Largest and fastest growing business Portals
Tweet
সরকারি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মেটাতে ১৩ শর্ত
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা বর্তমান সরকারের আমলে বাস্তবায়ন করা সম্ভব না-ও হতে পারে। এ বিষয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দেওয়া ১৩ শর্ত নির্দিষ্ট সময়ে পূরণ করা ব্যাংকগুলোর পক্ষে সম্ভব কি-না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্যাংকগুলোকে শর্ত পূরণ করে একটি প্রতিবেদন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে জমা দিতে বলা হয়েছে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ১৩ শর্তে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণ করা হবে। এসব শর্ত পরিপালন করার জন্য সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে কাজ শুরু হবে।
মূলধন ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির কাছ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে কীভাবে অর্থ আদায় করা যায় তার পরিকল্পনা জানাতে বলা হয়েছে। ব্যাংকগুলো শর্ত পূরণে যৌক্তিক কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার পরই মূলধন ঘাটতি মেটানোর জন্য চার ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে বড় অঙ্কের ঘাটতিতে রয়েছে। এই মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও রাখা হয়েছে। তবে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণের অর্থ বরাদ্দের আগে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, ওই কর্মপরিকল্পনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রতিপালন, ব্যাংকগুলোর অটোমেশন, শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির কাছ থেকে নগদ আদায়, স্ট্রেস টেস্টিং, তারল্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট গঠনসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের কোর রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন পরিপালন, পেন্ডিং মামলা ও অডিট আপত্তি নিষ্পত্তিকরণ, এনপিএলের (নন-পারফর্মিং লোন) পরিমাণ কমানো, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ঋণ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা যথাযথভাবে পরিপালন এবং ডকুমেন্টেশন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন বা সম্ভাব্য করণীয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্যসহ জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। ব্যাংকগুলো এক বছর ধরে মূলধন ঘাটতিতে ভুগছে। বিশেষ করে সোনালী ব্যাংকের সংকট বেশি। মূলধন ঘাটতির কারণে তাদের দৈনন্দিন কাজেও সমস্যা হচ্ছে। বাজেটের আগে গত মে মাসে মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য এই ব্যাংকগুলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে টাকা চেয়েছিল। এ জন্য চলতি বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এখন এই টাকা যাতে সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করা হয় তার জন্য কিছু করণীয় বা শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) চার ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মেটানোর জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত জুন শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি ছিল ৯ হাজার ৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সোনালী ৪ হাজার ৫৪৪ কোটি, জনতা ১ হাজার ৬২৩ কোটি, অগ্রণী ২ হাজার ৪৮১ কোটি ও রূপালী ব্যাংকের ৪১৪ কোটি টাকা। এ সময়ে ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণও বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে।
.২০১৩ সালের জুন শেষে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা, যা ওই ব্যাংকের মোট ঋণের ৩৮ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। জনতা ব্যাংকে ৪ হাজার ২১৪ কোটি টাকা, যা ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। অগ্রণী ব্যাংকে ৪ হাজার ৬০৬ কোটি, যা ২২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। রূপালী ব্যাংকে ২ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা, যা ওই ব্যাংকের মোট ঋণের ২৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
হলমার্কসহ আরও তিনটি প্রতিষ্ঠান সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে জালিয়াতি করে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছে। অন্যদিকে, বিসমিল্লাহ গ্রুপ জনতা ব্যাংক থেকে লোপাট করেছে এক হাজার তিনশ' কোটি টাকা। এসব কারণে রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলোর এই মূলধন ঘাটতি।
http://www.samakal.net/2013/10/29/16634
Golden Bangladesh is a point of access to information.We present information from diverse sources in a unified way. It is the leading web portal, e-Directory and business guide in Bangladesh.
Leave a Comment