ইটিআইএন নিতে চরম ভোগান্তিতে করদাতারা চার মাসে মাত্র ছয় লাখ নিবন্ধিত

ইটিআইএন নিতে চরম ভোগান্তিতে করদাতারা চার মাসে মাত্র ছয় লাখ নিবন্ধিত

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সব নিবন্ধিত করদাতাকে পুনরায় অনলাইনে নিবন্ধন করে ইলেকট্রনিকস কর শনাক্তকরণ নম্বর (ইটিআইএন) গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু অনলাইনে নানা ভোগান্তির কারণে করদাতারা রেজিস্ট্রেশন বা পুনঃরেজিস্ট্রেশন করতে পারছে না। নির্ধারিত সময়ের ৪ মাস অতিবাহিত হলেও ইটিআইএন গ্রহণ করেছেন মাত্র ৬ লাখ করদাতা। গত অর্থবছরের হিসেবে দেশে ৩৬ লাখ টিআইএনধারী করদাতা রয়েছেন। আগামী ২ মাস অর্থাত্ ডিসেম্বরের মধ্যে সব করদাতাকে ইটিআইএন গ্রহণ বাধ্যতামূলক। বিভিন্ন কারণে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ইটিআইএন রেজিস্ট্রেশন হবে বলে মনে করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, অক্টোবর মাস পর্যন্ত ইটিআইএন গ্রহণ করেছেন ছয় লাখ করদাতা। এর মধ্যে নতুন ও বিদ্যমান করদাতাদের পুনর্নিবন্ধনকারী উভয়ই আছেন। সব করদাতা ইটিআইএন নিচ্ছে না বা নিতে পারছে না এমনটি মনে করেছে স্বয়ং এনবিআর। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ২০ লাখ ইটিআইএনধারী হবে। প্রচার-প্রচারণার ঘাটতি রয়েছে বলে ইটিআইএন গ্রহণে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছে খোদ এনবিআর।
এখনও টিআইএন নিবন্ধন করতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন করদাতারা। এ নিয়ে এনবিআরে অভিযোগের শেষ নেই। সমস্যা সমাধানের জন্য একটি সহায়তা কেন্দ্র করলেও সমাধান হচ্ছে না। এ বিষয়ে এনবিআরের সদস্য সৈয়দ আমিনুল করিম বলেন, আগামী ডিসেম্বরে ২০ লাখ ইটিআইএন নিবন্ধন হবে। এছাড়া ই-টিআইএনের কারণে এ বছর রিটার্ন জমার পরিমাণও বাড়বে। তবে প্রচারণার অভাবে আরও অনেকে আসছেন না বলে মনে করেন এই সদস্য।
তিনি বলেন, আরও প্রচারণা বাড়ানো উচিত। অনেকে এখনও জানেনই না যে ই-টিআইএন নিতে হবে। কেউ কেউ রিটার্ন জমা দিতে এসে জানছেন। এজন্য আরও প্রচারণা প্রয়োজন বলে মনে করেন আমিনুল করিম।
টিআইএন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অনলাইনভিত্তিক এই পদ্ধতিতে বিপত্তিতেও পড়েছেন করদাতারা। প্রতিদিনই অনেক অভিযোগ এনবিআরে জমা হচ্ছে। যেসব করদাতার বর্তমানে টিআইএন রয়েছে তাদের পুনর্নিবন্ধন করতে হবে। কিন্তু কেউ যদি ভুলক্রমে নতুনভাবে টিআইএন নিবন্ধন করে থাকেন তা আর সংশোধনের সুযোগ নেই। আবার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকলে তারাও টিআইএন নিবন্ধন করতে পারছেন না। এনবিআরে এখন পর্যন্ত ই-মেইলে এরকম প্রায় দেড় হাজার অভিযোগ এসেছে।
জানা গেছে, অনলাইনে টিআইএন গ্রহণ ও পুনর্নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ভুল সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়নি। তবে এসব ভুল সংশোধনের উপায় বের করার চিন্তা করছে এনবিআরের এ বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উপায় বের করা হবে। সেক্ষেত্রে ভুল সংশোধনের ব্যবস্থাও রাখা হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র নেয়া ও ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেয়ার কথাও চিন্তা করছে এনবিআর।
সংশিল্গষ্টরা বলছেন, ই-টিআইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে করদাতাদের হয়রানি থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য। এতে করদাতার সময়, অর্থ- দুটিই সাশ্রয় হবে। ঘরে বসেই নিজের টিআইএন নিবন্ধন করতে পারবেন। কারও কাছে ধরনা দিতে হবে না। তবে নতুন এই ব্যবস্থায় টিআইএনে নিবন্ধনে করতে আসা করদাতারা বিপত্তিতে পড়ছেন এমনটি স্বীকার করে তিনি বলেন, এটি একটি বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম। যে কোনো সংস্কার কার্যক্রমে একদল মানুষকে বিপত্তি স্বীকার করতে হয়। এই সমস্যা অচিরেই সমাধান হবে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ৩৬ লাখ টিআইএনধারী আছেন। এনবিআর মনে করে এদের অন্তত অর্ধেকই ভুয়া অথবা কার্যকর নয়। গত বছর মাত্র ১৩ লাখ আয়কর রিটার্ন দাখিল করা হয়েছে। অর্থাত্ এই সংখ্যক করদাতারা ন্যুনতম পরিমাণে হলেও কর দিয়েছেন। বাকি টিআইএনধারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছেন। নতুন এই পদ্ধতিতে যে কেউ টিআইএন নিবন্ধন করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনে রক্ষিত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে। অর্থাত্ এই প্রক্রিয়ায় ভুয়া টিআইএন নেয়ার সুযোগ নেই। অন্যদিকে কোম্পানির ক্ষেত্রেও নতুন টিআইএন নিবন্ধন করতে হবে। যাদের টিআইএন আছে তাদের ক্ষেত্রে পুনর্নিবন্ধন করতে হবে। এক্ষেত্রে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতরে (আরজেএসসি) রক্ষিত তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করা হবে। পুরনো টিআইএনধারীদের ১০ অঙ্কবিশিষ্ট টিআইএন রয়েছে। পুনর্নিবন্ধনের পর নতুন ১২ অঙ্কবিশিষ্ট টিআইএন নম্বর প্রদান করা হয়। আগামী জানুয়ারি থেকে পুরনো টিআইএন চলবে না।

http://www.amardeshonline.com/pages/details/2013/11/03/223085#.UnZ_qFNV9aQ


About Author

Profile Picture

Golden Bangladesh

Golden Bangladesh is a point of access to information.We present information from diverse sources in a unified way. It is the leading web portal, e-Directory and business guide in Bangladesh.

Leave a Comment