সূচকের উন্নতিতে পুঁজিবাজারের টানা তৃতীয় দিন

মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে সিমেন্ট ও জ্বালানি খাত

সূচকের উন্নতি দিয়ে পুঁজিবাজারে শুরু হয়েছে নতুন সপ্তাহ। এর আগে গত সপ্তাহের শেষ দুই দিনসহ গতকাল পুঁজিবাজারগুলো সূচকের উন্নতিতে পার করল টানা তৃতীয় দিন। খুব বেশি উল্লেখযোগ্য না হলেও বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে সূচকের সামান্য উন্নতিকেও ইতিবাচকভাবে দেখছেন বিনিয়োগকারীসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও ফান্ডগুলোর বেশির ভাগের মূল্যবৃদ্ধিও সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিকসহ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এনে দিচ্ছে স্বস্তি। গতকাল দেশের দুই পুঁজিবাজারই দিনের লেনদেন শেষ করে সূচকের উন্নতি দিয়ে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ডিএসইএক্স সূচকটি দিনশেষে ১৪ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ডিএসই-৩০ সূচকের উন্নতি ঘটে ১৪ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট। অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টকে সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের যথাক্রমে ৫৫ দশমিক ৬৭ ও ৪৬ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে। লেনদেনও ছিল দুই বাজারের শেষ কার্যদিবষের মতোই। ঢাকায় কিছুটা কমে ৪৯৮ কোটি টাকায় নামলেও চট্টগ্রামে তা ৫২ কোটি টাকায় স্থির থাকে। এ দিকে সূচকের বড় ধরনের উন্নতি না হলেও বাজারগুলো লেনদেনের গতি ধরে রাখায় দুই বাজারের বিনিয়োগকারীরা বেশ স্বস্তিতে। তাদের মতে, প্রতিদিন সূচকের বড় ধরনের উন্নতির চেয়ে বড় কথা এর ধারাবাহিকতা। পরে সংশোধন। আর এভাবেই এক সময় স্থিতিশীলতায় ফিরবে বাজার। হঠাৎ সূচকের মাত্রাতিরিক্ত উন্নতি ও পরদিনই আবার একই রকম দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে অস্থিরতা সৃষ্টি করে তা প্রকারান্তরে বাজারে অস্থিতিশীলতার জন্ম দেয়। এ অবস্থা থেকে নিষ্কৃতি চান তারা। বরং বাজার সূচকের সামান্য উন্নতি ধরে রাখার পাশাপাশি লেনদেনের অগ্রগতিকেই এখন স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় মনে করছেন তারা। বরাবরের মতোই গতকাল সকালে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায়ই দুই বাজারের লেনদেন শুরু হয়। প্রথম আধঘণ্টার লেনদেনে ডিএসইর প্রধান সূচকটি উন্নতি ঘটে প্রায় ২২ পয়েন্ট। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষ করা ডিএসই সূচকটির চার হাজার ২৪১ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে বেলা ১১টায় সূচকটি পৌঁছে যায় চার হাজার ২৬৩ পয়েন্টে। কিন্তু পরবর্তী আধঘণ্টার বিক্রয়চাপ সূচককে আবার নি¤œমুখী করলে বেলা পৌনে ১২টার দিকে সূচকটি আবার নেমে আসে চার হাজার ২৩৩ পয়েন্টে। লেনদেনের এ পর্যায়ে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয় বাজার সূচক। মাঝে মধ্যে সূচকের ওঠানামা সত্ত্বেও এ সময় সূচকের আবারো উন্নতি ঘটে। বেলা দেড়টার দিকে সূচকটি দিনের সর্বোচ্চ চার হাজার ২৭১ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। দিনের সমন্বয় শেষ হলে চার হাজার ২৫৬ পয়েন্টে স্থির হয় ডিএসই সূচক। বিগত সপ্তাহটির প্রায় পুরোটাই ব্যাংকিং খাত মূল্যবৃদ্ধি ধরে রাখলেও গতকাল দুই বাজারের চিত্র তার বিপরীত। ব্যাংকিং খাতের বেশির ভাগ কোম্পানিই গতকাল দরপতনের শিকার হয়। একই অবস্থা ছিল মিউচুয়াল ফান্ডেরও। ক’দিন মূল্যবৃদ্ধির পর গতকাল এ খাতেও বেশ সংশোধন হয়। তবে এগিয়ে যায় সিমেন্ট ও জ্বালানি খাত। এ দুই খাতের শত ভাগ কোম্পানিরই মূল্যবৃদ্ধি ঘটে গতকাল। এ ছাড়া এ ক’দিন দরপতনের শিকার প্রকৌশল, সিরামিকস, টেক্সটাইল ও বীমা খাতেও ভালো মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে দেখা যায়। বাজার আচরণের এ পরিবর্তনকেও স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কোনো খাতের মূল্যবৃদ্ধির পর যথাসময়ে তার সংশোধন ঘটলে অন্য খাতগুলোয় মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয়। বাজারের সাম্প্রতিক প্রবণতা সেদিকেই যাচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে এক দিকে বাজারগুলোর লেনদেনে ভারসাম্য ফিরে আসবে, অন্য দিকে স্থিতিশীলতা ত্বরান্বিত হবে। গতকাল দুই বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশির ভাগই মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসে। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ২৮৫টি সিকিউরিটিজের মধ্যে দাম বাড়ে ১৮৪টির। ৭৬টি সিকিউরিটিজ দর হারায়। অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২১৭টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে ১২৬টির দাম বাড়লেও দর হারায় ৭৩টি। ১৮টি সিকিউরিটিজ এ বাজারে দর হারায়। গতকালও ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষস্থানটি দখলে ছিল জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন্সের। এ নিয়ে ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে টানা চতুর্থ দিন পার করল কোম্পানিটি। গতকাল ২৯ কোটি ৮২ লাখ টাকায় ৯৩ লাখ ৭৪ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় কোম্পানিটির। ২০ কোটি ১১ লাখ টাকা লেনদেন করে দ্বিতীয় স্থানটি ধরে রাখে মেঘনা পেট্রোলিয়াম। ডিএসইর শীর্ষ দশে আরো ছিল আর এন স্পিনিং, সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানি, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, ঢাকা ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস। ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ দাম বাড়ে প্রকৌশল খাতের সর্বশেষ তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির। এ ছাড়া দেশ গার্মেন্টস ৯.৮৮, বিডি অটোকার ৯.৬৭, সেন্ট্রাল ফার্মা ৯.৩৬, জিবিবি পাওয়ার ৮.৫৭ ও সায়হাম টেক্সটাইলের ৮.০৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। অপর দিকে দিনের সর্বোচ্চ দর হারায় টেক্সটাইল খাতের আনলিমা ইয়ার্ন। রেকর্ড-পরবর্তী মূল্য সমন্বয়ে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। এ ছাড়া ডেল্টা লাইফ হারায় ৮.১৬ শতাংশ দর।

http://www.dailynayadiganta.com/welcome/post/31549



About Author

Profile Picture

Golden Bangladesh

Golden Bangladesh is a point of access to information.We present information from diverse sources in a unified way. It is the leading web portal, e-Directory and business guide in Bangladesh.

Leave a Comment