Press And Media

Displaying 1-2 of 2 results.

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোল্ডেন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়কর বিষয়ক কর্মশালা, আয়কর রিটার্ন তৈরির পদ্ধতি এবং আয়কর সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর সংক্রান্ত সেমিনার অনুষ্ঠিত

Picture


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং গোল্ডেন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে সাগর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার্যালয়ে ১০.৩০ টায় আয়কর সংক্রান্ত একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত থেকে রিটার্ন ফিলাপ ও আয়কর সংক্রান্ত বিষয়ে হাতে কলমে শিক্ষা গ্রহণ করেন। সেমিনারে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে গোল্ডেন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম আলোচনা করেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা শেষে কিভাবে রিটার্ন ফিলাপ করতে হয় তা হাতে কলমে শিক্ষা দেন। তিনি আরো জানান যে, গোল্ডেন বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়কর সংক্রান্ত শিক্ষা প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ২৫ হাজার ভলেন্টিয়াার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রতিটি পাবলিক এবং পাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র/ছাত্রীদের নিয়ে শুরু হয়েছে। গোল্ডেন বাংলাদেশ পরিচালিত বিজনেস পোর্টাল িি.িমড়ষফবহনঁংরহবংংনফ.পড়স এর মাধ্যমে এবং আটটি প্রকাশনা ও কল সেন্টারের মাধ্যমে আয়করের শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ভ্রাম্যমান আয়কর তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে রাজধানীর সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আয়কর সেবা প্রদান করা হচ্ছে। আগামী শুক্রবার উত্তরায় এবং ধারাবাহিক ভাবে শাহবাগ ও অন্যান্য জায়গায় সেবা প্রদান করা হবে। গোল্ডেন বাংলাদেশ পরিচালিত এই ধরনের উদ্যোগ আয়কর সংক্রান্ত শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যপক ভূমিকা রাখবে। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক উদ্যোগটিকে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরকারসহ প্রতিটি নাগরিককে উদাত্ত আহ্বান জানান। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আয়কর বিষয়ে সচেতন করতে একজন জাহাঙ্গীর আলম

Picture
১৬ কোটি মানুষের দেশে আয়কর দেন মাত্র ১২ লাখ। সরকার মনে করছে, কমপক্ষে ৬০ লাখ মানুষ আয়কর দিতে সক্ষম। মানুষের মধ্যে কর ভীতি, কর প্রদানের জটিল ব্যবস্থা, আর কর অফিস এখনো করদাতাবান্ধব না হওয়াকে এর পিছনে বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। করদাতাদের সচেতনতার অভাবকেও বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে করদাতাদের সচেতন করতে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এজন্য খরচ হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। গোটা আয়কর বিভাগ বলতে গেলে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে। অথচ এই সময়ে একজন ব্যক্তি এক রকম নীরবেই আয়কর নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে অসাধারণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে অফিসে অফিসে মানুষকে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) নেওয়া, আয়কর রিটার্ন পূরণ কিংবা জমা দেওয়ার বিষয়টি হাতে-কলমে শিখিয়ে দিচ্ছেন। বিনিময়ে কোনো অর্থ নেন না। বরং নিজের খরচে ছাপানো আয়কর বিষয়ের বিভিন্ন বইও দিচ্ছেন। উদ্দেশ্য, মানুষ সচেতন হোক। আয়কর দিক, দেশ সমৃদ্ধ হোক। তিনি জাহাঙ্গীর আলম। গোল্ডেন বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী। চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেসি পড়া শেষে মোটা অঙ্কের চাকরি করার সুযোগ ছিল। কিন্তু আয়করের মতো জটিল বিষয়ে প্রবেশ করে এখন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছেন। তিনি নিজেই বলেছেন, ‘আয়কর নিয়ে আফিম খেয়ে ফেলেছি। এখন আর ছাড়তে পারছি না। দৈনন্দিন কর্মঘণ্টার ৮০ শতাংশ সময়ই এর পিছনে ব্যবহার করি। আর বাকি ২০ শতাংশ সময়ে কাজ করে যে অর্থ উপার্জন করি, তার পুরোটাই এর পিছনে ব্যয় করি।’
 
জাহাঙ্গীর আলম এ পর্যন্ত বেশকিছু সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের টিআইএন গ্রহণ, রিটার্ন দাখিল কিংবা কর প্রদানের মতো জটিল কাজ নিজে নিজেই সমাধান করতে হাতে-কলমে শিখিয়েছেন। এজন্য গিয়েছেন বেশ কিছু গণমাধ্যম অফিসেও। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি ছাড়াও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আয়কর প্রদান সংক্রান্ত কাজ হাতে কলমে শিখিয়েছেন। একুশে গ্রন্থ মেলা, বাণিজ্য মেলা, বৈশাখী মেলা ও কর মেলায়ও স্বউদ্যোগে কর বিষয়ে সচেতন করতে কাজ করেছেন। সক্রিয় রয়েছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। সম্প্রতি চালু করেছেন ভ্রাম্যমাণ তথ্য কেন্দ্র। ভ্রাম্যমাণ এ কেন্দ্রের মাধ্যমে রাজধানীর যেকোনো জায়গায় কয়েক ঘণ্টার জন্য বসে আয়কর বিষয়ে মানুষকে সচেতন করছেন। বিনিময়ে কোনো অর্থ নেন না। তিনি জানিয়েছেন, আয়কর ও ভ্যাট বিষয়টিকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে চান। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১০টি প্রকাশনা বের করেছেন। যেটি সবার কাছে সহজেই বোধগম্য হবে। এ বিষয়ে একটি ওয়েবসাইট www.goldenbusinessbd.com, কল সেন্টার ও ভলান্টিয়ায় টিম তৈরি করেছেন। ইচ্ছা রয়েছে কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও এতে সংযুক্ত করার। তিনি ডিজিটাল প্রচারণার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই। ২০০২ সাল থেকে ৪টি পোর্টাল পরিচালনা করছেন। ২০০৭ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে সুন্দরবন এবং কক্সবাজারের পক্ষে ভোটিংয়ের ক্ষেত্রেও তিনি অবদান রাখেন। তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন বাংলাদেশের মাধ্যমে তিনি এ কার্যক্রম চালান।
 
এ কাজটি করতে গিয়ে অনেক জায়গায় সহযোগিতা পেলেও অসহযোগিতা কিংবা চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়েছেন। তবুও দমে যাওয়ার পাত্র নন তিনি। বললেন, অনেক টাকা খরচ করতে হচ্ছে। চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়ছি। কিন্তু অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার এ লড়াইয়ে মাঠে থাকব। একদিন নিশ্চয়ই স্বীকৃতি মিলবে।  
 
তথ্যসূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক