পুঁজিবাজারে লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত
পুঁজিবাজারে লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত
পুঁজিবাজারগুলোতে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের দুই পুঁজিবাজার সূচকের উন্নতি ধরে রাখে। গতকাল দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪২ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। ডিএসই-৩০ সূচক বাড়ে ৪ দশমিক ৪১ পয়েন্ট। চট্টগ্রামে সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের যথাক্রমে ১১১ দশমিক ৫৬ ও ৭৩ দশমিক ৫০ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে। বৃদ্ধি পেয়েছে দুই বাজারের লেনদেনও। ঢাকায় রোববারের ২৪৯ কোটির স্থলে গতকাল লেনদেন হয়েছে ৩৬৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে দেশের শীর্ষ পুঁজিবাজারটির লেনদেন বেড়েছে ১১৯ কোটি টাকা। চট্টগ্রামে ২৩ কোটি টাকা থেকে ৪১ কোটি টাকায় উন্নীত হয় লেনদেন। রোববারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর গতকাল ব্রোকার হাউজগুলোতে ছিল বিনিয়োগকারীদের বেশ ভিড়। ক’দিন আগেও যেখানে বিনিয়োগকারীদের খুব একটা উপস্থিতি দেখা যায়নি সেখানে গতকাল সবগুলো হাউজ ছিল বেশ কর্মচঞ্চল। লেনদেনে অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। অপর দিকে টেলিফোনে যারা নিয়মিত লেনদেন করেন তারাও ছিলেন বেশ সক্রিয়। হাউজগুলোতে ট্রেডারদের সময় কেটেছে বেশ ব্যস্ততার মধ্যে। একটি প্রথম সারির মার্চেন্ট ব্যাংকের ট্রেডিং ফোরে গিয়ে উপস্থিত গ্রাহকদের মধ্যে বেশ স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যায়। ক’দিন আগেও বাজার নিয়ে প্রচণ্ড হতাশা ছিল তাদের মধ্যে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে তাদের কয়েকজন বলেন, এতদিন পুঁজিবাজার নিয়ে সবাই বেশ হতাশ ছিলেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আজ না হয় কাল সমঝোতার একটা পথ বেরিয়ে আসবেই। তাই যত কম মূল্যস্তরে বাজারে ঢোকা যায় ততই মঙ্গল। চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসন হলে বাজার তার স্বাভাবিক গতি ফিরে পেতে পারে। মূলত এ প্রত্যাশা থেকেই তাদের সক্রিয় হওয়ার এ উদ্যোগ। বাজার এখন যে পর্যায়ে রয়েছে তাতে সঙ্কট নিরসন হলে হয়তো এ বিনিয়োগ থেকে তারা লাভবান হতে পারবেন। তবে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশকে দেখা গেছে যারা এখনো ধীরে চলো নীতিতে বিশ্বাসী। এ অংশটি মনে করে, পরিস্থিতি ভালো হচ্ছে তা নিশ্চিত হলেই কেবল তারা বিনিয়োগে ফিরবে। কারণ অতীতে বারবার এ ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সৃষ্টি হলেও তা টিকে থাকেনি। অথচ সে সময় ভালো বাজারের প্রত্যাশায় বিনিয়োগে ফিরে এখন লোকসানের ঘানি টানছেন। তাই ভেবেচিন্তেই এগোনোর চিন্তা তাদের। এ দিকে গতকাল টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মূল্যবৃদ্ধি ধরে রেখেছে ব্যাংকিং খাত। গতকালও দুই বাজারের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় এ খাতের স্পষ্ট প্রাধান্য ছিল। পাশাপাশি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কয়েকটিও জায়গা করে নেয় এ তালিকায়। বিপর্যয়ের পর গত তিন বছরে এ দু’টি খাতেই সবচেয়ে বেশি দরপতন ঘটে। এ দু’টি খাতের মূল ব্যবসায় কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিপর্যয়ের আগে পুঁজিবাজারে করা বিনিয়োগের লোকসানের প্রভিশনের ঘানি টানতে গিয়ে প্রায় প্রতি বছরই মুনাফার স্থলে লোকসান টানতে হচ্ছে। আর এরই ফলে এ দুই খাতে আগ্রহ হারান বিনিয়োগকারীরা। রোববারের ধারাবাহিকতায় গতকাল সকালে লেনদেনের শুরুতেই দুই পুঁজিবাজার ছিল বেশ ঊর্ধ্বমুখী। ঢাকা স্টকে মাত্র এক ঘণ্টার লেনদেনে সূচক বেড়ে যায় ১০০ পয়েন্টের বেশি। আগের দিন লেনদেন শেষ করা ডিএসইএক্স সূচকের ৩ হাজার ৯০৯ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা ডিএসইএক্স সূচক বেলা সাড়ে ১১টায় পৌঁছে যায় ৪ হাজার ১২ পয়েন্টে। এ সময় লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি বাদে সবগুলোই ছিল মূল্যবৃদ্ধির তালিকায়। তবে বেলা যত বাড়তে থাকে কমতে থাকে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা। এ পর্যায়ে সূচক হয়ে ওঠে নি¤œমুখী। কমতে থাকে মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির সংখ্যা। দিনশেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় সমানে। অপর দিকে বেড়ে যাওয়া সূচক থেকে ৪১ পয়েন্ট উন্নতি ধরে লেনদেন শেষ করে ঢাকা পুঁজিবাজার। লেনদেনে গতকালও প্রাধান্য ধরে রাখে টেক্সটাইল খাত। দিনের লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির প্রথম দু’টিই ছিল এ খাতের। এর মধ্যে ৩২ কোটি ৯২ লাখ টাকায় ৫১ লাখ ৬৩ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে আগের দিন দ্বিতীয় স্থানে থাকা এনভয় টেক্সটাইল উঠে আসে ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে। ২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা লেনদেন করে আগের দিন শীর্ষে থাকা একই খাতের জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন্স নেমে আসে দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল ইউসিবিএল, আরগন ডেনিমস, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল ব্যাংক, অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালস, আর এন স্পিনিং, বেক্সিমকো লি. ও আইএফআইসি ব্যাংক। মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল প্রকৌশল খাতের বেঙ্গল থার্মোপ্লাস্টিকস। ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ দাম বাড়ে কোম্পানিটির। এ ছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংক ৮.৮৪, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৮.০৪, বেক্সিমকো লি. ৭.৮৩, আইএফআইসি ব্যাংক ৭.৭২, ব্যাংক এশিয়া ৬.৯৫, এবি ব্যাংক ৬.০২, ফার্স্ট লিজ ফিন্যান্স ৬.০০ ও লঙ্কা বাংলা ফিন্যান্সের ৫.৮৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। অপর দিকে দর হারানোর তালিকার শীর্ষে ছিল দেশ গার্মেন্টস। ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে লিগেসি ফুটওয়্যার ৮.২১, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট ৭.৯৫, ফাইন ফুড ৭.৮৬, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ৭.৮১, হাক্কানি পেপার ৬.৭৭ ও ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক ৬.৪১ শতাংশ দর হারায়। এর বেশিরভাগই নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত তালিকায় থাকা কোম্পানি।
http://www.dailynayadiganta.com/welcome/post/27474#.Um_k2FNV9aQ
About Author
Golden Bangladesh
Golden Bangladesh is a point of access to information.We present information from diverse sources in a unified way. It is the leading web portal, e-Directory and business guide in Bangladesh.
Leave a Comment