আবার ৪ হাজারের নিচে ডিএসই সূচক

আবার ৪ হাজারের নিচে ডিএসই সূচক

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক


প্রায় দেড় মাস পর আবার চার হাজার পয়েন্টের নিচে নেমেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক। গতকাল দিনশেষে ডিএসই সূচক স্থির হয় তিন হাজার ৯৬৮ পয়েন্টে। এর আগে সর্বশেষ ১৪ আগস্ট সূচক এ পর্যায়ে অবস্থান করছিল। পরে তা সর্বোচ্চ চার হাজার ১৬৩ পয়েন্টে ওঠার পর আবার নেতিবাচক প্রবণতার শিকার হয় বাজার। সেই থেকে গত বেশ কিছুদিন সূচকের বড় ধরনের ওঠানামা ছাড়া অনেকটা স্থবির অবস্থায় পার করছে পুঁজিবাজারগুলো। গতকাল সপ্তাহের শুরুতেই নেতিবাচক প্রবণতার শিকার হয় বাজারগুলো। ঢাকা শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক ৪৪ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ১৫ দশমিক ৫২ পয়েন্ট কমে ডিএসই-৩০ সূচক। অন্য দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক ১৭১ দশমিক ২৯ ও সিএসসিএক্স সূচকের ১০৭ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট অবনতি ঘটে। এ দিকে গতকাল মিউচুয়াল ফান্ডের প্রায় সবগুলোই মূল্যবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসে। মাঝখানে বেশ কিছু দিন টানা দরপতনের পর গতকাল আবার ঘুরে দাঁড়াল ফান্ডগুলো। তালিকাভুক্ত ৪৩টি ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয় ৪১টির যার মধ্যে ৩৪টিরই মূল্যবৃদ্ধি ঘটে গতকাল। এ ছাড়া দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকার ৯টিই ছিল মিউচুয়াল ফান্ড। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন বেশ কিছু দিন টানা পতনের কারণে মূল্যস্তর ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় এ খাতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ হঠাৎ করে বেড়ে যায়। ঘটে মূল্যবৃদ্ধি। অন্য দিকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক ডিএসই কর্তৃপক্ষকে ১২টি কোম্পানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি অনুসন্ধান করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানানোর সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে গতকালের বাজারে। তালিকায় থাকা ১২টি কোম্পানির মধ্যে ১০টিই গতকাল বড় ধরনের দরপতনের শিকার হয়। এদের বেশির ভাগই দিনের সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে লেনদেন হয়েছে গতকাল। তবে লেনদেন শুরুর পর থেকে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ডিএসই কর্তৃপক্ষ গতকাল আবারো রহিমা ফুডের লেনদেন স্থগিত করে। তবে এরি মধ্যে আট দশমিক ৫৬ শতাংশ মূল্য বেড়ে গেছে কোম্পানিটির শেয়ারের। অন্য কোম্পানি মডার্ন ডায়িং আগের দিনের দরই ধরে রাখে। গতকাল বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজগুলোতে গিয়ে দেখা যায় বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশই বিএসইসির নেয়া সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট। তাদের ভাষায় দেরিতে হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা একটি পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে তারা মনে করেন, অতীতেও এ ধরনের অনেক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল যার কোনো ফল বাজার পায়নি। এবার যাতে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হয় এমন দাবি তাদের। কয়েকজন বিনিয়োগকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বারবার এ ধরনের তদন্ত কমিটি করা হলেও তার শেষটা জানতে পারেন না তারা। আর তাই এ ধরনের পদক্ষেপে সাময়িক এদের তৎপরতা কমলেও সুযোগ বুঝে আবার এ মহলটি সক্রিয় হয়। এর আগেও বিএসইসি তাল্লু স্পিনিং, মিথুন নিটিং, চিটাগাং ভেজিটেবল ও জেএমআই সিরিঞ্জের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করলেও পরে এর কোনো রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ক’দিন নীরব থেকে আবার এ গ্রুপটিই নতুন করে কারসাজি শুরু করে। তাদের অভিযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও পুঁজিবাজার কর্তৃপক্ষের যোগসাজশ ছাড়া এটি সম্ভব নয়। গতকাল দুই বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশির ভাগই দরপতনের শিকার হয়। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ২৯১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৮১টির মূল্যবৃদ্ধি পেলেও দর হারায় ১৯৫টি। ১৫টি এ বাজারে দর হারায়। অন্য দিকে চট্টগ্রামে লেনদেন হওয়া ২১৪টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৫২টির দর বাড়লেও দর হারায় ১৫২টি। দর অপরিবর্তিত থাকে ১০টির। লেনদেন হওয়া খাতগুলোর মধ্যে কমপক্ষে চারটি খাতের শত ভাগ কোম্পানি দরপতনের শিকার হয় গতকাল। এগুলো হলো সিমেন্ট, সিরামিকস, জ্বালানি ও বিবিধ। বাকি খাতগুলোর অবস্থা কিছুটা ভালো হলেও এ গুলোতেও মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানি ছিল হাতে গোনা কয়েকটি। ব্যতিক্রম ছিল মিউচুয়াল ফান্ড। লেনদেন হওয়া ৪১টি ফান্ডের মধ্যে ৩৪টিই উঠে আসে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায়। ডিএসইর মোট মূল্যবৃদ্ধির অর্ধেকটাই ছিল এ খাতের। লভ্যাংশ ঘোষণার রেকর্ড পরবর্তী লেনদেনে গতকাল ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ খাতের কোম্পানি বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস। ২৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় ১১ লাখ ৩১ হাজার শেয়ার বেচাকেনা হয় কোম্পানিটির। ১২ কোটি ৮৩ রাখ টাকা লেনদেন করে সিএমসি কামাল দ্বিতীয় স্থানটি ধরে রাখে। ডিএসইর শীর্ষ লেনদেনকারী দশ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল আরগন ডেনিমস, জেএমআই সিরিঞ্জ, কনটিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, রহিমা ফুড, তাল্লু স্পিনিং ও ফার্স্ট প্রাইম মিউচুয়াল ফান্ড। মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল ফার্স্ট প্রাইম মিউচুয়াল ফান্ড। ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ দাম বাড়ে এ ফান্ডটির। এ ছাড়া পিএফআই ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৯.৬১, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৯.৫২, রিলায়েন্স ফার্স্ট ৮.৭৫, রহিমা ফুড ৮.৫৬ ও এনসিসিবি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৮.১৩ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। অন্য দিকে দিনের সর্বোচ্চ দর হারায় বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস। রেকর্ড পরবর্তী মূল্য সমন্বয়ে ১০ দশমিক ২২ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। এ ছাড়া দেশ গার্মেন্ট ৯.৯৭, বিডি অটোকার ৯.৯০, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক ৯.৮৮, ইনটেক অনলাইন ৯.৭৬, আনোয়ার গ্যালভেনাইজিং ৯.৬৪, জুট স্পিনার্স ৯.৫৭, হাক্কানি পেপার অ্যান্ড পাল্প ৯.৫৫, আলহাজ টেক্সটাইল ৯.৪৩ ও লিগেসী ফুটওয়্যার ৯.৩২ শতাংশ দর হারায়।
 

dailynayadiganta: রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩


About Author

Profile Picture

Golden Bangladesh

Golden Bangladesh is a point of access to information.We present information from diverse sources in a unified way. It is the leading web portal, e-Directory and business guide in Bangladesh.

Leave a Comment