আরো জানতে


বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে ডাটা এন্ট্রি, ডাটা প্রসেসিং, বিজনেস প্রসেসিং, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিংসহ নানা ধরনের তথ্য প্রযুক্তি রফতানি হচ্ছে। এর আগে এসব সেবা থেকে উপার্জিত ৫০০ ডলারের বেশি আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত ‘সি’ ফর্মে ঘোষণা দিতে হতো। এই দীর্ঘসূত্রিতা ও বাড়তি প্রক্রিয়ার ফলে আন্তর্জাতিক সেবা আমদানিকারকরা অনুৎসাহ।


বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে বৈদেশিক মুদ্রায় প্রচলিত ওয়েজ আর্নার ডেভলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড কিনতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সত্যায়নের শর্ত প্রত্যাহার করে। অন্য এক পরিপত্রের মাধ্যমে দেশে বসে সেবার বিনিময়ে উপার্জিত ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দেশে আনতে ঘোষণা লাগবে না বলে বলা হয়।


এই সিদ্ধান্ত দেশে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে পেপ্যাল এর কাজ শুরুর পথকেও প্রশস্ত করবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

অবিলম্বে সকল সরকারী শিল্প-কারখানা বেসরকারীকরণ করা উচিৎ।

আমাদের যত সরকারী শিল্প-কারখানা আছে তার সবই কোটি কোটি টাকা লোকশান দিয়ে টিকে আছে অথবা লোকশান দিতে দিতে বন্ধ হয়ে গেছে। উদাহরণস্বরুপ পাটকল, কাগজকল, চিনিকল, রেলওয়ে, বিমান ইত্যাদি। এগুলো লোকশান দেয়ার কারণ কি? প্রয়োজনের অতিরিক্ত জনবল? আমার তা মনে হয় না। জনবল অধিক হলে ছাঁটাই করা হোক। তা কিন্তু হয় না। আবার সরকারী অনেক প্রতিষ্ঠানেরই পদ খালি আছে। সেই প্রতিষ্ঠানগুলো লোকশান দেয় কেন? আমার মনে হয় লোকশানের জন্য দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনা দায়ী। যে প্রতিষ্ঠানগুলো লোকশান দিচ্ছে সেই একই প্রতিষ্ঠান বেসরকারী করে দিন দেখবেন পরের বছরই লাভ করবে।


কিভাবে দুর্নীতি হয় দেখুন। ধরুন, সরকারী একটা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটা কম্পিউটার কিনতে হবে। যত টাকা দিয়েই কেনা হোক, ওরা বাজার দরের চেয়ে দ্বিগুন বা তিনগুন বেশী দাম দেখাবে। অফিসে কাজে ফাঁকি দেয়া বা সরকারী সম্পদের অবহেলা করাও লোকশানের জন্য দায়ী। কোন গার্মেন্টস কর্মী বা কর্পোরেট অফিসারকে আজ পর্যন্ত অফিসে ঘুমোতে দেখা যায় নাই। নয়টা থেকে পাঁচটা অফিস করার কথা থাকলেও তারা আটটা-টু-আটটা অফিস করেও বাসায় ফিরে অফিসের কাজের মধ্যেই থাকে। ঐ একই অফিসের কর্মকর্তা/কর্মচারীকে সরকারী অফিসে নিয়োগ দিলে অফিসে যাবে ১০টার পরে, তারপর চা খাবে আর খোশ গল্প করে ১২ টা বাজাবে, এবং আধ-ঘন্টা কাজ করে সাড়ে ১২টার দিকে লাঞ্চ করতে যাবে, দেড়টা বা দুইটায় ফেরার কথা থাকলেও সে লাঞ্চ সারতে এবং রাজনৈতিক (পছন্দের) আলাপ করতে করতে আড়াইটা বাজাবে এবং পাঁচটা পর্যন্ত অফিস করার থাকলেও অফিসের বাসে যাওয়ার জন্য সাড়ে তিনটা থেকে গোছ-গাছ শুরু করবে, পাবলিক বাসে গেলেও একই সময়ে বের হবে। ঠিক একই কথা পাটকল, চিনিকল, কাগজকল, রেলওয়ে, বিমান ইত্যাদির জন্যও প্রযোজ্য।
প্রাইভেট ব্যাঙ্ক প্রতিবছর নতুন নতুন শাখা খোলে, সরকাররী ব্যাঙ্কের শাখা প্রতি থানায় আছে, অবকাঠামো তৈরির যাবতীয় খরচ সরকার দেয়, তারপরও লোকশান। পক্ষান্তরে, প্রাইভেট ব্যাঙ্কগুলো অবকাঠামো তৈরিতে সব খরচ নিজে যোগায় তারপরও লাভ করে, লোকশানের উদাহরণ বিরল। আমি বুঝি না, আমি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিলে সুদ দিতে হবে ১৬ টাকা হারে আর আমি ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে আমাকে সুদ দেবে ৬ টাকা হারে। জায়গায় বসে ব্যাঙ্কের স্বচ্ছ লাভ ১০ টাকা। তারপরও কেন লোকশান দেবে!!
অবিলম্বে সকল সরকারী শিল্প-কারখানা বেসরকারীকরণ করা হোক। সরকারের অবশ্য কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, ভোট একটা কারণ। বেসরকারী করতে পারে না সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এবং ট্রেড/শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর জন্য। সরকারের কিছু পোষা কুত্তা থাকে ট্রেড/শ্রমিক ইউনিয়নে। এই ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিগুলো প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তারা লেজুরবৃত্তি করে রাজনীতি করে। শ্রমিক নেতার (যিনি চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী) দাপটে প্রথমশ্রেণীর কর্মকর্তা তটস্থ থাকেন, বদলি নিয়ন্ত্রণ হয়ে থাকে শ্রমিক নেতার সুপারিশে। ঐ যে সেই লেজে কুত্তা নাড়ানোর মত অবস্থা আর কি।
যাইহোক, দল/ভোটের কথা চিন্তা না করে দেশের কথা ভেবে সকল সরকারী প্রতিষ্ঠান বেসরকারী করা হোক, প্রয়োজনে সরকারকেই বেসরকারী করে দেয়া হোক।
ধন্যবাদ সবাইকে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়িত্বকে গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে

Picture

একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে চলছে বর্তমান সরকারের দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্পের পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন।এজন্য আর্থিক খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত, আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বহুমাত্রিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।
বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে অনেক বেশি এগিয়ে।তারা এই দায়িত্বকে এতোই গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে যে এটা এখন তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনার একটি অংশ হয়ে গেছে।ব্যাংকগুলো অপর্যাপ্ত সম্পদের যথার্থ ব্যবসা ও ব্যবহার নিশ্চিত করেছে।ব্যাংকগুলোর এই ধরণের কর্মসূচী দেশের গ্রাম অঞ্চলগুলোর আর্থিক উন্নতিতে সহায়তা করছে।এই প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলো সচল অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়াতেও সক্ষম হয়েছে। 


এদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিএসআর এর দিকে অগ্রসর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে ।কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা পালনের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানা রকমের সুবিধা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।এতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।নারীর ক্ষমতায়ন,যুব ক্ষমতায়ন,যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি,পরিবেশ রক্ষা কার্যক্রম ও অনুন্নত ক্ষেত্রগুলোতে অর্থায়নের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি আগ্রহী হয়েছে সমাজের উন্নতি সাধনে। অনলাইনে গ্রাহক সেবাও প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সকল সুবিধা ও নির্ধারিত নিয়ম-কানুনের প্রতি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো খুব ভাল সাড়া দিয়েছে।সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী প্রথম দশটি ব্যাংক যথাযথ সম্মান পাবে,এমনকি তাদের পুরস্কৃতও করা হবে।সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক ভূমিকা পালনকারী ব্যাংকগুলো মূলধন,সম্পদ,তারল্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপরিহার্য শর্ত হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।সে লক্ষ্যে কৃষিক্ষেত্রে,পরিবেশগতভাবে লাভজনক ও ছোট কুটির শিল্পের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ও সহজ আর্থিক পরিকল্পনা প্রদান করেছে।একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য উত্তরা ব্যাংক,এবি ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় ভাল কাজ করছে।মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে এবং আর্থিক খাতকে ঝুঁকিমুক্ত রাখার জন্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যে অনুসরণীয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের ২২টি অনুন্নত খাতে ভূমিকা পালন করলে ১০% কর ছাড় পাবে।বাংলাদেশ সরকার আশাবাদী যে এই সুবিধা ও সরকার প্রদেয় আরও অন্যান্য সুবিধাগুলোর কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে আরও উৎসাহী হবে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো যাতে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যথাযথভাবে অংশ গ্রহণ করে তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক বেশি সচেতন ভূমিকা পালন করছে।এখন যে ব্যাংকগুলো সামাজিক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে তার এক জ্বলন্ত প্রমাণ যে তাদের প্রচেষ্টা বিফলে যায়নি।আর তা এই দেশের আর্থিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।বাংলাদেশ এখন সার্কভুক্ত আর্থিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে;ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে।বাংলাদেশ ব্যাংক গত দু’বছরে সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যয়ের খাতকে দশ বার বৃদ্ধি করেছে।আশা করা যায় যে তাদের এই প্রচেষ্টা আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে;এমনকি এদেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে।তাই এ লক্ষ্যে শুধু ব্যাংক নয়,অন্যান্য সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর আহ্বান

Picture

র্থনৈতিক রিপোর্টার: আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর থেকে এক মাস বৃদ্ধি করে ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারণ করার জন্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)’র পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল এফবিসিসিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এ লক্ষ্যে এফবিসিসিআই ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছে। এফবিসিসিআই আয়কর খাতে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রতি বছরের মতো এ বছরও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় ১৬ থেকে ২২শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আয়কর মেলার সফল আয়োজনের জন্য সরকার ও এনবিআরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে এফবিসিসিআই। এফবিসিসিআইয়ের থেকে বলা হয়, এবারের আয়কর মেলায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে করদাতারা যেভাবে আগ্রহ দেখিয়েছেন তা রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ব্যবসায়ী সমাজ মনে করে। সুষ্ঠুভাবে আয়কর আদায়ের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের প্রক্রিয়ায় সরকারকে দেয়া এফবিসিসিআইয়ের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অনলাইনে ই-টিন পদ্ধতিতে রি-রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ১০ সংখ্যার পরিবর্তে ১২ ই-টিন নম্বর গ্রহণের ক্ষেত্রে কর সার্কেল ও জোন পরিবর্তনের কারণে করদাতারা ঝামেলার সম্মুখীন হচ্ছেন। এছাড়া সামনে পবিত্র ঈদুল আজহা ও দুর্গাপূজার কারণে ব্যবসায়ী করদাতাদের পক্ষে সঠিক সময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল সম্ভব নাও হতে পারে। এরই প্রেক্ষিতে আয়কর রিটার্র্ন দাখিলের সময়সীমা এক মাস বাড়িয়ে ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত করার জন্য ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে এফবিসিসিআইয়ের সুপারিশ বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে।